ডেক্স রিপোর্ট : দেশের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য দুই হাজার ৬৫৭টি সেল আছে। আর কনডেম সেলে দুই হাজার ১৬২ জন বন্দি আছেন। কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বিচারিক ও প্রশাসনিক ফোরামের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে দণ্ডিত আসামিকে কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়ে কনডেম সেলে থাকা তিনজন আসামি ২০২১ সালে একটি রিট করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। একই সঙ্গে কনডেম সেলে থাকা আসামির সংখ্যা ও তাদের সুযোগ-সুবিধার তথ্যাদি জানিয়ে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ওই প্রতিবেদন জমা পড়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কিছু তথ্য : ‘কারাগারসমূহে অবস্থানরত মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দিদের তথ্য’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বিভাগভিত্তিক সারসংক্ষেপ, কারাগারভিত্তিক পরিসংখ্যান ও কারাবিধি অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দিদের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার দিকগুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য (গত বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত) অনুযায়ী, সেলের সংখ্যা মোট দুই হাজার ৬৫৭টি। এর মধ্যে পুরুষের জন্য দুই হাজার ৫১২টি, নারীর জন্য ১৪৫টি। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মোট বন্দি দুই হাজার ১৬২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৯৯ ও নারী ৬৩ জন। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক সেল ঢাকায় ও সর্বনিম্নসংখ্যক সেল রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। ঢাকা বিভাগে থাকা এক হাজার ৭৮৪টি সেলের বিপরীতে এক হাজার ২৯২ জন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৪টি সেলের বিপরীতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পাঁচজন।
কারাগারভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বোচ্চ সেল রয়েছে হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে এক হাজার সেলের বিপরীতে বন্দি আছেন ৯৫১ জন। অবশ্য টাঙ্গাইল, গাজীপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নীলফামারী, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, পটুয়াখালী, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলা কারাগারে সেল থাকলেও মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দি নেই। ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দির সেল নেই।
কারাবিধি অনুসারে নির্ধারিত ডায়েট স্কেল অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দিদের খাবার প্রদানের কথা উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দিদের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে নির্ধারিত পোশাক প্রদান, নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান, কারাবিধি অনুসারে আত্মীয়স্বজন/আইনজীবীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা, বইপুস্তক ও পত্রপত্রিকা পড়ার সুযোগ, ধূমপায়ীদের বিড়ি/সিগারেট প্রদান, সেলসংলগ্ন আঙিনায় গোসল ও শরীরচর্চার সুযোগ প্রদানসহ ১০টি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে।
