খালেদার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ : রিটের শুনানি মুলতবি

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তার স্বজনরা। গতকাল বিকালে  ছয় স্বজন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা তারা কারাগারে ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানান নিয়মিত সাক্ষাতের অংশ হিসেবেই তারা সাক্ষাৎ করেছেন। বিকাল ৪টায় খালেদা জিয়াকে দেখতে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারের ভেতরে যান স্বজনরা। সাক্ষাৎ শেষে বিকাল পৌনে ৫টায় তারা বের হন। এর আগে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার স্বজনেরা কারাফটকে যান। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকারীদের মধ্যে ছিলেন খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, ভাই শামীম এস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ভাতিজা অভিক এস্কান্দার, ভাগিনা ডা. মো. মামুন ও তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বড়বোন শাহীনা জামান।

এদিকে খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ নিয়ে গতকাল শুনানি হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও কায়সার কামাল। গতকাল শুনানিতে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি। তিনি গুরুতর অসুস্থ এটিও স্পষ্ট। অসুস্থ খালেদা জিয়া খুব বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছেন। তিনি চলাফেরা করতে পারছেন না। কিন্তু তার চিকিৎসার ব্যাপারে অবহেলা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে  (বিএসএমএমইউ) খালেদার চিকিৎসার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে আদালতের কাছে আর্জি জানান তিনি।

এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরাও চিকিৎসকদের একটি তালিকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এটি কোনো গুরুত্ব পায়নি। যদি আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকে যে ওই জায়গায় (ইউনাইটেড হাসপাতাল) ভালো চিকিৎসা পাবো তাহলে তাতে বাধা কোথায়? খালেদা জিয়ার অন্য আইনজীবী জয়নুল আবেদীন শুনানিতে বলেন, কোনো গুরুতর রোগীর ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসা পাওয়া তার অধিকার। এছাড়া তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা কোথায় ভালো হবে এটিও তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিএসএমএমইউতেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর আগেও বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। তাহলে এখন তার চিকিৎসা সেখানে করতে কোনো সমস্যা নেই।

গতকাল শুনানির একপর্যায়ে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী ও বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম খুনসুটিতে মেতে ওঠেন। এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, উনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে এখানে (আদালতে) বসে আছেন। কিন্তু তার ছবিযুক্ত বড় বড় পোস্টার বিভিন্ন জায়গায় থাকে। একপর্যায়ে আগামী নির্বাচন উপলক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের শুভেচ্ছা ও ছবি  সংবলিত পোস্টার আদালতেও দেখান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ সময় আদালতে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত। রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ই সেপ্টেম্বর রিট আবেদন করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা জানান, রিটে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত ১৫ই সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। পরদিন ১৬ই সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের  (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুনের হাতে ওই স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিল করে মেডিকেল বোর্ড। একই সঙ্গে বিশেষায়িত হিসেবে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সুপারিশ করে মেডিকেল বোর্ড।