খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ কার্যতালিকার ১ নম্বরে

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদেশের জন্য মামলাটি আগামীকাল  রোববার হাইকোর্টের কার্যতালিকার এক নম্বরে রাখা হয়েছে।

ওই দিন খালেদার জামিনের বিষয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিনের বিষয়ে আদেশ দেবেন।

গত বৃহস্পতিবার আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য রোববার দিন ধার্য করেছিলেন। বিচারিক আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আগামীকাল রোববার এ মামলার যাবতীয় নথি বিচারিক আদালত থেকে হাইকোর্টে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নথি পৌঁছালে আগামীকাল খালেদার জামিন বিষয়ে আদেশ হতে পারে।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ করে হাইকোর্ট বলেছিলেন, এই মামলার নথি বিচারিক আদালত থেকে আসার পর তার জামিন বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে। আর যেহেতু মামলাটি কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেহেতু এটির ওপর সকালের দিকেই শুনানি হতে পারে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে খালেদা জিয়ার শরীরিক অবস্থা, বয়স ও সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সব আসামির দণ্ডের পাশাপাশি ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রের অনুকূলে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের এই রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়। পরের দিন খালেদার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন। মূল রায়সহ এক হাজার ২২৩ পৃষ্ঠার আপিল আবেদনে ৪৪টি যুক্তি দেখিয়ে খালেদার খালাস চাওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে খালেদা জিয়ার পক্ষে একটি জামিনের আবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ওই দিন আপিলের বিষয়ে শুনানি হয়। সেদিন আদালত আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে নথি তলব করেন। এছাড়া অর্থদণ্ডের আদেশ স্থগিত করেন। তবে জামিন আবেদনের বিষয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য ধার্য করেন। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। সেদিন শুনানি শেষ করে নথি হাইকোর্টে পৌঁছানোর পর আদেশ দেবেন বলে জানান আদালত।