বিশেষ সংবাদদাতা : লন্ডন ফ্লাইটে ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের’ নামে ১৯টি স্ট্রীকারযুক্ত ল্যাগেজ পাঠানোর ঘটনায় নিরাপত্তা সুপার সালেহা আকতার লাভলীসহ ৮ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এখনও আলোরমুখ দেখেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিজি লন্ডন ফ্লাইটে ‘জিয়া বিমানবন্দরের’ নামে ১৯টি ল্যাগেজে স্ট্রীকার লাগায় নিরাপত্তা সুপার খলিলুর রহমান। কিন্ত রহস্যজনক কারণে তাকে সাসপেন্ড করা হয়নি। ওইদিন ছুটিতে থাকা নিরাপত্তা সুপার সালেহা আকতার লাভলীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর নেপথ্য কারণ হিসেবে সূত্রমতে, লন্ডন ফ্লাইটে নিরাপত্তা স্ট্রীকার লাগানো সিএএবি কর্তৃপক্ষ বন্ধ করলেও নিরাপত্তা সুপার সালেহা আকতার লাভলী তা বন্ধ করেননি। দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন ফ্লাইটে নিরাপত্তা সুপার লাভলী ল্যাগেজে নিরাপত্তা স্ট্রীকার লাগিয়ে আসছিলেন। কিন্ত তাকে জবাবদিহির আওতায় এ ঘটনা ঘটার আগে আনা হয়নি। ফলে লাভলী অনেকটা ‘ডেমকেয়ার’ভাবে নিজের মতো করে লন্ডন ফ্লাইটে ল্যাগেজে নিরাপত্তা স্ট্রীকার লাগানো অব্যাহত রাখে।
সূত্র জানায়, ঘটনার দিন লাভলী ছিল ছুটিতে। কিন্ত ঘটনার দিন তার স্থলে ডিউটিতে থাকা নিরাপত্তা সুপার খলিলুর রহমান কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতায় জানায়, আমাকে লাভলী নিরাপত্তা স্ট্রীকার লাগাতে বলে। নিরাপত্তা সুপার খলিল কিন্ত ‘জিয়া বিমানবন্দরের’ নামে ল্যাগেজে নিরাপত্তা স্ট্রীকার লাগাতে অস্বীকৃতি বা এর প্রতিবাদ করেননি। তাহলে তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে বসে ‘জিয়া বিমানবন্দরের’ নামে নিরাপত্তা স্ট্রীকার ল্যাগেজে লাগাতেন না। কিন্ত একই রকম অপরাধ করলেও নিরাপত্তা সুপার খলিলকে সাসপেন্ড করা হয়নি। বিষয়টি রহস্যজনক বলে অনেকে মনে করেন।
সূত্র জানায়, নিরাপত্তা সুপার সালেহা আকতার লাভলী দীর্ঘদিন যাবত লন্ডন ফ্লাইটে ল্যাগেজে নিরাপত্তা স্ট্রীকার লাগিয়ে আসছিলেন-যা সিএএবি কর্তৃৃপক্ষ ধারনকৃত ভিডিও ফুটেজে প্রত্যক্ষ করেছেন । তবে তা ‘জিয়া বিমানবন্দরের নামে না শাহজালালের’ নামেÑতা সিএএবি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পারেনি। আর তাই ঘটনার দিন লাভলী ছুটিতে থাকার পরও তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ছুটিতে থেকে নিরাপত্তা সুপার খলিলকে ফাসিয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা সুপার লাভলী-এমন কথা বলাবলি হচ্ছে। কিন্ত সিএএবি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা সুপার খলিল অপরাধ করলেও তাকে ‘সেইভ’ করেছে।
এ ব্যাপারে পরিচালক নিরাপত্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। কিন্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনও আলোরমুখ দেখেনি।
নিরাপত্তা সুপার সালেহা আকতার লাভলী দীর্ঘদিন যাবত শাহজালাল ও এর সংলগ্নিতে কর্মরত থাকার সুবাধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে। হাকিম নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে জনশ্রুতি চাউর হয়ে গেছে।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৩ হাজার পিচ ইয়াবাসহ শাহজাললে ডিউটিরত অবস্থায় সিএএবির নিরাপত্তা কর্মী বেলায়েত হোসেন সেলিম ধরা পড়ে। তার দুই সহযোগি হিরন ও তুহিন পালিয়ে যায়। আজ রোববার তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
