শাহজালালে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত নিরাপত্তা কর্মী বেলায়েতকে আজ ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। : তুহিন-হিরন পলাতক, ৩ জনই সাসপেন্ড : ইয়াবার গন্তব্য ছিল দুবাই

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : শাহজালালে ১৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা  বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী বেলায়েত হোসেন সেলিমকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তার অপর দুই সহযোগী হিরণ ও সাখাওয়াত হোসেন তুহিন ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাদের তিনজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর প্রশাসন। ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে বেলায়েতকে ৪ নভেম্বর  রোববার  আদালতে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটায় শাহজালাল বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ ১১-এর সামনে সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করছিল বেলায়েত হোসেন। তার হাতে একটি ব্যাগ দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত এভসেক সদস্যদের। তারা জিজ্ঞাসা করেন, ব্যাগে কি আছে। বেলায়েত উত্তর দেন- খাবার। এতে সন্দেহ গাঢ় হলে এভসেক কর্মকর্তা এএসপি নাজলী ও ইশতিয়াক তাকে চ্যালেঞ্জ করে ব্যাগ তল্লাশি করেন। তখন ব্যাগে পাওয়া যায় ১৩ হাজার পিস ইয়াবা। যার মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের এভসেক পরিচালক উইং কমান্ডার নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, আটকের পর বেলায়েত স্বীকারোক্তি দিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। বিমানবন্দরের অপর দুই নিরাপত্তাকর্মী হিরণ ও তুহিন তাকে শুধু ব্যাগটা একজন যাত্রীর কাছে হস্তান্তরের দায়িত্ব দিয়েছিল। বিনিময়ে বেলায়েতকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এভসেক সদস্যরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে অপর দুই সহযোগী দৌড়ে পালায়। রাতেই বেলায়েতকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিমানবন্দরের কর্মকর্তা লায়েকুজ্জামানের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রাতে ছিল এমিরেটসের একটি ফ্লাইট। ইয়াবার এই চালানের গন্তব্য ছিল দুবাই। সড়ক পথে দেশের অভ্যন্তরে ইয়াবার চালান সরবরাহ বা ব্যবসা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখন আকাশ পথে পাঠানো হচ্ছে বহির্বিশ্বে। এর আগেও বিমানবন্দরে ধরা পড়েছে এ ধরনের আরও দুটো চালান। এতে নতুন করে উদ্বিগ্ন হতে হচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। গত মাসেও অনুরূপ একটি গাঁজার চালান আটক করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি চালানের তদন্ত রিপোর্টে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মী ও মাদকদ্রব্য অধিদফতরকে সতর্ক করা হয়।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত রুট বদল করছে। দেশের অভ্যন্তরে এখন চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই দিশেহারা হয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। মূলত ওদের কাছে হয়তো মনে হতে পারে ঠিক এই মুহূর্তে দেশের চেয়ে বিদেশের বাজার ধরতে পারলেই ঝুঁকি ও বাণিজ্য দুই দিক থেকেই বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। সেজন্য একটা দুটো চালান এখন বিমানবন্দরগুলোতে ধরা পড়ছে।

গ্রেফকৃত বেলায়েত, হিরন , সাখাওয়াত হোসেন তুহিনসহ প্রায় শতাধিক সিভিল এভিয়েশন কর্মী যারা দীর্ঘদিন যাবত শাহজালালে কর্মরত তারা মানব , মাদক , হুন্ডি , সোনা পাচারে জড়িত বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে এবং তা খতিয়ে দেখছে।