নিউজ ডেক্স : ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ সভাপতি এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন টানা ২৯ বছর। ফলে দীর্ঘ সময়ে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদে নতুন নেতৃত্ব দেখা যায়নি। কার্যনির্বাহী কমিটিতেও নতুন মুখের আগমন তেমন ঘটেনি। মহানগর ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগ থেকে বিদায় নেওয়া নেতারা আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে কোথাও নাম লেখানোর সুযোগ পাননি। তরুণ ভোটারদের সঙ্গে মহানগর নেতাদের বিশাল জেনারেশন গ্যাপ সৃষ্টি হয়। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনে এই গ্যাপ কিছু কমিয়ে আনেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামী ৩০ নভেম্বর একই দিনে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, এই সম্মেলনে জেনারেশন গ্যাপ আরো কমিয়ে আনতে নেতৃত্ব বাছাই করছেন শেখ হাসিনা।
ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ বেশ আগেই মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। মহানগর দক্ষিণে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও শাহে আলম মুরাদকে সাধারণ নির্বাচিত করা হয়। উত্তরে এ কে এম রহমতউল্লাহ এমপিকে সভাপতি এবং সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই সম্মেলনেই ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক একাধিক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ মহানগর কমিটিতে ঠাই পান। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন রুহুল। মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন প্রচার সম্পাদক, দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিরাজ সহ-দপ্তর সম্পাদক, দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ শুভ্র সহ-প্রচার সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগে।
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম এ মান্নান কচি মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন। এছাড়া মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আর কোনো নেতা উত্তর আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটিতে ঠাই পাননি।
আগামী ৩০ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছেন এমনই আভাস দিয়েছেন কেউ কেউ। দক্ষিণের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, নুরুল আমিন রুহুল এমপি, সাধারণ সম্পাদক পদে শাহে আলম মুরাদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক ডা. দিলীপ রায়, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, আকতার হোসেন, ওমর বিন আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাদেক খান, কাদের খান, এম এ মান্নান কচি, হাবিব হাসান ও মোশারফ হোসেন প্রমুখ। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং সাঈদ খোকন নেতৃত্বে আনা হতে পারে। আমাদের সময়ডটকম
