সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য (সার্জেন্ট) মো. শামীম হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। স্ত্রীর পরকীয়ার পথ প্রশস্ত করতে এবং পাওনাদারদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিহতের স্ত্রী এই হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাসকাইল গোইজারপাড়ার সুজন, আবদুর রহিম এবং নিহতের স্ত্রী রাজিয়া বেগম। তাদের মধ্যে সুজন ও আবদুর রহিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তারা আদালতকে জানিয়েছেন, নিহতের স্ত্রী রাজিয়া বেগম এই হত্যার পরিকল্পনা করেছেন। রাজিয়ার নির্দেশে তারা দুজন সরাসরি শামীমকে হত্যা করেন।
টাঙ্গাইল জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ জানান, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গভীরভাবে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অশোক কুমার সিংহ জানান, ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট শামীম নিজ বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ২৪ আগস্ট গোপালপুরের দক্ষিণে বৈরান নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের স্ত্রী রাজিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটি থানা পুলিশ তদন্ত করে। একপর্যায়ে এই মামলা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশ গত শুক্রবার ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে অভিযান চালিয়ে সুজন ও আবদুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি পুলিশের ওসি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, নিহত শামীমের স্ত্রী রাজিয়া তার পরকীয়ার পথ প্রশস্ত করতে এবং পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট শামীমকে কৌশলে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে গোপালপুরের সন্ধুর সেতুর কাছে জুয়া খেলার স্থানে আনেন এবং পরিত্যক্ত একটি ঘরের মধ্যে হাত-পা বেঁধে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পরে লাশ নদীতে ফেলে দেন।
সুজন ও আবদুর রহিম সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. শামীমকে হত্যার কথা স্বীকার করে শনিবার টাঙ্গাইলের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে নিহতের স্ত্রী রাজিয়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে আনা হয়। রবিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
