ঢাকা কাস্টমস হাউজে শৃংখলা ফিরে এসেছে, রাজস্ব বাড়ছে, জুন ক্লোজিং-এ টার্গেট ফুলফিল হবার পাইপলাইনে

বিশেষ সংবাদদাতা : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ঢাকা কাস্টমস হাউজে শৃংখলা ফিরে এসেছে, রাজস্ব ডে বাই ডে বাড়ছে, আগামি জুন ক্লোজিং-এ রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পাইপলাইনে ঢুকে গেছে। আর এ সবই সম্ভব হচ্ছে হাউজ কমিশনারের সঠিক ও সময়োচিত গাইডলাইন ও দিকনির্দেশনায়। তিনি হাউজের অধীনে বিভিন্ন সার্কেলে রাজস্ব আদায়ে কড়া হুশিয়ারি দেয়ায় এটা সম্ভব হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন। এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখায় রাজস্ব আদায়ে কড়া দাপ্তরিক চিঠি এবং কর্মকর্তাদের রদবদল করে তিনি অধিকতর যোগ্য ও ননটেকার কর্মকর্তাদের যথাযথ স্থানে পোস্টিং করায় রাজস্ব আদায় ‘সিংহগতিতে’ বাড়ছে। এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখায় যে পণ্য ১৩০ টাকা কেজিতে ছাড়করণ করা হতো তা বর্তমান এসটির নেতৃত্বে ৭০০ টাকা কেজিতে ছাড়করণ করা হচ্ছে। এতে এয়ারফ্রেইটে রাজস্ব প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটা সম্ভব হচ্ছে আন্তর্জাতিক কাস্টমস সম্মেলনে বাংলাদেশে একমাত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কাস্টমস অফিসার, ননটেকার খ্যাত এসটি শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বের ফসল হিসাবে। আর হাউজ কমিশনার এ রকম একজন সৎ কর্মকর্তাকে বেছে নিয়ে এসটির চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছেন।
কুরিয়ার শুল্কায়নেও এসির রদবদলে রাজস্ব বাড়ছে। আরো বাড়বে যদি চিহিৃত ‘এক্সগ্রুপ’ সদস্যদের লাগাম টেনে ধরা যায়। অবশ্য লাগামে টানা দেয়ায় কুরিয়ারে এক্সগ্রুপ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার চিন্তাভাবনা করছেন। একজন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা, ভাই এভাবে আর ব্যবসা করা যাবেনা, চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এসি যেভাবে পণ্য ছাড়ে তাতে ব্যবসা আর করা যাবে না। কুরিয়ারে চিহিৃত এক্সগ্রুপ সদস্য ওরা হতেগোনা ৭জন বা সেভেন সিন্ডিকেড সদস্য’র ল্যাগেজ শতভাগ এক্সামিন/ এসেসমেন্ট করলে কুরিয়ারে আগের বদনাম থেকে সুনাম বয়ে আনবে এবং সরকার পাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। আর খাচাওয়ালারা যাতে সিএন্ডএফগিরি করতে না পারে সেদিকে এসিকে খেয়াল রাখতে হবে। দিনে প্রায় হাজার বিল অব এন্ট্রিতে কিভাবে পেপার ছাড়করণ করা হচ্ছে সেদিকে এসিকে কড়া দৃষ্টি দিতে হবে, চোরাগ্রুপকে কুরিয়ার থেকে বিতাড়িত করতে হবে। তাতেই কুরিয়াওে শতভাগ শৃংখলা ফিরে আসবে। বর্তমান ননটেকার এসি কি তা পারবেন? পারলে ভাল না পারলে বদনাম হবে।তার অধীনন্ত কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিশেষ করে ‘এসটি; এবং ডেলিভারি পয়েন্টে যারা ডিউটি করেন তাদের দিকে কড়া নজরদারি করতে হবে। এসটির রুমে যাতে ঘুষের হাট না বসে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
বিমানবন্দরে ল্যাগেজে যাতে স্বর্ন না যায় তা বন্ধ করতে হবে। অবশ্য লকডাউনের মধ্যে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্মকর্তারা প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ন জব্দ করেছে।
হাউজে কর্মরত বিভিন্ন গ্রুপ কর্তাদের দিকে বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে। এসি জাকারিয়া যাতে কমিশনারের দোহাই দিতে না পারেন – সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এসি দীনা যেন পুন: এক ব্যবসায়ির মতো অন্য কোন’র ২৫ লাখ ট্যাক্স কমিয়ে দেয়ার আর সাহস না করে- সে বিষয়টিও নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে। ওই ঘটনায় ২ কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। বিষয়টি এবিআর তদন্ত করছিল, বর্তমানে তদন্ত রিপোর্ট আলোরমুখ দেখেনি বলে জানা যায়।ক্রমশ–