ঢাকা কাস্টমস হাউজ : এডিসির বদলি : কুরিয়ারে ১৭ নিষিদ্ধ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ির মধ্যে মামা রাইদুলের ভয়াবহ রামরাজত্ব : ডিসি রেবেকার নামে ঘুষ বাণিজ্য : এআরও সালেহার ঘুষ আদায়

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা কাস্টমস হাউজের কুরিয়ার শুল্কায়নে এসির বদলি এবং নতুন এসটির আগমনে কুরিয়ারে ১৭ নিষিদ্ধ ব্যবসায়ি আবার রামরাজত্ব করে বেড়াচ্ছে। এরমধ্যে মামা রাইদুল প্রতিদিন প্রায় ২০০ খাচার পণ্য দুইনম্বরিওয়েতে কাস্টমস ম্যানেজে গেট কন্ট্রাক্টে খালাস করে নিয়ে যাচ্ছে বলে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। প্রতিদিন উত্তরার মামা রাইদুলের অফিসে বস্তা ভর্তি টাকা নাকি লেনদেন হয়ে থাকে বলে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। তার ভাই আমিনুল তার বাহিনী সিন্ডিকেড এসব টাকা বিতরণ করছে। রাইদুল থাকে পর্দার অন্তরালে আর ভাই আমিনুল থাকে প্রকাশ্যে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাইদুলকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করার পরও সংশোধন হয়নি এতোটুকুও।

ডি-৯-এর রাজস্ব কর্মকর্তা খবির উদ্দিন ভুইয়া কুরিয়ারের কয়েকজন ব্যবসায়ির হাতে গোপন পাচওয়ার্ড তুলে দেবার সুযোগে তারা ইচ্ছামত পেপারস গ্রীন করে অনেক সময় ট্যাক্স ফাকি দিয়ে, অনেক সময় নামকাওয়াস্তে ট্যাক্স দিয়ে , অনেক সময় গেটকে ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার পণ্য নিয়ে যাচ্ছে। এসি কুরিয়ারে শুদ্ধি অভিযানের দুইনম্বর কারবার বন্ধ হলেও এবং ঢিলেঢালাভাব – সব মিলে আবার সংঘবদ্ধ ব্যবসায়িরা- যাদেরকে এডিসি কুরিয়ারে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টাংগিয়ে দেন- তারাই আবার রামরাজত্ব করছে।
এডিসি মাহবুবুর রহমানের বদলির পর কুরিয়ারে রামরাজত্ব ব্যাপকহাওে বেড়ে গেছে।
যে পিচ্চি আলামিনকে পন্য পাচারের অভিযোগে তার আশকোনার ঢেরায় অভিযান চালিয়ে এডিসি কয়েক কোটি টাকার পণ্য জব্দ করেন- সেই আলামিন এখন কুরিয়ার দিয়ে পাক পণ্য টানছে। ্ইতিমধ্যেই আলামিন বাহিনী গড়ে তুলেছে, এই পিচ্চি আলামিন দুই নম্বরি ব্যবসা করে ইতিমধ্যেই আংগুল ফুলে কলা , তার ফ্লাট, গাড়ি ,কোন কিছুই অভাব নেই।
নতুন খাচার মালিক নাজির এবং একজন নব্য নেতাকেও রাজস্ব কর্মকর্তা গ্রুপ-৯ পাচওয়ার্ড দিয়ে ব্যবসার সুযোগ দিচ্ছে বলে সাধারণ ব্যবসায়িরা জানান।
পাচওয়ার্ড কেলেংকারির বিষয়টি তদন্তে প্রমানিত হবার পর এবং সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টদের লাখ লাখ টাকা জরিমানা করার পরও তা কিভাবে বার বার ব্যবসায়িদের হাতে তুলে দেবার কথা ওঠছে তা এনবিআরের সিআইসি সেলের তদন্ত প্রয়োজন বলে সাধারণ ব্যবসায়িরা মনে করেন। আর রাজস্ব কর্মকর্তার সেই চেয়ারেই বহাল। তাহলে নতুন কমিশনার কি এ ব্যাপারে নজরদারি করছেন না?
এআরও সালেহার ঘুষ বাণিজ্য: গ্রুপ-৪/৮-এ কর্মরত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা সালেহার ফাইল আটকিয়ে ঘুষ বাণিজ্য জমজমাট। সিএন্ডএফ ব্যবসায়িরা জানান, তার চাহিদা মতো ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে ঢিলে করে থাকেন, ফলে ওষধ এবং মেডিকেল এক্সসরিজ খালাস করতে সময় লেগে যায়। এটা মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমুকিস্বরুপ।
ডিসি রেবেকার নামে ঘুষ: হাউজে কর্মরত ডিসি রেবেকা সুলতানার নামে তার অফিস স্টাফ সিপাই ফয়সল এবং বহিরাগত সিদ্দিক প্রতিটি পণ্য খালাসের ফাইল ভিতরে প্রবেশ করিয়ে হাজার হাজার টাকা ব্যবসায়িদের থেকে হাতয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ডিসির সততার অন্তরালে এ ঘুষ বাণিজ্য চলছে।