নিউজ ডেক্স : : আগামী ৩০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশনে ঢাকার দুই মহানগর কমিটির নতুন নেতার নাম ঘোষণা করা হবে। নতুন কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের স্থান দেয়া হবে বলে জানা গেছে। জোর গুঞ্জন চলছে ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেয়া নেতারাও হয়তো এবার ভালো পদে স্থান পেতে পারেন।
চলতি মাসেই আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন শেষ হয়েছে। চলমান শুদ্ধি অভিযানের বেশ ভালো প্রভাব পড়তে দেখা গেছে সদ্যঘোষিত কমিটি গুলোতে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণেও ত্যাগী, পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা পদ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হওয়ার ফলে ঝুঁকিতে আছেন বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতা। অন্যদিকে তেমন নেতৃত্ব নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা ও বঞ্চনার শিকার নেতারা বেশ উচ্ছ্বাসিত। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে প্রতিনিয়তই তারা ছুটছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন করছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে।
এর আগে টানা প্রায় ২৯ বছর অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। এর ফলে দীর্ঘ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়নি। কার্যনির্বাহী কমিটিতেও নতুন মুখের কোন আগমন তেমন ঘটেনি। মহানগর ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগ থেকে বিদায় নেওয়া নেতারাও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোথাও নাম লেখানোর সুযোগ পাননি। এর ফলে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয় মহানগর নেতাদের।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এই দূরত্ব কিছু কমিয়ে আনেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সেসময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করে মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, ৪৫টি থানা, ১০০টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ঢাকা মহানগর উত্তরে আওয়ামী লীগের এ কে এম রহমতুল্লাহকে সভাপতি ও সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দক্ষিণের সভাপতি হন আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক হন শাহে আলম মুরাদ।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলনে এই দূরত্ব আরও কমিয়ে আনতে নবীন-প্রবীণদের সমন্বয়ে নিজ হাতে নেতৃত্ব বাছাই করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিতর্কিতদের দলের কোনো পদে রাখা হবে না এ বার্তা এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সবাইকে দিয়ে দিয়েছেন তিনি। দলীয় সভাপতির এই পদক্ষেপ ও কঠোর মনোভাবের কারণে আওয়ামী লীগের অনেকেই বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন আনবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ক্লিন ইমেজের ত্যাগীর নেতাদের। পাশাপাশি দেখা হচ্ছে সাংগঠানিক দক্ষতাও। এছাড়া ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এ রকম দেখে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়েছেন শেখ হাসিনা নিজেই।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন, মহানগরের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী ও আবুল বাশার, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, সাবেক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আজিজের ছেলে মহানগর দক্ষিণের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ওমর বিন আব্দুল আজিজ তামিম। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সহ সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আসলামুল হক আলোচনায় আছেন। সাধারণ সম্পাদকের আলোচনায় আছেন মহানগরের দুই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, হাবিব হাসান। দুইজনই ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও আলোচনায় আছেন উপ-প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক রানা।
এস এম মান্নান কচি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক ছিলেন।
ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান ১৯৮৮ সালে হরিরামপুর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এরপর বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। ঢাকা মহানগর ভাগ হলে তিনি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
