ডেক্স প্রতিবেদন : গাজীপুরের টঙ্গীতে তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি আসতে পারবেন কি-না, এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে তাবলিগের বাংলাদেশ শুরা ও সরকারকে শুরা কানাডা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দেওয়া চিঠি। এসব চিঠিতে মাওলানা সাদকে যেন ইজতেমার আমির ও ফয়সালের (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী) পদ থেকে সরানো না হয়, সে ব্যাপারে সতর্কতা দেওয়া হয়।
রোববার (৭ জানুয়ারি) তাবলিগ জামায়াতের কানাডা শুরার সদস্য আবির রশিদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, টঙ্গী ইজতেমায় নিজামউদ্দিন মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে আমরা জেনেছি।
‘দিল্লির নিজামউদ্দিন মসজিদ থেকে শতবর্ষ আগে তাবলিগ জামাতের এই যাত্রা ও প্রসারের ক্ষেত্রে মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস (রহ.)-এর অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও দোয়ার কথা বিশ্ববাসী জানে।…জীবিত থাকতে প্রতিবছর এই মারকাজের উত্তরসূরি মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ (রহ.), মাওলানা ইনামুল হাসান (রহ.) মাওলানা জুবায়েরুল হাসান (রহ.) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। এখন তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আসছেন মাওলানা মোহাম্মদ সাদ।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, টঙ্গীর ইজতেমা কেবল লাখো মুসল্লির জমায়েতই নয়, এটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবীণ নীতি-নির্ধারকদের মিলনমেলাও, যারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে মানুষের শান্তি ও কল্যাণের স্বার্থে কাজ করেন।
কানাডা শুরার পক্ষ থেকে বলা হয়, পুরো তাবলিগের ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে, টঙ্গীসহ এ ধরনের ইজতেমার দায়িত্বভার নিজামউদ্দিন মারকাজের উত্তরসূরিদের ওপরই থাকছে, যেটা ক’বছর ধরে অত্যন্ত সুচারুভাবে পালন করে আসছেন মাওলানা মোহাম্মদ সাদ।
‘তারই ধারাবাহিকতায় কিছু লোক তার বিরোধিতা করলেও সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহর মতো কানাডার শুরাও কেবল নিজামউদ্দিন মারকাজের উত্তরসূরি হিসেবে মাওলানা সাদকে আমির ও ফয়সাল হিসেবে গ্রহণ করবে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ শুরা যদি অতীতের রেওয়াজ ভেঙে নিজামউদ্দিন মারকাজের উত্তরসূরিকে দায়িত্বভার থেকে সরিয়ে দেয়, তাহলে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে
