ডেক্স রিপোর্ট : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তালিকাও জনপ্রশাসনের হাতে এসেছে।
বাকি অন্যান্য ক্যাডারের কিছু কর্মকর্তা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত রয়েছে। অন্য যে সকল স্থানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া আছে তার তালিকাও দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। গত জানুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থাকা কর্মকর্তারা অপরিহার্য না হলেও আস্থাভাজন হওয়ার কারণে মেয়াদ শেষে তাদের চুক্তিতে রেখে দেওয়া হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের যেন হিড়িক পড়েছিল, ভোটের পর অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োগ পান।
সরকার আবার ক্ষমতায় আসার কৃতজ্ঞতা হিসেবে আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে সরকারের পতন হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার চুক্তি বাতিল হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আইজিপির পদটি সরাসরি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এখন অন্য সব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হবে। এখন যেহেতু কোনো সরকার ফাংশনাল না। অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বর্তমানে প্রশাসনে সচিব/সিনিয়র সচিব বা সমমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন ৮৫ জন। এরমধ্যে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত রয়েছেন ১৯ জন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিতরা হলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) লোকমান হোসেন মিয়া, জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া,
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) আহমেদ মনিরুছ সালেহীন, পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তারসহ আরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা রয়েছেন।
সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র ক্যাডারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত কর্মকর্তা রয়েছেন ৯ জন। এতে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ আরও ৮ কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন চুক্তিতে। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাম্বাসেডর। পাশাপাশি জার্মানি, জাপান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, ইরাক, ভূটানের অ্যাম্বাসেডরগণও বর্তমানে রয়েছেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে। এ ছাড়া অন্যান্য ক্যাডারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সকল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করবে। এ লক্ষ্যে আমরা সকল প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। সরকার চাওয়ামাত্র আমরা এই তালিকা সরবরাহ করব। এর পর সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সকল কাজ সম্পন্ন করব। কবে নাগাদ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে ঠিক বলা যাচ্ছে না।
অপর এক সূত্র জানায়, নতুন সরকারের কিছু কাজ গোছানো প্রয়োজন আছে। গোছগাছ সম্পন্ন হলে একযোগে সকল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হবে। বিশেষ করে, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। নতুন সরকারের এই মুহূর্তে তাকে দরকার। এখনো অনেক কাজ গুছিয়ে নিতে হচ্ছে। যে কারণে ঠিক বলা যাচ্ছে না, কবে এই আদেশ জারি হবে।
