প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে খালেদাকে মুক্ত করার শপথ বিএনপির

ডেক্স রিপোর্ট : দলের ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছে বিএনপি। এ সময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল দল-মতকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে- এই হচ্ছে আজকে বিএনপির শপথ।

১ সেপ্টেম্বর  রবিবার বিকেলে দলের ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষ্যে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার ইনিষ্টিটিউশনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ শপথ নেন। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের নেতা আ স ম আব্দুর রব, গণফোরামরে কার্যনির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসহাকসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সমাবশে উপলক্ষে রবিবার দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা সভাস্থলে এসে জড়ো হতে থাকে। এ সময় ‘মুক্তি, মুক্তি, মুক্তি’ চাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, জেলের তালা ভাঙবো খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবোসহ সরকার বিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকে উপস্থিত দলের নেতারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছিল এমন একটি রাজনৈতিক শূন্যতায় যে শূণ্যতা সৃষ্টি করেছিলো আওয়ামীলীগ। তারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে যে বাকশাল গঠন করেছিলেন, সেদিনই শূণ্যতা তৈরি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পরে বিএনপি কোনোদিন পেছনে ফিরে তাকায়নি। অনেক বিপর্যয় এসেছে, সংকট আঘাত এসেছে কিন্তু সব কিছুতেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দলটি এগিয়ে গেছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে রাজনৈতিক প্রয়োজনে যে দলটি তৈরি হয়েছিল সেই দলটি আবারো গণতন্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজনে আজ নতুন করে তৈরি হচ্ছে। অন্যায়কারীরা টিকবে না।

সরকার দেশে পূনরায় বাকশাল কায়েম করেছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, যে নির্বাচনে জনগণের সমর্থন তা বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে পূণরায় নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কাঠামোকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। সেজন্যই বিএনপিকে আগামী দিনগুলোতে আরো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি সব দলগুলোকে একত্রিত করে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দানব সরকারকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবো।

ড. খন্দকার মোশমরাফ হোসেন বলেন, সরকার বিএনপিকে ভয় পায়। তাই দিনে দিনে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপরে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ তারা সকল ক্ষেত্রে ব্যর্থ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা একা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৃঢ় প্রত্যয়ে দল পূর্ণগঠনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের মাধ্যমে দল বেঁধে রাস্তায় নেমে পড়তে হবে। ‘স্বৈরাচার হটাও, মানুষ বাঁচাও’ এই স্লোগানে এগিয়ে যেতে হবে।

এছাড়াও ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, বিএনপির মূল শক্তি আওয়ামীলীগ, কারণ তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে জনগণ বিএনপির সঙ্গে রয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ম্যাডামের মুক্তির জন্য আমরা আইনগতভাবে সর্বোচ্চ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আইন পুরোপরি সরকার নিয়ন্ত্রিত বলে আমরা কোন সহযোগীতা পাচ্ছি না। এখন তাকে মুক্তির একমাত্র উপায় রাজপথে আন্দোলন। প্রয়োজনে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমরা জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি আপনারাও প্রস্তুতি নিন।