বাংলাদেশ প্রতিদিনের মতো ‘একুশে বার্তা’ নামের অনুকরণে অনলাইন পোর্টালে শুধুমাত্র একটি ‘ে এবং ‘র’ সংযোজন করে ‘একুশের বার্তা” নাম দিয়ে ঠিকানাবিহীন অনলাইন পোর্টাল প্রকাশ করছে সাবেক স্বরাষ্ট্রী মন্ত্রী মরহুম এড. সাহারা খাতুনের ভাগিনা মুজিবুর রহমান!

একুশে বার্তা রিপোর্ট : দেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিনের নাম ভাঙিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকৃত ওয়েবসাইটটির একটি শব্দের বানান পরিবর্তন করে অন্য একটি ওয়েবপেজ খুলে লোক নিয়োগ, মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং ও বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অনৈতিক সুবিধা ও মোটা অঙ্কের অর্থ। সম্প্রতি ভয়ঙ্কর এ চক্র ফাঁদ পেতেছিল খোদ আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ওপর। তবে সুবিধা না করতে পেরে সর্বশেষ এক প্রতারক মাহবুবের ঠাঁই হয়েছে কারাগারে। ৯ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ।

 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের মতো একুশে বার্তার অনলাইন পোর্টালে হুবহু ‘একুশে বার্তার নাম দিয়ে  শুধুমাত্র একটি ‘ ে এবং ‘র’ সংযোজন করে একুশের বার্তা নাম ব্যবহার করে অনলাইন পোর্টাল  প্রকাশ করা হচ্ছে।

খোজ নিয়ে জানা যায় , এই একুশের বার্তার প্রিন্টাসে কোন অফিস ঠিকানা নেই, শুধু একটি মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে। সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে মো. মজিবুর রহমানের নাম প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। ওই অনলাইনের একটি সাক্ষাতকার থেকে জানায়, এই সম্পাদক ও প্রকাশক মো. মুজিবুর রহমান ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম এড. সাহারা খাতুনের ভাগিনা। তিনি তাকে খালা বলে সম্ভোধন করেছেন। এই মুজিবুর রহমান ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে্ এমপি  পদে নির্বাচন করার জন্য ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র কিনেছেন বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নাম করে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ ২৪ আগস্ট রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন; যার নম্বর ১৩৫৪।

তবে অভিযোগ করার পরও বাংলাদেশ প্রতিদিনের নামে ভুয়া ওই ওয়েবসাইটটি (www.bangladesh-protidin.com) এখনো ইন্টারনেটে পাওয়া যাওয়ায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আশা করছি অপরাধীকে খুব শিগগিরই আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে র‌্যাবের সহায়তা চাইলে র‌্যাব আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’ এ ধরনের প্রতারকদের পাল্লায় না পড়তে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নামে ভুয়া ওয়েবসাইটটি (www.bangladesh-protidin.com) ব্যবহার করে এখনো নিয়মিত প্রতারণা করে যাচ্ছে একটি চক্র। তাদের প্রতারণার ফলে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকটির মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা এ প্রতারক চক্র বাংলাদেশ প্রতিদিনের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করবে। ভুয়া এ ওয়েবসাইটটির নিচে সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক মো. আবদুল কুদ্দুস মন্ডল, সহকারী সম্পাদক হাজী মো. জুলহাস খান ও মো. মহিউদ্দীন মহি এবং উপদেষ্টা হিসেবে আলহাজ লেহাজ উদ্দিনের নাম লেখা রয়েছে। অফিসের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে- হাজী মোছলেম উদ্দিন কমপ্লেক্স, ছয়দানা (হারিকেন), গাছা, গাজীপুর মহানগর। মোবাইল- ০১৭২৩৩৫৫৯৯৮/০১৬০০১১৫৪১৭। ইমেইল : [email protected]। ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে ‘আইটি হাউস বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা এফ এম মনিরুজ্জামান আসলাম জানান, আমরা এরই মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে বিষয়টি অবহিত করেছি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকৃত ওয়েবসাইটের লিঙ্কটি হলো www.bd-pratidin.com। কোনো প্রতারকের ফাঁদে পা না দিতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের অগণিত পাঠক, শুভানুধ্যায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একুশে বার্তার প্রধান উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব কেরামত আলী দেওয়ান বলেন, মজিবর রহমান সাহারা  আপা যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন থেকেই তার  নাম নাম ভাংগিয়ে চলতো, দাপট দেখাতো, প্রভাব খাটাতো , আমি ‘একুশে বার্তা’ পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা এটা তিনি সহ্য করতে না পেরে রাজনৈতিভাবে আমাকে হেয় করার জন্য ‘একুশে বার্তা’র অনুকরনে একটি  েএবং র সংযুক্ত করে ‘ ‘একুশের বার্তা’ নাম দিয়ে একটি ডমেইন কিনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল  খুলে বসে। তিনি বলেন, এটা অন্যায়, প্রতারণার সামিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষককে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি আহবান জানাচ্ছি

তিনি আরো বলেন, ‘একুশে বার্তা’ একটি সরকারি অনুমোদনকৃত ডিক্লারেশনকৃত পত্রিকা। ডিএফপি থেকে নামের  ছাড়পত্রও অনুমোদিত। বাংলাদেশের কোথায় এ পত্রিকার নামে ছাড়পত্র অনুমোদন, ডিক্লারেশন আইনত অপরাধ। অথচ এই অপরাধমুলক কাজটিই করে চলেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগিনা মজিবর রহমান।