বিতর্কিত অনেককেই ঢাকায় কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ : আজীবন পুরো পরিবার আওয়ামীলীগ করা ৪৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সির হাজী বুলবুল দেওয়ান বাদ পড়ায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

একুশে বার্তা ডেক্স : অনেকের বিরুদ্ধেই ক্যাসিনো, দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।  ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম হাসুর বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের মারধর, প্লট ও বাড়ি দখল, অবৈধ স্থাপনা, হত্যাচেষ্টাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের ঘোষিত কাউন্সিলরদের মনোনয়ন লিস্টে তার নাম দেখে অবাক হয়েছেন এলাকাবাসী। কেবল হাসুই নন, এমন অভিযুক্ত অন্তত ২০ কাউন্সিলরকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।

নানা অপরাধে গণমাধ্যমের শিরোনাম হন ডিএনসিসির ১ নম্বর ওয়ার্ডে আফছার উদ্দিন খান, ৪ নম্বরে জামাল মোস্তফা, ২৭ নম্বরে ফরিদুর রহমান খান, ২৯ নম্বরে নুরুল ইসলাম রতন। এদের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। তাকেও মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনে ১ হাজার ভোট পেয়ে ৫ম হওয়া প্রার্থীকে এবার ৪৮ নং ওয়ার্ডে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ক্যাসিনোসহ নানা কারণে বিতর্কিত কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনকে। নানা অপরাধে জড়িত ২ নম্বর ওয়ার্ডে আনিসুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৩ নম্বরে মাকসুদ হোসেন, ৫ নম্বরে আশরাফুজ্জামান, ৭ নম্বরে আবদুল বাসিত খান, ১০ নম্বরে মারুফ আহমেদ মনসুর, ৩০ নম্বরে মোহাম্মদ হাসান, ৩৭ নম্বরে আবদুর রহমান মিয়াজী, ৫১ নম্বরে কাজী হাবিবুর রহমান হাবু, ৫৩ নম্বরে নূর হোসেন, ৫৫ নম্বরে নূরে আলম, ৫৬ নম্বরে মোহাম্মদ হোসেন, ৫৯ নম্বরে আকাশ কুমার ভৌমিককে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

এ দিকে আজীবন পুরো পরিবার আওয়ামীলীগ রাজনীতি করা, ৭১ সালে বাপ-চাচা জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়া পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্য গত নির্বাচনে ওপেন চ্যালেন্ঞে  ৪৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া  হাজী মাসুদুর রহমান দেওয়ান ওরফে বুলবুল দেওয়ানকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে হাজী বুলবুল দেওয়ান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলাচিঠি দিয়েছেন।

খোলা চিঠিতে হাজী বুলবুল দেওয়ান আবেগঘন ভাষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর তার মনের আকুতি তুলে ধরেছেন। তিনি তার খোলা চিঠিতে বলেছেন,

আমি মোঃ মাসুদুর রহমান দেওয়ান বুলবুল জন্মসূত্রেই পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করি। আমার বাবা এবং চাচা দুই ভাই ছিলেন। আমার পিতা মরহুম হাজী মোঃ মারফত আলী  দেওয়ান যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার ছিলেন। এবং আমার চাচা ১৯৭৮ সালে দক্ষিনখান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর সাধারন সম্পাদক থেকে শুরু করে বর্তমান খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ কেরামত আলী দেওয়ান মুজিব বাহিনীর অন্যতম সদস্য ছিলেন। জাতির জনকের ডাকে সাঁড়া দিয়ে আমার দাদার দুই সন্তানই ১৯৭১এ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পিছু হটে নি। স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও আওয়ামী লীগ এর দুঃসময়ে কখনও আওয়ামী আদর্শ থেকে পিছু হটে নি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে ইতিহাস বিকৃতি করেছিলো তৎকালীন সরকারগুলি। কিন্তু আমার পরিবার শত নির্যাতন, হামলা মামলা উপেক্ষা করেও আওয়ামী রাজনীতিকে সচল রাখার আপ্রান চেষ্টা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন, আদর্শ বাস্তবায়নে সততার সঙ্গে আমার পরিবার কাজ করে যাচ্ছি।

আমি গত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নবগঠিত ৪৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসাবে ওপেন নির্বাচনে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হই। আমি খুবই অল্প সময় পেয়েছি। গত নির্বাচনে জনগণকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমি কথা দিয়েও মানুষের সঙ্গে কথার বাস্তবায়ন করতে পারি নি। আমি জনগনের কাছে সময় স্বল্পতা এবং প্রকল্প না পাওয়ার দরুন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে না পারায় ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আমি অত্যন্ত ব্যাথিত মনে প্রিয় জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আমি গত নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকে সততার সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আপ্রান চেষ্টা করেছি। আমি ২৪ ঘন্টায় মাত্র ৩/৪ ঘন্টা ঘুমিয়েছি। বাকী সময় জনগনের কল্যানে কাজ করেছি। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত সোনার বাংলা গড়ায় আপনার বিশ্বস্ত হাতিয়ার হিসাবে কাজ করার জন্য। নবগঠিত প্রত্যেকটি  ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত করেছেন। শুধুমাত্র আমাকে মনোনীত করা হয় নি। ৪৮নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৪৫ হাজার।  অথচ গত নির্বাচনে যিনি মাত্র এক হাজার ভোট পেয়ে ৫ম স্থানে ছিলো দল তাকেই মনোনীত করেছে।

তবে কি আমি কোন বিতর্কিত কাজে জড়িত ছিলাম? না কি আমার পরিবার কোন বিতর্কিত কাজে জড়িত ছিলো? সাড়াটা জীবন আমার পরিবারের নির্লোভ, সততা, ত্যাগ ও বিশ্বস্ততার প্রতিদান কি এই নির্মম চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত? তবু শত কষ্টেও বলবো জননেত্রী প্রিয় শেখ হাসিনা আপা আপনার সিদ্ধান্তই বরাবরের ন্যায় আমার এবং আমার পরিবারের সকলের জন্য শিরোধার্য। শুধু মাত্র আমার এবং আমার পরিবারের জানার ইচ্ছা, কি অপরাধে এতো বড় শাস্তি পেলাম আমরা?