বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার পদে পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ

ডেক্স রিপোর্ট : সরকারি প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন দেশে কান্ট্রি ম্যানেজার পদে পদায়নে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।

ওই লিখিত অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর পদায়নের জন্য ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যোগ্য ও মেধাবীদের বাদ দিয়ে লোক দেখানো সেই ভাইভায় আর্থিক লেনদেন হয়। যারা টাকা দিয়েছিল তারা পছন্দমতো জায়গা বাগিয়ে নেন।

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নিয়োগ বাতিল হওয়া বিমানের এমডি ও সিইও ড. সাফিকুর রহমান একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই পদায়ন করেছেন। তদন্ত করে পদায়ন বাতিল করে যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদায়নের দাবি করা হয়েছে ওই অভিযোগপত্রে।

অভিযোগে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশের ‍কুয়েত স্টেশনে ম্যানেজার পদে পদায়ন করা হয় শামিমা পারভিনকে। ওই স্টেশনে কর্মরত ছিলেন শামিমার স্বামী শাহজাহান। বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে শাহজাহান তার স্ত্রীর এই পদায়ন বাগিয়ে নেন, যা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

 

একইভাবে মনিরুল ইসলাম প্রধানকে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার স্টেশনের ম্যানেজার পদে পদায়ন করা হয়। আশরাফুল ইসলামকে চীনের গুয়াংজুতে স্টেশনের ম্যানেজার পদে পদায়ন করা হয়। মনিরুল ও আশরাফুল আপন দুই ভাই। এছাড়া অবৈধভাবে দিল্লি এয়ারপোর্টে ইয়ারত হোসেনকে, তন্ময় কুমার সরকারকে শারজাহ বিমানবন্দরে এবং মিজানুর রহমানকে মদিনা বিমানবন্দরে পদায়ন করা হয়।

 

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, এয়ারপোর্টের সার্ভিসের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার বর্তমানে লিগ্যাল শাখার জিএম পদে কর্মরত মনিরুল ইসলাম, বিএফসিসির জিএম আরিফুর রহমান ও সাবেক সিবিএ নেতা বেলাল হোসেন একটি সিন্ডিকেট করে সিইওকে ম্যানেজ করে পুরো পদায়ন সম্পন্ন করেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পদায়ন ও নিয়োগ ঘিরে বিমানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই পদায়নটি ২০২৫ সালের মে জুন মাসে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, বেশ কয়েকবার তারিখ পরিবর্তন করে সেটি ডিসেম্বরে নিয়ে আসা হয়।

 

তারা আরও জানান, সাফিকুর রহমান এমডি ও সিইও থাকাকালীন কেউ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারতো না। এমনকি মন্ত্রণালয়ের অনেক সিদ্ধান্ত পাস কাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো করতেন। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিমানের দূরত্বও সৃষ্টি হয়।

 

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি কেবিন ক্রু নিয়োগেও বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। চক্রটি এমডির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ইতোমধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এসব বিষয়ে মন্তব্য নিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।