বেবিচক : বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর :  প্রধান প্রকৌশলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব, হাবিবুর রহমানের নাম  মন্ত্রণালয়ে

একুশে বার্তা রিপোর্ট : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী  হাবিবুর রহমান। বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয়েছে, বেবিচক চেয়ারম্যান এবার ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা যায়। বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়ে আসলে হাবিবুর রহমানই হবেন আরো ১ বছরের জন্য বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী।

গত সরকারের আমলে বিএনপি রাজনীতি সংশ্লিষ্টতায় ৫ বছর তিনি (হাবিব) প্রকৌশল বিভাগের বাইরে ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদল করতেন—এমন তকমা লাগানো হয়।

সোমবার (৩ মার্চ) বেবিচকের বোর্ড সভায় তার নিয়োগের বিষয়ে সর্বসম্মতি প্রদান করা হয়। এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাবনায় স্বাক্ষর করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া। আগামী ২৩ মার্চ বেবিচকের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

যোগ্য ও সৎ লোক হওয়ায় বেবিচক  তার ওপরই আস্থা রাখছে। তাকে দায়িত্ব দেওয়া না হলে চলমান প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি কিছু প্রকল্প বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এগুলো বন্ধ হলে বেবিচকের শত শত কোটি টাকা নষ্ট হবে।

বেবিচক  মনে করে , তার ( হাবিবুর রহমান)  মেধা ও মননশীলতা কাজে লাগালে বেবিচক  আরও এগিয়ে যেতে পারবো।

যদিও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তও হচ্ছে। এখনও তো এর কোনও রেজাল্ট আসেনি। যতক্ষণ না তিনি দোষী প্রমাণিত হচ্ছেন, ততক্ষণ  তাকে দোষী বলা যাবে না। তিনি পরিস্থিতির শিকারও হতে পারেন।

সব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে তার অর্জিত  অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বেবিচক  আরও উপকৃত হতে পারে। চলমান প্রকল্পও শেষ  হবে।

তার এক্সটেনশনের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে , মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট হয়ে এলে তিনি নতুন করে তারই স্থলাভিষিক্ত হবেন।

দেশের ৪ প্রধান  বিমানবন্দরের উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে গত ২৭ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মুহিবুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী) মো. হাবিবুর রহমানসহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

পর দিন ২৮ জানুয়ারি হাবিবুর রহমানসহ মামলার প্রধান আট আসামির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। তারা যেন কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারেন সে বিষয়ে দেশের সব বন্দর, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

দুর্নীতি বিরোধী কমিটির নেতৃবৃন্দও তার অপসারণ দাবি করে আল্টিমেটাম দিয়েছে।

এ সব বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান মন্তব্য করেছেন যে, মামলা হলেই কেউ আসামি না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা প্রমাণ না হয়, মামলার চার্জশীট না হয়। হাবিবুর রহমান অবস্থার শিকারও হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।