বিশেষ সংবাদদাতা : বিমানমন্ত্রী, সিভিল এভিয়েশনের সদস্য অপরেশন এন্ড প্লানিং, পরিচালক ফ্লাইট সেফটি , তদন্ত সংস্থার চিফ (এআইজি) , দুইজন সাংবাদিকসহ একদল তদন্ত টিমের সদস্য সরকারি খরচে ১৩ মার্চ সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের নেপালে গেছেন। নেপালে বাংলাদেশের উক্ত তদন্ত টিম নেপাল তদন্ত টিমের সাথে কাজ করবে। সিএএবির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে।
নেপালে পৌছার পর নেপাল সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিমানমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিমানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী হাসপাতালে যান। যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের খোঁজখবর নেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ককপিটের ভয়েস রেকর্ডার থেকেই সব জানা যাবে।
মন্ত্রী বলেন, নেপালের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। তারা আমাদের দুর্ঘটনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন। আগামীকাল সকাল ৮টায় নেপালের সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবো। বেলা ১২ টায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাদ শর্মা অলির সঙ্গে বৈঠক করাবো। এরপর দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান বিমানমন্ত্রী।
কি কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নেপাল সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এবং ইউএস বাংলা পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
বিমানটির ব্লাকবক্স ও ককপিট ভয়েস রিকোভার করা হয়েছে। নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। আমাদের দলও তদন্ত করছে।
সূত্রে জানা গেছে, ইউএস বাংলার বিমানটি দূর্ঘটনায় নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশের ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করছে। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, নেপাল এয়ারপোর্ট টাওয়ার ভুল তথ্য দেয়ায় বিমনটি অবতরণ করতে গিয়ে দূর্ঘটনা কবলিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, কন্ট্রোল টাওয়ার কোন ভুল বার্তা দেয়নি। বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অবতরণের আগে আকাশেই আগুন ধরে যায়।
সূত্র জানায়, ইউএস বাংলার এয়ারক্রাফটি ১৭ বছরের পুরনো। এটি একবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছিল। তবুও সিভিল এভিয়েশন ফ্লাইট সেফটি বিভাগ থেকে মোটা অংকের নজরানার বিনিময়ে লক্কর-ঝক্কর বাসের মতো ফিটনেস সনদ দেয়া হয়। এ ফিটনেস সনদের ব্যাপারে পরিচালক ও উপপরিচালক ফ্লাইট সেফটি জড়িত রয়েছে বলেও সূত্র জানায়।
প্রশ্ন ওঠেছে, আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারি একটি ১৭ বছরের পুরনো এয়ারক্রাফটি কেন সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ফিটনেস সনদ দিলো? কার স্বার্থে এ ফিটনেস সনদ দেয়া হলো?
সূত্র জানায়, শুধু ইউএস বাংলাই নয়- দৃশ্যমান কোন এয়ারক্রাফট না থাকলেও সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট সেফটি বিভাগকে নজরানা দিলেই এয়ার লাইন্সের অনুমোদন পাওয়া যায় এবং ফিটনেস সনদও দেয়া হয়ে থাকে। আরএন্ড আর এয়ারলাইন্সের দৃশ্যমান কোন এয়ারক্রাফট না থাকললেও আরএন্ডআর এয়ার লাইন্সের অনুমোদন দিয়েছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। আরেএন্ডআর এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষ একটি এয়ার ক্রাফট দেখিয়ে অনুমোদন নিলেও তা আমেরিকার হকার কোম্পানির কাছে মেরামতের নাম করে বিক্রি করে দেয়। গত বছর একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ভারত থেকে একটি এয়ারক্রাফট কেনার পায়তারা করে আরএন্ডআর এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষ।
