আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের পার্লামেন্ট ঘিরে রেখেছে সৈন্যরা। তারা বিরোধী দলীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের পার্লামেন্ট ভবনে এমনকি এর চত্বরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
এছাড়া দেশে ফেরা দুই সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
৪ ফেব্রুয়ারি রোববার সকালে কোনো কারণ না দেখিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আহমেদ মোহাম্মদ পদত্যাগ করার পরপরই সেনাবাহিনী পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে অবস্থান নেয়। দেশটিতে ক্যু চলছে কিনা এ মুহূর্তে তা স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, নিরাপত্তার কারণে ২০১৮ সালের প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করার পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল রোববার নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আকস্মিক ঘোষণাটি দেন। কাল সোমবার চলতি বছরের প্রথম অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে গ্রেফতার এবং স্বেচ্ছানির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের দেশের ফেরার সব বাধা প্রত্যাহার করা সহ সব বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে আদেশ দেয়। এর পরপরই দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও চরম বিশৃঙ্খলার সূচনা হয়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করার ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, সুপ্রিম কোর্টের এহেন আদেশ তারা মানবে না।
পুলিশ জানায়, তারা প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে গ্রেফতার করবে না।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর এহেন অনাকাঙ্ক্ষিত ভূমিকার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের উস্কানিই অনেকাংশে দায়ী। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করার যে আদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তা অগ্রাহ্য করবে।
এক দিকে ঘনীভূত রাজনৈতিক সংকট অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রকাশ্য অবস্থান দেশটিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার আবর্তে ঠেলে দিল। যা হবে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি।
রোববার অ্যাটর্নি জেনারেলের আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা এবং পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের অবস্থান নেবার পর দেশে ফেরা দুজন সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দরে আটকের ঘটনায় সংকট আরো এক দফা ঘনীভূত হলো।
