একুশে বার্তা রিপোর্ট : দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী লীগের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার ঘটনার পর গতকাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এই রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এখন রাষ্ট্র নেই, এটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে না। আজকে পুলিশ চলছে আওয়ামী লীগের নির্দেশে এবং দুঃখজনকভাবে বিচারাঙ্গনকেও তারা প্রায় দখল করে ফেলেছে। আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশের জনগণের কাছে এই কথাটা পৌঁছাতে চাই যে, এদেশে গণতন্ত্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী লীগের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাহমুদুর রহমান সাহেব যখন আদালতের কাছে প্রোটেকশন চান, কোর্ট থানায় ফোন করেন এবং ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেন, ওসি সেখানে এসে উপস্থিত হননি। এরপর একেবারে উচ্চ মহলেও পর্যন্ত যোগাযোগ করা হয়েছে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সরকারের পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু তাদের সহায়তায় আদালতে যে ওসি থাকেন তিনি মাহমুদুর রহমান সাহেবসহ অন্যদেরকে বলেছেন যে, আপনারা বাইরে আসেন, বের হন। যাকে বলা যায় যে, জোর করে বের করে ওই সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। যার ফলে সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে আক্রমণ করা হয়েছে বিশেষ করে মাহমুদুর রহমান সাহেবকে মাথায় আঘাত করেছে এবং বুকে রক্তাক্ত করা দিয়েছে। সেখানে অন্যান্য যারা ছিলেন তারা আহত হয়েছেন। : তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা সেখানে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পাননি। কোনো গাড়ি পর্যন্ত তাদেরকে দেয়া হয়নি। সরকারের দায়িত্ব ছিল সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হেফাজতে তাকে হাসপাতালে পাঠানো ও তারপর তাকে ঢাকায় আসার ব্যবস্থা করা। দুঃখজনকভাবে শুধু নয় আমরা ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, তারা (সরকার) এই ব্যবস্থা তো করেনইনি উপরন্তু যেন মাহমুদুর রহমান সাহেবের ওপর এই আক্রমণটা করে তার ব্যবস্থা তারা করেছেন। আমরা নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা অবিলম্ব যারা কুষ্টিয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। : এই সরকারের পতন না ঘটানো গেলে এসব ‘অন্যায়ের’ বিচার হবে না বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকদের সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মাহবুবে রহমান শামীম, শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ। : :
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
