মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আবার বাংলাদেশে ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেক্স রিপোর্ট : ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমাহারে সাজানো হোটেল তারকা খচিত ইন্টারকন্টিনেন্টাল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৩ সেপ্টেম্বর  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে হোটেলের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী হোটেলটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। সঙ্গে ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে সারা বিশ্বের সাংবাদিকরা এই হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর সাংবাদিকরা এখানে সমবেত হন সংবাদ সংগ্রহের জন্য। জুলফিকার আলী ভুট্টো এই হোটেলে এসেছিলেন এবং এখান থেকে ২৫ মার্চ গণহত্যার নির্দেশ দেন। এসব দিক থেকে এই হোটেলটি অনেক স্মৃতি বহন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হোটেলে যে সাংবাদিকরা ছিলেন তাদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হতো। সেখানে তাদের আটকে রাখা হতো। সায়মন ড্রিং একমাত্র সাংবাদিক যিনি সেখান থেকে বেরিয়ে ২৫ মার্চের গণহত্যার তথ্য সারা পৃথিবীকে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হোটেলে দুবার হামলা করা হয়েছিল।
জানা গেছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে হোটেলটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। হোটেলটিতে কক্ষের সংখ্যা ২৩১টি। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কার কাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কার কাজ শুরু হয়। রূপসী বাংলা হোটেলে কক্ষ ছিল ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭২টি। সংস্কারের পর করে সংখ্যা কমে ২৩১ টিতে দাঁড়িয়েছে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ৪০ স্কয়ার মিটার বিশ্বমানের অতিথি সেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের স্থান। এর আগে হোটেলটির হলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেক দিকে। এখন দুটি এক করে দেয়া হয়েছে। হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলটিও স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুন করে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কার কাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।