ডেস্ক রিপোর্ট: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী ও বহির্গমন ক্যানোপিতে যাত্রীদের সঙ্গে অতিরিক্ত স্বজনের প্রবেশ ঠেকাতে প্রায় দুই বছর আগে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ দুইজন সঙ্গী প্রবেশের নিয়ম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রতিদিনই ক্যানোপিতে তৈরি হচ্ছে তীব্র ভিড়, বাড়ছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিমানবন্দর ঘুরে দেখা যায়, আগমনী টার্মিনাল-২-এর ক্যানোপিতে যাত্রীদের স্বাগত জানাতে আসা স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়ে হাঁটার মতো জায়গাও থাকছে না। আগমনী গেটের সামনে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন, ফলে যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। বহির্গমন ক্যানোপিতেও একই চিত্র। অনেক ক্ষেত্রে একজন যাত্রীর সঙ্গে চার থেকে পাঁচজন, এমনকি তারও বেশি স্বজন বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে প্রবেশ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক জরুরি নির্দেশনায় জানায়, আগত ও বহির্গামী প্রতিটি যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন ব্যক্তি ক্যানোপিতে প্রবেশ করতে পারবেন। যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখা, যানজট কমানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ পরিস্থিতিতে এ বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার কথাও জানানো হয়েছিল।
কিন্তু নির্দেশনা জারির দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিমানবন্দরের বিভিন্ন ক্যানোপিতে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই অতিরিক্ত লোকজন অবাধে প্রবেশ করছেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পুরো একটি গাড়িভর্তি স্বজন আগমনী ক্যানোপির ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে কথা হয় সৌদি আরবগামী যাত্রী আব্দুল আহাদের সঙ্গে। তিনি জানান, তাকে বিদায় জানাতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশী মিলিয়ে কয়েকজন একটি গাড়ি করে বিমানবন্দরে এসেছেন। যাত্রীপ্রতি দুইজন সঙ্গীর নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনার কথা তারা জানতেন না। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী কেউও তাদের এ বিষয়ে কিছু বলেননি।
একই ধরনের বক্তব্য দেন আরেক যাত্রী আশরাফুল। তিনি বলেন, নিয়মটি আগে থেকে জানলে অবশ্যই তা মেনে চলতেন।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়ম বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলেও অনেক সময় যাত্রী ও তাদের স্বজনরা তা মানতে চান না। কাউকে বাধা দিলে উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি কিংবা মোবাইলে ভিডিও ধারণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস. এম. রাগিব সামাদ বলেন, অতিরিক্ত মানুষ যেন ক্যানোপিতে প্রবেশ না করেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত প্রচার ও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনেকেই নির্দেশনা মানতে আগ্রহী নন।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত সবাইকে সচেতন করছি। তারপরও অনেকেই নিয়ম মানছেন না। কেবল নির্দেশনা জারি করলেই হবে না, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই সচেতন না হলে এ ধরনের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।”
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের আগমনী ও বহির্গমন ক্যানোপি মূলত যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য। সেখানে অতিরিক্ত জনসমাগম শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকিই বাড়ায় না, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। তাই বিদ্যমান নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি যাত্রী ও তাদের স্বজনদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
