রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ : অকার্যকর ওষুধে মশক নিধন! মেয়র বললেন মহামারি নয় : সিভিল সার্জনসহ ১ ডাক্তারের মৃত্য : ২ ডাক্তার আক্রান্ত

নিউজ ডেক্স : আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর গবেষণায় যে ওষুধ অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলো দিয়েই চলছে ঢাকার দুই সিটির মশক নিধন কার্যক্রম। আর এ কারণেই এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা কমছে না- এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, সিটি কর্পোরেশনের এসব কার্যক্রম স্রেফ লোক দেখানো।

যদিও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টদের দাবি- এ ওষুধেই মশা মরছে। আর নতুন ওষুধ আনার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ ওষুধ আমদানি করতে সময় লাগবে। অথচ ডেঙ্গুর এ প্রকোপ চলবে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত।দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন গণ মাধ্যমে বরলেন, ডেংগু মহামারি নয়।ডেংগুতে  সিভিল সার্জনসহ ১ ডাক্তারের মৃত্যু হয়েছে, ২ ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছেন।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চলমান মশক নিধন কার্যক্রম এডিসের প্রজনন রোধে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জরুরি ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখনই এডিস মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রোগের ভয়াবহতার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।

শুধু বিশেষজ্ঞই নয়, সিটি কর্পোরেশন মশা নিধনে কেন কার্যকর ওষুধ ছিটাতে পারছে না- এই প্রশ্ন তুলে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বলেছেন, ওষুধ কার্যকর কিনা সে পরীক্ষা আগে কেন করা হয়নি? সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, গত বছর ওষুধ ছিটানোর পর ঘরে বসেই তার ঝাঁজ পেতাম, এবার গন্ধও পাওয়া যায় না।

মানুষের ধারণা এবারের ওষুধে কাজ হচ্ছে না। দিনের পর দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে এখন মহামারী আকার ধারণ করছে। অথচ জরুরিভিত্তিতে কার্যকর ওষুধ আমদানি হচ্ছে না। আমরা চাই মশা মরুক।

এদিকে শুক্রবারও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা অব্যাহত ছিল। রাজধানীসহ দেশের ছয় বিভাগে এ রোগের বিস্তার ঘটেছে। এদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সিলেটে একজন নারী চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৯০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

রোগীদের সামাল দিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুয়ায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৫৭ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন আটজন। তবে বেসরকারি বিভিন্ন সূত্র বলছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি।

সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনও সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের (স্বাস্থ্য অধিদফতর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর) পক্ষ থেকে মশা মারার জন্য প্রস্তাবিত কোনো ওষুধের নাম আসেনি। চলতি সপ্তাহেও যদি কোনো ওষুধের নাম বা স্যাম্পল আসে, তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ কিনতে কমপক্ষে চার মাস সময় লাগতে পারে। আর ততদিনে ফুরিয়ে যাবে ডেঙ্গুর মৌসুম। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগতে হবে অসংখ্য মানুষকে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১৫ জুলাই ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু বিষয়ে একটি সভা হয়। সভায় কার্যকর ‘মেলাথিউন’ ওষুধের নাম প্রস্তাব করা হয়। এ ওষুধটি ইতিপূর্বে মশা মারার জন্য সিটি কর্পোরেশন ব্যবহার করেছে বলেও জানান তারা। তাই এটি আমদানি করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতর থেকে অনুমোদনের জন্য ফাইল চালাচালি করে সময়ক্ষেপণ করতে হবে না।

দুই সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে আরও জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মশার ওষুধের কোনো নাম পাওয়া যায়নি। নাম পেলে মশার ওষুধ ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির পরামর্শ নেয়া হবে। এরপর সেটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিবাচক মতামত দিলে, তা বাস্তবায়ন করবে দুই কর্পোরেশন।

দুই সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে যে ওষুধগুলো ছিটানো হচ্ছে সেগুলো আইসিডিডিআর,বি ঘোষিত অকার্যকর ওষুধ। নতুন ওষুধ কেনার আগপর্যন্ত এগুলো ব্যবহার করা হবে। এ মুহূর্তে কোনো বিকল্প না থাকায় সংশ্লিষ্টরা ওষুধগুলোকে কার্যকর প্রমাণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পরীক্ষায় এ ওষুধ কার্যকর বা মানসম্পন্ন প্রমাণিত হয়নি।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডা. ফজুল হাকিম শুক্রবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, সিটি কর্পোরেশন যে ওষুধ দিয়ে মশা মারার চেষ্টা করছে তাতে মশা মরছে না। নগরবাসী অভিযোগ করেছেন, এ ওষুধে মশা মরছে না বরং তা থেকে কেরোসিনের গন্ধ আসছে। তাছাড়া বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে তাদের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, দুই সিটি মশক নিধনে যে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা এক প্রকার লোক দেখানো।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন যুগান্তরকে বলেন, ক্রয় করা ওষুধগুলো মানসম্মত নয় বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটা সঠিক নয়। আমরা এ ওষুধ ব্যবহার করে দেখেছি মশা মরছে। তাহলে প্রতিদিন এত মানুষ কীভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবছর এ মৌসুমে মশার উপদ্রব বাড়ে।

সে ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতিও থাকে। এবারও ছিল, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে এ ব্যাপারে পরিস্থিতি যতটা না, কোনো কোনো গণমাধ্যম তার চেয়ে বাড়িয়ে প্রচার করছে। এ কারণে জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।

নতুন ওষুধ কেনার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, রাজধানীর মশার যেহেতু প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে, সে কারণে কোন ওষুধ ব্যবহার করলে ভালো হবে, সেটা টেকনিক্যাল কমিটিকে যাচাই-বাছাই করে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরও সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ে আমরা নতুন ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারব।

আইসিডিডিআর,বির গবেষণা প্রসঙ্গে মেয়র সাঈদ খোকন যুগান্তরকে বলেন, আইসিডিডিআর,বির গবেষণা সঠিক কিনা, সেটা তারাই বলতে পারবে। সরকার আমাদের অনুশাসন দিয়েছে আইইডিসিআরের নিদের্শনা অনুযায়ী ওষুধ কিনতে এবং ছিটাতে। আমরা সে নির্দেশনাই অনুসরণ করছি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. মোমিনুর রহমান মামুন যুগান্তরকে বলেন, মশার উপদ্রব কমাতে ক্রয় করা ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিকল্পের আগপর্যন্ত এ ওষুধই ব্যবহার করা হবে। কোন ওষুধ কেনা হবে, সেটা নির্ধারণ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওই কমিটি এখনও সেটা নির্ধারণ করতে পেরেছে কিনা, সেটা আমি জানি না। দ্রুততম সময়ে অন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এমন কোনো তথ্য দিতে পারছি না, যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তখন আপনারা জানতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা যুগান্তরকে বলেন, গত ১৫ জুলাই উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ‘মেলাথিউন’ ওষুধের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সেই সভার কোনো রেজুলেশন আমাকে পাঠানো হয়নি। তাছাড়া সভায় একটি টেকনিক্যাল কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু তারপর আর কিছুই আমাদের জানানো হয়নি।

আইসিডিডিআর,বির গবেষণা : দেশে প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে সব ধরনের মশা। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হলেও মশা মরছে না। সম্প্রতি এমন তথ্য উঠে এসছে আইসিডিডিআর,বির এক গবেষণায়।

সম্প্রতি ঢাকার দুইটি সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক যৌথ বৈঠকে এ গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল- সিডিসির অর্থায়নে রাজধানী ঢাকা শহরে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। সেপ্টেম্বর ২০১৭ এবং ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জীবাণুবাহী এডিস এবং কিউলিক্স মশা ইতিমধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

গবেষণার সারাংশে বলা হয়, চারটি কীটনাশকের ক্ষেত্রে এডিসের প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিছু কিছু এলাকায় ডেল্টামেথ্রিন ও মেলাথিউন আংশিক প্রতিরোধী হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ‘বিন্ডিওক্রাব’ ব্যবহারে মশার মৃত্যু শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ মশা এখনও বিন্ডিওক্রাব প্রতিরোধী হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে কিউলিক্স মশার ক্ষেত্রে ‘প্রপোক্সার’ এর কার্যকারিতা শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কীটনাশক ব্যবহারের পর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মশার মৃত্যুর হার যদি ৯০ শতাংশের নিচে হয় তাহলে এটা নিশ্চিত যে মশা কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। অথচ আইসিডিডিআরবি’র গবেষণায় দেখা গেছে, এডিস এবং কিউলিক্স মশার মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায়। এমনকি কীটনাশকের মাত্রা দ্বিগুণ হারে প্রয়োগ করলেও মশার মৃত্যু ঘটেনি বলে জানান গবেষণা সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা যুগান্তরকে বলেন, আইসিডিডিআরবি একটি গবেষণা চালিয়েছে। সেখানে এডিস ও কিউলিক্স মশার কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার চিত্র পাওয়া গেছে। যেহেতু ওষুধ কেনা এবং প্রয়োগ করা সিটি কর্পোরেশনের কাজ তাই এ বিষয়টিতে তাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

অধ্যাপক সানিয়া বলেন, কীটনাশক চাইলেই পরিবর্তন করা যায় না। নতুন কীটনাশক নিবন্ধন করতে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কারিগরি সহয়তা চাওয়া হলে আমরা সহযোগিতা করব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ওষুধ ক্রয়সংক্রান্ত যে বৈঠকটি হয়েছিল সে ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মশা মারার ওষুধ কিনবে সিটি কর্পোরেশন। তারা যে ওষুধ কিনবে, তার স্যাম্পল প্রথমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের কাছে পাঠাবে।

এই বিভাগ ওষুধের কারিগরি পরীক্ষা করবে। অর্থাৎ ওই ওষুধে যে উপাদানের কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক পরিমাণে আছে কি না এবং যে প্রতিষ্ঠান ওষুধ সরবরাহ করছে, তাদের লাইসেন্স আছে কি না তা পরীক্ষা করে সিটি কর্পোরেশনকে রিপোর্ট দেবে। এরপর সিটি কর্পোরেশন একই ওষুধের স্যাম্পল সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) পাঠাবে।

আইইডিসিআরের কর্মকর্তারা স্যাম্পল পাওয়ার পর মশার ওপর প্রয়োগ করবে। মশার ওপর ওই ওষুধ কতটুকু কার্যকর হল, সে বিষয়ে রিপোর্ট দেবে। তারপর সিটি কর্পোরেশন ওষুধ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেবে। এরপর ওষুধ আনা হলে আরেক দফা পরীক্ষা করবে আইইডিসিআর। পরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ হলে তবেই সেটি ব্যবহার শুরু করা হবে।

নতুন ওষুধ কেনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ওষুধ কিনবে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু তাদের কোনো গরজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের সব সাপোর্ট নিয়ে বসে থাকলেও কোনো লাভ নেই।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মীর নূরুল আলম যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমি বিস্তারিতভাবে অবগত নই। তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

ওষুধ কেনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ওষুধ কিনবে সিটি কর্পোরেশন। আমাদের কাছে নমুনা আসবে উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরীক্ষার পর। আমরা ওই স্যাম্পলের গুণগত মান পরীক্ষা করব। অর্থাৎ যে মশার ওপর প্রয়োগ হবে, সে মশা সংগ্রহ করে তার ওপর প্রয়োগ করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ মশা মরে কি না ও মশার লার্ভা ধ্বংস হয় কি না, সেটা পরীক্ষা করা হবে। আমাদের কাছে নমুনা এলে পরীক্ষা করতে দুই-তিন দিন সময় লাগবে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করতে সময় লাগে।

বর্তমান পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে চলতি মাসের গত ২৬ দিনে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭ হাজার ৫১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৯০ জন।

গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছে ৯ হাজার ৬৫৭ জন। যাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭ হাজার ৪০৭ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২ হাজার ২৪২ জন। এ পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যু ঘটেছে ৮ জনের। এ পর্যন্ত হাসপাতালে একদিনে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে বুধবার ৫৬০ জন।

এদিকে রাজধানীর পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ছয়টি বিভাগে। হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার যুগান্তরকে জানান, এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৭২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছে।

ডিএমসিএইচে রোগীর চাপ : সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) কানায় কানায় ডেঙ্গু রোগী। শুধু মেডিসেন ওয়ার্ডেই সীমবদ্ধ নেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সেবা। শ্রমজীবী এক রোগী জানান, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসেন তিনি।

ডাক্তার পরীক্ষা করে বলে ডেঙ্গু হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বলেন, যেখানে ফাঁকা পাবেন সেখানেই মাদুর বিছিয়ে শুয়ে পড়েন। এরপর সিঁড়ির কোনায় জায়গা পেয়ে এখানেই আছি। আর কোথাও কোনো জায়গা নেই।

চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগী প্রতিদিনই বাড়ছে। অনেক রোগীকেই শয্যা দেয়ার মতো কোনো সুযোগ হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি এন্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৩৬ জন। বর্তমানে ভর্তি রোগী আছেন ৫৬১ জন। এ পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছেন ১৪৫৭ জন এবং ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৯৬ জন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন যুগান্তরকে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেযা হচ্ছে। কিন্তু রোগীর চাপ এত বেশি যে সবাইকে শয্যা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে অ্যারোসল : রাজধানীর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিনামূল্যে অ্যারোসল স্প্রে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্কাউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আপনাদের এ কার্মকাণ্ডে কাউন্সিলররা থাকবেন।

তাদের আমরা লিখিতভাবে এ নির্দেশনা দেব। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৩০টা বাসা এডিস মশামুক্ত করার কার্যক্রম চালু রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার করার জন্য আমাদের টিম রয়েছে। এছাড়া ০৯৬১১০০০৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আপনাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। সূত্র: যুগান্তর