বেবিচক : শাহজালাল বিমানবন্দর কি বিমান বাহিনীর অধীনে চলে যাচ্ছে? ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিমান বাহিনীর জন্য সাড়ে ৪২ কোটি টাকার ওপরে বরাদ্দ : বিমান মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি , প্রঙাপন জারি

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের অধীন শাহজালাল বিমানবন্দর কি বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যা্েছ ? এ প্রশ্ন ওঠেছে খোদ বেবিচকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তাদের মতামত আগে যেখানে বেবিচকের ৩টি পদ প্রেষণে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের দ্বারা পূরণ করা হতো বর্তমানে সেখানে এ বাহিনীর অধীনে বেবিচকের ৫টি ভাইটাল পোস্ট প্রেষণে বিমান বাহিনীর জনবল দ্বারা পূরণ করা হচ্ছে।
এর মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের উপপরিচালক এভসেক পদটিও প্রেষণে বিমান বাহিণীর জনবল কর্তৃক পূরণ করা হয়েছে। এ পদে বেবিচকের জনবল দ্বারা পূরণে বিমান মন্ত্রণালয়ের মতামত থাকলেও তা চেয়ারম্যানের মতামতের ভিত্তিতে উবে গেছে। তাছাড়া শাহজালাল বিমানবন্দরের বেবিচকের ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার’ পদটি বিলুপ্ত করে বিমান বাহিনীর অধীনে ‘পরিচালক এভসেককরণ’ করা হয়েছে।
পুরো শাহজালাল বিমানবন্দর বিমান বাহিনীর অধীনে চলে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিমান বাহিনীর জনবল দ্বারা আলাদা নামকরণে একটি বাহিনী গড়ে তোলার প্রক্রিয়া বেবিচকের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রতিবাদের মুখে ভেস্তে গেছে।
এ দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর জন্য ২০২৫ সালের জুন মাসের বকেয়া পাওনাদিসহ ২৫-২৬ অর্থবছরে ৪২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৪৩ দশমিক ৫০ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক চিঠির মতামতের ভিত্তিতে বিমান মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে।
গত ২৬ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় অনাপত্তির ভিত্তিতে বিমান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ( অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নূরুল হুদা সিএএবি-৩ এর স্বাক্ষরিত প্রঙাপনে এ অর্থ বরাদ্দে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে।
যার স্মারকনং-৩০.০০.০০০০.০০০.০২৬.৩৩.০০০৩.২২.৭০, তারিখ-২৬.০৭-২০২৬।
ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার নীতিমালার আওতায় এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের সচিবকে এর অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ পদে উচ্চ আদালতের আদেশে বেবিচকের জনবল দ্বারা পূরণের এখতিয়ার ছিল। এর আগে সেনা বাহিনীর একজন মেজর পদ মর্যাদার কর্মকর্তা দ্বারা প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার এ পদটি পূরণ করা হতো।
এ ব্যাপারে বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত তা আমলে নিয়ে বেবিচক জনবল দ্বারা ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার’ পদটি পূরণের আদেশ দেন।
সর্বশেষ সেনাবাহিনী থেকে মেজর মিজানুর রহমান এ পদে কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে এ পদ বিলুপ্ত করে বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা দ্বারা ‘পরিচালক এভসেক’ পদ নামকরণ করে চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর বিমান বাহিনীর এভসেকের অধীনে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারিরাও রয়েছেন। বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগের জনবলও রয়েছে। তবে শাহজালালের এই এভসেকের সংখ্যালঘু সদস্যই বিমান বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সাজানো হয়েছে।
বেবিচকের সদর দপ্তরেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা ডিউটি করছেন। বেবিচকের চেয়ারম্যানের স্টাফ অফিসারও বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা। তাছাড়া

বেবিচকের সদস্য অপস, সদস্য নিরাপত্তা, সদস্য এটিএম, সদস্য এফএসআর পদ ৪ টি বেসামরিক সদস্যদের দ্বারা পূরণ না করে প্রেষণে বিমান বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা পূরণ করা হয়েছে।
প্রধান প্রকৌশলীর পদটিও বিমান বাহিনীর সদস্য দ্বারা প্রেষণে পূরণের কথা শোনা যায়।
এ ব্যাপারে বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মতামত ব্যক্ত করে জানান,

আন্তর্জাতিক আইকো /আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বের কোন দেশে বিমানবন্দরে নিয়ন্ত্রণ কোন বাহিনী হাতে থাকে না, শুধু এভিয়েশনের কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়ন্ত্রণ করে তাদের নিজস্ব বিভাগের মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক এভিয়েশনের সাথে কোন বাহিনীর সংযোগ পাওয়া গেলে ঐ বিমানবন্দরের গ্রেট নামিয়ে দেওয়া হয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ এভিয়েশন সেই পথে হাঁটছে, এভিশনের ক্ষতি হবে বাহিনীর উপকার হবে, বাহিনীর হাতে নিয়ন্ত্রণ থাকলে কখনো আগাবে না, শুধু অর্থ খরচ হবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পূর্বে বিমান বাহিনীর পোস্ট তিনটা ছিল,১ মাননীয় চেয়ারম্যান,২ সদস্য অপারেশন,৩ ইডি শাহজালাল, সদস্য প্রশাসন, সদস্য অর্থ, সদস্য নিরাপত্তা, সচিবালয় থেকে নিয়োগ দেওয়া হতো, ফ্যাসিস্ট দোসর সরকারের সময় নতুন নতুন পোস্ট চালু করে বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে বেবিচকে, বিমান বাহিনীর ইচ্ছা মত নিয়ম-কানুন চালু করে বিভিন্নভাবে ভাতা চালু করে তাদের আর্থিক সুবিধা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ ভাতা দিতে দিতে আর্থিক দুর্বল হয়ে পড়ছে।