রাজাকার পরিবারের আত্মীয় ও বিএনপির ঈশ্বরগন্ঞ থানা সভাপতি নিয়ন্ত্রণ করছে সিএএবির ঠিকাদারি কাজ : সিলেট বিমানবন্দরের ৩ হাজার কোটি টাকার কাজে রি-টেন্ডার : ভারতীয় কোম্পানি বোল্ডআউট!

বিশেষ সংবাদদাতা : বিসিবির সহ-সভাপতি ও পরিচালক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ( বেবিচক) শাহজালাল থেকে শুরু প্রায় সব বিমানবন্দরের বড় বড় প্রকল্প ঠিকাদারি কাজ হাতিয়ে নিচ্ছেন বিএনপি- জামায়াতের ঘরানার লোক , রাজাকার পরিবারের আত্মীয় মাহবুব আনাম ও বিএনপির ঈশ্বরগন্ঞ থানার সভাপতি লুৎফুল্লাহিল মাজেদ ওরফে মাজেদ। এইচক্র সিলেট ওসমানি বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের ৩ হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে ননরেসপনসিভ হয়ে কাজ না পেয়ে প্রভাব খাটিয়ে রি-টেন্ডার করিয়ে কাজ বাগিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। শুধু সিলেট বিমানবন্দরই নয় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ,রাডারের কাজ, হ্যাংগার ও এপ্রোনের কাজ, ডমেস্টিকের এক্সটেনশন কাজসহ চট্রগ্রাম বিমানবন্দরের বড় বড় প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছেন। এদের সাথে কলকাঠি নাড়ছেন টেন্ডার কমিটির সদস্য সিএএবির পরিচালক থেকে সদস্য (অর্থ), এবং মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব। অবশ্য সচিবের আর্শিবাদ রয়েছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে , সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন ভবনের ৩ হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের টেন্ডারে ভারতীয় একটি কোম্পানিসহ দেশীয় ৭ টি কোম্পানি অংশ নেয়। ভারতীয় কোম্পানি ছাড়া দেশের ৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই ননরেসপনসিভ হয়। টেন্ডারে কাজ পায় ভারতীয় কোম্পানি। কিন্ত ভারতীয় কোম্পানিকে কার্যাদেশ না দিয়ে রিটেন্ডার করে বিএনপি- –জামায়াতের লোক, রাজাকার পরিবারের আত্মীয় মাহবুব আনাম ও বিএনপির ঈশ^রগন্ঞ থানার সভাপতি লুৎফুল্লাাহিল মাজেদের প্রতিঠান ‘এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে নেবার পায়তারা করা হচ্ছে। টেন্ডার কমিটির সদস্য সিএএবির পরিচালক থেকে সদস্য (অর্থ) পদে সদ্য পদোান্নতি পাওয়া সদস্য (অর্থ) এবং মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিবকে ম্যানেজ করে এ কাজের রিটেন্ডার আহবান করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে সিএএবির চেয়ারম্যান অন্ধকারে, প্রধান প্রকৌশলী অসহায়। সদস্য অপারেশন ও প্লানিংও ভুমিকা রাখতে পারছেন না বলে ঠিকাদাররা বলাবলি করছেন। সেক্ষেত্রে রিটেন্ডারে কাজ বাগিয়ে নেয়ার পায়তারা করছেন এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির কর্ণধাররা। কারণ শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শুরু দেশের প্রায় সব বিমানবন্দরের বড় প্রকল্পে কাজ করছে এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি।
প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে- ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। অথচ আওয়ামি ঘরানার লোকজন সিএএবিতে ঠিকাদারি কাজ করতে পাচ্ছে না। সব কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের ঘরানার লোক। সিএএবির বড় কর্তা থেকে শুরু নীচের পর্যায়ের সব কর্মকর্তাই কি তাহলে বিএনপির লোককে ফেভার করছেন?
ঠিকাদার মাজেদ , মাহবুব আনাম সিএএবিতে আলোচিত-সমালোচিত। দেশের সব বিমানবন্দরেই বড় বড় সব কাজ তাদের। বিশেষ করে ইএম ডিভিশনের সিংহভাগ কাজ পায় মাজেদের কোম্পানি। প্রকৌশলীরা যেন মাজেদের কথায় ওঠ-বস করে থাকে- এমন কথাও শোনা যায়।
এবার আবার মাজেদের সাথে যুক্ত হয়েছেন রাজাকার পরিবারের আত্মীয় ও বিএনপি সাংসদের ভগ্নিপতি মাহবুব আনাম। দুদক মাহবুব আনামকে একবার তলবও করে। গণ মাধ্যমকে তিনি বক্তব্য না দিয়ে বলছেন, ‘আমি মিটিংয়ে আছি’। তবে একটি গণ মাধ্যমের একজন বিমানবন্দর কেন্দ্রিক রিপোর্টারকে ম্যানেজ করে মাঝেমধ্যে তাদের পক্ষের রিপোর্ট করাচ্ছেন বলেও শোনা যায়। সাবেক সদস্য পরি: পরি’র সাথে ছিল মাহবুব আনামের সুসম্পর্ক।
এই মাহবুব আনাম আবার বিসিবির সহ-সভাপতি ও পরিচালকও বটে। এ নিয়ে গত ২৭ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনে’ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কক্স্রবাজারের কুখ্যাত রাজাকার মাওলানা ফরিদ আহমদের জামাতা এবং কক্স্রবাজার থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য এডভোকেট খালেকুজ্জামান ও ইন্ঞিনিয়ার শহিদুজ্জামানের ভগ্নিপতি মাহবুব আনাম।
মাহবুব আনামের শ^শুর মাওলানা ফরিদ আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান আমলে শ্রম মন্ত্রী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছিলেন। মাওলানা ফরিদের নির্দেশনা অনুযায়ী পক হানাদার বাহিনী কক্স্রবাজারে নির্যাতন চালায়।কথিত আছে সেই ক্ষোভেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জনতা তাকে পিটুনি দেয় এবং তাতে তার মৃত্যু ঘটে’।