একুশে বার্তা ডেস্ক : জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রধান জেইদ রাদ আল হুসেইন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার যে নিপীড়ন চালাচ্ছে তা আঞ্চলিক সহিংসতার কারণ হতে পারে। গত সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় মানবাধিকার বিষয়ক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন। জেইদ রাদ বলেন, ‘কখনো কখনো বলা হয়, আজকের মানবাধিকার লঙ্ঘন, আগামী দিন সংঘাত ডেকে আনতে পারে। আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সম্ভাব্য ব্যাপক প্রভাবসহ গুরুতর সঙ্কট মুখোমুখি হচ্ছে মিয়ানমার। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সঙ্কট যদি সীমান্ত সংঘাত সৃষ্টি করে, তাহলে আসন্ন বিরোধ হবে গুরুতর সতর্ক বার্তা।’ তিনি বলেন, রাখাইনে সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে মিয়ানমার। কিন্তু এটি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ন ঢাকতে পারবে না। রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারকদের উদ্বেগহীনতারও সমালোচনা করেন রাদ। অপর দিকে, একজন আন্তর্জাতিক আইনজীবী বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা আজ যে চরম বিপদের মুখে পড়েছে তার জন্য ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শাসন দায়ী। আন্তর্জাতিক এই আইনজীবী বলেন, মিয়ানমার সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও মদদ নিয়েই দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছে। এই ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞের জন্য মিয়ানমার সরকার বা সেনাবাহিনীকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি আমেরিকা ও জাতিসংঘ। মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে গত বছরের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ভয়াবহ দমন অভিযানে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত ও আট হাজার আহত হয়েছে। এ ছাড়া, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছে। ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইনজীবী ব্যারি গ্রসম্যান বলেন, ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরা দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে যে অসংলগ্ন অবস্থা তৈরি করে রেখে গেছে, তার ফলে আজ রোহিঙ্গা সঙ্কট তৈরি হয়েছে। গ্রসম্যান বলেন, এ ছাড়া, বর্তমান মার্কিন সরকারের পূর্ব-এশিয়া বিষয়ক নীতিও রোহিঙ্গা সঙ্কট চরম আকার ধারণ করার জন্য দায়ী বলে তিনি বর্ণনা করেন। এএফপি, পার্সটুডে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
