শহীদ নুর হোসেন দিবস আজ

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : শহীদ নুর হোসেন দিবস আজ। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৮৭ সালের এই দিনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। আজ শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর জিরো পয়েন্টে শহীদ নুর হোসেন চত্ত্বরে শহীদ নুর হোসেন স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্জন করবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। দিবসটি উপলক্ষে একটি বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বানীতে তিনি বলেছেন, আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নুর হোসেন একটি অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক হিসেবে তিনি রাজপথে নেমে এসেছিলেন বুকে পিঠে ’গনতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে। বাণীতে বলা হয়, স্বৈরাচারের বুলেট বুকে বরণ করে নিয়েছিলেন নুর হোসেন। তার সে অবদান বৃথা যায়নি।

তার রক্তের ধারা বেয়েই ’৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসকের পতন ঘটে, মুক্ত হয় আমাদের গণতন্ত্র। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যে স্বপ্ন চোখে নিয়ে জীবন উৎসর্গ করে ছিলেন নুর হোসেন, তাঁর সে স্বপ্ন আজো পুরোপুরি সফল হয়নি। ১৯৯০ এর মুক্ত হওয়া গণতন্ত্র আবার শৃংখলিত হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী একতরফা নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে। ২০১৮ সালেও আরেকটি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাঁয়তারা করছে ক্ষমতাসীনরা। পূনরায় স্বৈরাচারী শক্তির একতরফা নির্বাচনের চক্রান্ত যে কোনো মূল্যে রুখতে হবে। তিনি বলেন, আজও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে শহীদ নুর হোসেন আমাদের প্রেরণা। তাঁর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। আর এজন্য আমাদেরকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, আজকের এই দিনে আমি দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহবান জানাই-আসুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। শহীদ নুর হোসেন স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। আলাদা বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নব্বইয়ে অর্জিত গণতন্ত্রের পথচলাকে আবারো বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এই বাধা দুর করে আমাদেরকে মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। নুর হোসেনের মতো সাহসিকতা নিয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকের এই দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।