এইচএম দেলোয়ার : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা, খেলনা পিস্তল, আসল পিস্তল- সব ঘটনাই তদন্তাধীন। এরমধ্যে বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা এবং চিত্র নায়ক ইলিয়াস কানচনের পিস্তল ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সিভিল এভিয়েশনের গঠিত তদন্ত কমিটিও তদন্ত করছে। বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা ঘটনায় বিমান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির বর্ধিত দুদিনের মেয়াদ কাল শেষ হবে। কানচনের পিস্তল ঘটনাও বিমান মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে। সর্বশেষ যাত্রী মামুনের পিস্তল ঘটনার তদন্ত করছেন সিভিল এভিয়েশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কনসালটেন্ট, বিমানবন্দরের সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার অব. শাহিদুর রহমান।
যাত্রী মামুনের পিস্তল ঘটনায় কেন হেভিল্যাগেজ মেশিনে পিস্তল ধরা পড়লো না, ঘটনার সময় কোন কোন নিরাপত্তরক্ষী ডিউটি করছিলেন, এন্ট্রিহ্যাইজ্যাকিং মেশিনে কারা কারা ডিউটি করছিলেন- এসব প্রাসংগিক বিষয়াদি নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সিএএবির সিনিয়র সিকিউরিটি কনসালটেন্ট শাহিদুর রহমান মাঠে নেমেছেন এবং আজ ১১ মার্চ শাহজালালের ডমেস্টিকে বেশ কয়েকজনকে জিঙ্ঘাসাবাদ করেন।
বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা এবং যাত্রী মামুনের পিস্তল ঘটনার সময় ডমেস্টিকের প্রবেশেগেটে হেভিল্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিনে ডিউট ছিল কাদের- এসব বিষয় তুলে সিএএবির নিরাপত্তারক্ষীরা যারা (আজকে ১১ মার্চ) সকালের পালায় ডমেস্টিকে ডিউটি করছেন- তারা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, ঘটনার সময় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং ৫ মার্চ হেভিল্যাগেজ মেশিনে ডিউটি ছিল ট্রেনিংপ্রাপ্ত স্ক্যানার নিরাপত্তারক্ষী মিজানুর রহমান খান ওরফে নয়নের।
হেভিল্যাগেজ মেশিনে একজন স্ক্যানার দিয়ে দীর্ঘদিন ডিউটি করানো হচ্ছে- এ কথাও তদন্ত কর্মকর্তার সামনে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অন্য একটি স্ক্যানিং মেশিনে ৩ জন এভসেক সদস্য ডিউটি করছেন- যা বৈষম্য- এ কথাও তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান তারা। তদন্ত কর্মকর্তা ধৈর্য ধরে এ সব কথা শোনেন। দুটি ঘটনায়ই নিরাপত্তারক্ষী মিজানুর রহমানের ডিউটি থাকলেও প্রক্সি ডিউট করেন নিরাপত্তরক্ষী ইউনুস হাওলাদার এবং ফজলার। এ দুজনকে সাসপেন্ড করা হলেও মিজানুর রহমান বহাল- এ কথাও তদন্ত কর্মকতার সামনে তুলে ধরেন তার সহকর্মীরা। ডিউটিরোস্টার পরিক্ষা করলেই এর সত্যতা মিলবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তাকে।
‘ আইকাও’ নিয়মানুসারে একটি স্ক্যানিং মেশিনে ২০ মিনিট স্ক্যান করার পর ৪০ মিনিট বিরতি দেয়ার কথা। কিন্ত তা লংঘন করে একজন স্ক্যানারকে দিয়ে হেভিল্যাগেজ মেশিনে ৬/৭ ঘন্টা স্ক্যান করানো হচ্ছে- এ কথাও তারা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান।
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সিকিউরিটি কনসালটেন্ট উইং কমান্ডার অব. শাহিদুর রহমান জানান, তদন্তাধীন অবস্থায় কিছুই বলা যাবে না।
বার বার পিস্তল মেশিনে ধরা ‘না’ পড়ার ঘটনা, একজন স্ক্যানারকে দিয়ে ৬/৭ ঘন্টা ডিউটি করানো, বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা এবং সর্বশেষ যাত্রী মামুনের পিস্তল হেভিল্যাগেজ মেশিনে ধরা না পড়া ও স্ক্যানার মিজানুর রহমানের ডিউটিতে ফজলার,ইউনুস হাওলাদারকে দিয়ে স্ক্যান করানো-এ সব প্রশ্নের উত্তরে শাহজালাল বিমানবন্দরের উপপরিচালক বেনি মধাব চোধুরি জানান, সিকিউরিটির বিষয়টি আমি বলতে পারব না। তবে তিনি জানান, জনবল সংকটের কারনে একজন স্ক্যানারকে দিয়ে ৬/৭ ঘন্টা ডিউট করানো হয়ে থাকে। তিনি আরো জানান, কোন তদন্ত প্রতিবেদনই জমা হয়নি।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
