শাহজালালে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ২ হাজার ২৪৬ পিস মোবাইল ফোন জব্দ : ২৫ বছরের চোরাচালানে সিদ্ধহস্ত সেই সুজনসহ গ্রেফতার ৩

একুশে বার্তা রিপোর্ট : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই হাজার ২৪৬ পিস মোবাইলসহ তিন চোরাকারবারীকে আটক করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। ৭ সেপ্টেম্বর  শনিবার সকালে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনের ২ নম্বর ক্যানোপি এলাকা থেকে তাদের আটক করে। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) আলমগীর হোসেন গ্রেফতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকাল ৭টায় চীনের গুয়াংজু থেকে ইউএস বাংলার ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন সুজন, শাহরিয়ার হোসেন প্রিন্স এবং রফিকুল ইসলাম। সকাল ৮টার সময় বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনের ২ নম্বর ক্যানোপি এলাকায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন এবং শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তাদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে আইফোন, স্যামসাং, ওয়ান প্লাস, টান্সেন্ট গেম, শাওমি ও নোকিয়া ব্রান্ডের ২ হাজার ২৪৬ পিস মোবাইল পাওয়া যায়। আটক মোবাইলের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

আলমগীর হোসেন আরও জানান, আটক সুজন ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার টগরবন্ড গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে এবং শাহরিয়ার হোসেন প্রিন্স ঢাকার ডেমরা থানাধীন পাড়াডগাইর (আমিনবাগ) হাসেরপুল এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে। এছাড়া আটক রফিকুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার নওগাঁ (জয়তগঞ্জ) গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে এই মোবাইল বাংলাদেশ ও ভারতে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়। ভারতীয় নাগরিক জনৈক রাজেশের মাধ্যমে একটি অংশ ভারতে পাচার করা হতো বলে জানা গেছে। আটক সুজন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ ধরনের চোরাকারবারীর সঙ্গে জড়িত বলেও জানা গেছে।

সুজন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ভাংগিয়ে চলেন। তার অন্যতম সহযোগি মনির। এক সময় সুজন-মনির মামা- ভাগিনা পরিচেয়ে দাপটের সাথে চোরাচালান ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সুজনের হাতিরপুলে একটি মোবাইল কোম্পানির অফিস রয়েছে আর মনিরের পল্টনের গাজি ভবনে একাধিক  দোকান রয়েছে। সুজন চীনে চায়না মেয়ে বিয়ে করেছে বলে জানা যায়। তবে সুজন কি চীনা না বাংলাদেশি নাগরিক- তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। গত ২৫ বছরে সুজন কতবার চীন-বাংলাদেশ যাতায়াত করেছে তার পাসপোর্ট পরিক্ষা করলেই তা বের হয়ে আসবে। বাংলাদেশ –চীন তার অবাধ যাতায়াত। গত ২৫ বছরের চোরাচালান জীবনে সুজন আরো কয়েকবার ধরা পড়েছে। কিন্ত প্রতিবারই প্রভাব খাটিয়ে বেরিয়ে এসে পুরনো কাজে মনোনিবেশ করেছে।

গ্রেফতারকৃতদের  বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালান বিরোধী ধারায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর থেকে স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। আগের বছরের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি আরোপ করে শতকরা ৩০ শতাংশ শুল্ক আদায় করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষার কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এতে চোরাচালান বাড়ার আশঙ্কার কথা আমদানিকারকরা আগেই বলেছিলেন।