একুশে বার্তা রিপোর্ট : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের হুন্ডি রুখে দিল এপিবিএন পুলিশ। এ ঘটনায় সৌদি রিয়াল ও ৭ টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক বিদেশগামি যাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ । আটককৃত যাত্রীর নাম জাহাঙ্গীর গাজী।এ দিকে ৩ কোটি টাকার সোনা রুখে দিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আসলো সোনা যাচ্ছিল হুন্ডির মুদ্রা। এক দিনে ডবল স্টান্ডার্ড।
সোমবার (২৬ জুলাই) সকালে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তুরস্ক যাওয়ার প্রাক্কালে বৈদেশিক মুদ্রাসহ তাকে আটক করা হয়। ২৯টি সংস্থার চোখ ফাকি দিয়ে কিভাবে হুন্ডি বিমানে ওঠতে যাচ্ছিল- তা প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে সিভিল এভিয়েশনের কর্তব্যরত নিরাপত্তা অপারেটরে স্ক্যানিংমেশিনের চোখ ফাকি দিয়ে হুন্ডি কিভাবে বিমানে ওঠার প্রাক্কালে ধরা পড়লো- তা অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে। এখানে এয়ারপোর্ট কন্টাক্টে কি ফাটল ধরলো? সিএএবির কিউআর জিন্নাহ- মিজানরা কি ধরাছোয়ার বাইরে? পাচার সংশ্লিষ্ট শতাধিক তালিকাভুক্ত তো এখনও এয়ারপোর্টে, তাদেরকে এখনও শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বদলি করা হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাকি দিয়ে কিভাবে হুন্ডির টাকা বিমানে ওঠতে যাচ্ছিল? পরিচালক নিরাপত্তার অধীনস্থ এভসেক বাহিনীর সদস্যরাই কি দায়িত্ব পালন করলে যে একদিনে দুই বড় ঘটনা ঘটলো শাহজালালে। আসলো ৩ কোটি টাকার সোনা আর যাচ্ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিদেশি মুদ্রা। আটককৃত গাজি ১৩৫ বার কিভাবে শাহজালাল বিমানবন্দন দিয়ে বিদেশে গেল আবার ল্যাগেজ সুবিধা নিয়ে বিমানবন্দর থেকে সটকে পড়লো- এ প্রশানগুলোও সামনে আসছে।
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক পলাশ বৈদেশিক মূদ্রা আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ইমিগ্রেশন শেষে বিমানে উঠার আগ মুহুর্তে তাকে আটক করা হয়।
তার সংগে মূদ্রা থাকার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি করা হলে তার ব্যাগের ভেতরে শার্টের মধ্যে লুকানো অবস্থায় ৮ টি দেশের মূদ্রা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১১ লাখ ৬৫ হাজার সৌদি রিয়াল ছিলো। এছাড়া ইউএস ডলার, ইউরো, মালয়েশিয়া, ওমান, কুয়েত, থাইল্যান্ড, দুবাইয়ের মুদ্রা ছিলো। যার বাজার মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
জিয়াউল হক পলাশ জানান, এই যাত্রী আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। এছাড়া তিনি গত দুই বছরে ১৩৫ বার বিভিন্ন সময় বিদেশে আসা যাওয়া করেন। তিনি মূলত ব্যাগেজ সুবিধায় বিভিন্ন মুল্যবান জিনিসপত্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা নেওয়ার কাজ করতেন।
এপিবিএন পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, এর আগে ২০ জুলাই প্রায় ১৪ কেজি তরল সোনা আটক করে আর্মড পুলিশ। এই সোনা তুরস্ক থেকে আনা হয়। মূদ্রা পাচারকারীও সোনা চোরাচালানের কাজে এই টাকা ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
