‘শাহজালাল’ সম্প্রসারণের দরপত্র স্থগিতের নির্দেশ হাইকোর্টের

ডেক্স রিপোর্ট : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কারিগরি ইউনিটের (সিপিটিইউ) আদেশ না মানায় ১৪ মার্চ বিচারপতি তারিক উল হাকিম এবং বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রায়ে এ নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের রায়ে আরও বলা হয়, সিপিটিইউর নির্দেশনা অনুযায়ী দরপত্রের বিধিবহির্ভূত শর্ত সংশোধন করে আইনসম্মত না হওয়া পর্যন্ত এ দরপত্র প্রক্রিয়ার যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বে এ দরপত্র প্রক্রিয়ায় সিপিটিইউর নির্দেশনা পালন না করায় কারণ দর্শাতে দরপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর রুল জারি করেছেন আদালত। অন্যদিকে এ অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। আজ মঙ্গলবার এই দরপত্র প্রক্রিয়া খোলার তারিখ নির্ধারিত ছিল। সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। এ দরপত্র আহ্বানের পর বিশে^র একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবকাঠামো নির্মাণ করতে আগ্রহ জানায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ওই প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র কিনতে গিয়ে বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে আটকা পড়ে। এসব শর্তের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র কিনতেই পারেনি বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সিপিটিইউর কাছে অভিযোগ জমা দেয় তুরস্কের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টিএভি-গ্যাপইনসাত। কাতারের দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, তুরস্কের ইস্তানবুল, সৌদি আরবের রিয়াদ এবং নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম বিমানবন্দরসহ বিশে^র ২২টি বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিমানবন্দর অবকাঠামো নির্মাণে লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাডি গ্রুপের তালিকায় এক নম্বরে অবস্থান করছে। টিএভি-গ্যাপইনসাত জেভির অভিযোগে বলা হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচক তাদের কাছে প্রথমে দরপত্র বিক্রি করতে রাজিই হয়নি। এ অভিযোগ পর্যালোচনা করে ১৮ অক্টোবর সিপিটিইউ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয় বেবিচককে। চিঠিতে বলা হয়, কোনো পূর্বশর্ত দিয়ে দরপত্র বিক্রি করা বিধিসম্মত নয়। একই সঙ্গে দরপত্রে কয়েকটি শর্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র নীতিমালা এবং সরকারি ক্রয়বিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ কারণে এসব শর্ত সংশোধনের জন্য বলা হয়। সিপিটিইউ থেকে এ চিঠি পাওয়ার পর টিএভি-গ্যাপইনসাতের কাছে দরপত্র বিক্রি করে বেবিচক। কিন্তু সিপিটিইউর আদেশ অনুযায়ী দরপত্র সংশোধন না করেই সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। টিএভি-গ্যাপইনসাত এ বিষয়ে আদালতে রিট দায়ের করে।