শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে রেজাউদ্দিন স্টালিনের বিকল্প নেই

নিউজ ডেক্স : প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মহাপরিচালক পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। গত মাসের ২০ সেপ্টেম্বর কবি রেজাউদ্দিন আহমেদ স্টালিনের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হারুন-অর-রশীদকে মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে সাধারণত কোনো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবি-সাহিত্যিকদের দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর তার বশংবদ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রখ্যাত নাট্যবিশারদ সৈয়দ জামিল আহমেদকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি নানা বিতর্কে জড়িয়ে মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ করে চলে যান। পরবর্তীতে কবি রেজা উদ্দিন আহমেদ স্টালিনকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি তার এই এক বছর মেয়াদে অত্যন্ত দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার সৃজনশীল কাজ ও উদ্যোগের মাধ্যমে মৃতপ্রায় শিল্পকলা একাডেমিকে উজ্জীবিত করে তোলেন। যে শিল্পকলা একাডেমি প্রায় অচল ও নীরব হয়ে গিয়েছিল, রেজাউদ্দিন স্টালিনের একের পর এক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে তা আলোকিত হয়ে উঠে। ব্যাপক সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও সংস্কৃতি অঙ্গণের লোকজন এবং দর্শকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। তিনি দায়িত্ব নিয়ে ফ্যাসিবাদী চক্র এবং তার দোসরদের কবলে থাকা শিল্পকলা একাডেমিকে অনেকাংশে মুক্ত করেন। সন্ধ্যার পর অন্ধকার হয়ে থাকা ভুতুড়ে পরিবেশে শিল্পকলা একাডেমির মাঠ ও তার আনাচে-কানাচ মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হওয়া থেকে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে মুক্ত করেন। পুরো শিল্পকলা একাডেমিকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে আলোকোজ্জ্বল করেন। একের পর এক ব্যতিক্রমী দেশীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন, দেশের গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা দিয়ে জীবদ্দশায় তাদের মূল্যায়ণের উদ্যোগ নেন। উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমিকে গতিশীল করতে সেখানের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে উজ্জীবিত করেন। যেসব জাতীয়তাবাদী ঘরানার শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে শিল্পকলা একাডেমির ধারেকাছে ঘেঁষতে পারতেন না, তাদের নিজ থেকে ডেকে সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের সুযোগ ও উৎসাহ দেন। জাতীয়তাবাদী ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনকে শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করে তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনার ব্যাপক সুযোগ দেন। শিল্পকলা একাডেমিকে দেশীয় ঐতিহ্যের সংস্কৃতির বিকাশ ও ব্যাপকভাবে প্রচারের লক্ষ্যে দুই বছরের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর শিল্পকলা একাডেমিও যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। কার্যক্রম শ্লথ হযে পড়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, শিল্পকলা একাডেমির বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অলিগলিতে বিচরণ এবং বোঝা ছাড়া এই একাডেমি পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। শুধু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হলেই চলে না, একাডেমি পরিচালনা করার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ হতে হয়। রেজাউদ্দিন স্টালিন নজরুল একাডেমিতে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শুধু কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নন, একজন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তিনি জানেন, কীভাবে প্রশাসনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সংাস্কৃতিক কর্মকা- এগিয়ে নিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিল্পকলা একাডেমির একজন কর্মকর্তা বলেন, শিল্পকলা একাডেমিতে রেজাউদ্দিন স্টালিনের অনুপস্থিতি অনুভূত হচ্ছে। তিনি থাকতে শিল্পকলা একাডেমি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে যেভাবে গতিশীল হয়ে উঠেছিল, তা এখন ম্লান হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি, শিল্পকলা একাডেমিকে গতিশীল এবং সংস্কৃতি বিকাশের উৎসব কেন্দ্রে পরিণত করতে তার বিকল্প নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে সাংস্কৃতিক দর্শন, তা বাস্তবায়নে রেজাউদ্দীন স্টালিনের মতো একজন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে পুনরায় মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া উচিৎ। এর বাইরে যাকেই দেয়া হোক না কেন, তার পক্ষে শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম বোঝা এবং তা বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।