সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিলেন এরশাদ : আবারও বললেন সংসদে ইয়াবা সম্রাট রয়েছে

একুশে বার্তা প্রতিবেদন :রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের শরিক ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমনন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তিনি বলেন, দেশে উন্নয়নের মহোৎসবের নামে দুর্নীতির জোয়ার চলছে। সন্ত্রাস ও মাদকে দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এই অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হলে সরকার পরিবর্তনের বিকল্প নাই। তাই সরকার পরিবর্তনের জন্য আসুন সকল রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ইসলামী দল মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলি।

৩০ মে বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে শিক্ষাব্যবস্থা ও যুবসমাজকে ধ্বংস করলেই যথেষ্ট। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছেলেরা জিপিএ ফাইভের অর্থ বলতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার করার কথা একাধিকবার বলেছি, সরকার কর্ণপাত করেনি। বলেছিলাম, সংসদে মাদক সম্রাট রয়েছে, কিন্তু সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ঘরে ঘরে আজ ইয়াবা। যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে।

মাদকবিরোধী অভিযানে কাউন্সিলর ইকরাম হত্যার সমালোচনা করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, সৌদিতে নারী শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। তারা সেখানে গিয়ে ভয়ানক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সেখানে পাঠানো দরকার প্রশিক্ষিত কর্মী।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে পাখির মতো মানুষ গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। কারণ, আমরা মুসলমান, মানুষ নই। ইসলামী দেশগুলো এ ব্যাপারে একমত হতে পারছে না। দেশেও অনেক ইসলামী দল রয়েছে। তারাও একত্রিত হতে পারছে না। সবাইকে এক হতে হবে, এছাড়া মুক্তির পথ নাই।

ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব এম এ মতিনের পরিচালনায় ইফতার পার্টিতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দীন বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এস এম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, জোট নেতা স ও ম আব্দুস সামাদ, আল্লামা আবু সুফিয়ান কাদেরি, আল্লামা হারুন অর রশিদ, যুবসেনার সভাপতি এম এ মোমেন, ফিরোজ আলম, আব্দুল হাকিম প্রমুখ।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফুর রহমান খান, সরদার শাহজাহান, জহিরুল আলম রুবেল, ইসহাক ভূঁইয়া, এম এ রাজ্জাক খান, সুজন দে, ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ ফকির মো. মোসলেম আহমেদ, সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, অ্যাডভোকেটে মো. ইসলাম উদ্দিন দুলাল, এম এ মতিন, অধ্যক্ষ আল্লামা হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।