‘সরকার চায় না খালেদা জিয়া মুক্ত হোক’

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে সরকারের উদ্দেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘কী চান আপনারা? বেগম জিয়া পঙ্গু ও দৃষ্টিহীন হয়ে যাক? আল্লাহ না করুন- আরও কোনও বড় দুর্ঘটনা হোক, এটা চান?’ আমি খালেদা জিয়ার সাথে কারাগারে দেখা করেছি। তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে নিয়ে আমরা শঙ্কিত। ৭৩ বছর বয়সী একজন সম্মানিত বয়োবৃদ্ধ নারীর প্রতি আর জুলুম করবেন না।

৭ মে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি আয়োজিত এক স্মরণ সভা, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি আছে। সুপ্রিমকোর্ট যদি বেগম জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে তাহলেও অন্য মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানোর কারণে তিনি মুক্ত হতে পারবেন না। আর এ সরকার নানা কৌশলে তাকে জেলে আটকে রাখার চেষ্টা করতে পারে। শ্যোন এরেস্টে আমরা উনা’র জামিন করালাম। কিন্তু আরেকটি মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখালো! আরেকটাতে জামিন করালাম আরেকটাতে দেখালো! সরকার চাইলে নিশ্চয় পারে।

তিনি বলেন, কুমিল্লার বিচারক বেগম জিয়ার জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির তারিখ দিয়েছেন ১৫ মে। কারণ ৮ মে সুপ্রিম কোর্টে জামিন হলেও বেগম জিয়ার মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। হাইকোর্ট জামিন দিলেও সুপ্রিম কোর্টে আটকে যায়। আর সুপ্রিম কোর্ট জামিন দিলে লয়ার কোর্টে আটকে যায়। অর্থাৎ সরকার চায় না, বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হোক। আর বেগম জিয়া জেলে থেকেও যে সুস্থ এবং ভালো থাকবেন, সেটাও সরকার চায় না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন,হাইকোর্টে যেদিন মামলা উঠে, সেই দিনই খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার কথা। আর ওই দিন যদি জামিন হতো তাহলে এই শ্যোন এরেস্ট আর হতো না। কিন্তু সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ আলোচনা শুরু করে দিয়েছে যে, কাল যদি বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলে কিংবা অংশগ্রহণ করে তাহলে সংসদ নির্বাচনও স্থগিত করা হবে কি না? কারণ সেখানেও আওয়ামীলেিগর বিজয়ী হওয়ার কোনও সুযোগ বা সম্ভাবনা নেই। আমরা নিজেরাও বুঝি, ঢাকা উত্তর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত একই সূত্রে গাঁথা। এর কারণ একটাই, সেটা হলো- সরকার অনুভব করেছে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে তাদের জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ সিটি নির্বাচনে ধানের শীষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এটা দেখে সরকার নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী।