একুশে বার্তা রিপোর্ট : প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার বিমানবন্দরকে যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্প নেয় সরকার। এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প। এর অধীনে একটি অত্যাধুনিক রানওয়ে নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার জন্য সকল আয়োজনও সম্পন্ন হয় , কিন্ত বাধসাধে মন্ত্রিসভা কমিটি, এ কমিটির দ্বিমতের পর তা বাতিল করতে বাধ্য হয় সিএএবি কর্তৃপক্ষ। পুন: টেন্ডারে আবারে কালো তারিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করছে সিএএবি কর্তৃপক্ষ।
এই বিমানবন্দরে আভ্যন্তরীন দরপত্রে জেনারেটর ক্রয় কেলেংকারির ঘটনায় সিএএবির ৬ প্রকৌশলীর জেল হয়, তারা জামিনে আছেন, এক প্রকৌশলী ধরাছোয়ার বাইরে, তার নামে এখনও সমন হয়নি, এখন পর্যন্ত তিনি কোর্টে হাজিরও হননি। তিনি ইএম বিভাগের প্রকৌশলী শহিদুল ইলাম মন্ডল। তার দাবি তাকে তৎকালিন প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামি সহকারি প্রকৌশী ভবেশ চন্দ্র’র যোগসাজশে ফাসিয়ে দেয়া হয়েছে, একই বিভাগের প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সেলিমকে সেইভ করা হয়েছে।জেনারেটর কেলেংকারির ঘটনায় দুই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী- (একজন একটিং) চেকে সই করেন। ইতিমধ্যেই মামলার চার্জশীট দিয়েছে দুদক। দুদকের চার্জশীটে ওই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী)’র সংশ্লিষ্টতা খুজ পায়নি দুদক, ফলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এ দিকে একই বিমানবন্দরের ফেল্টের কারিগরি পরিদর্শনে সরকারের কয়েক কোটি টাকা খরচ করে কারিগারি কাজের সাথে সম্পৃক্ত নন এমন কর্তাব্যক্তিদেরও ফেল্ট পরিদর্শনে বিদেশে পাঠায় সিএএবি কর্তৃপক্ষ। এদের কাতারে ডিডি (অডিট) শাহিনা এবং মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব রয়েছেন।
ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির সদস্যদের প্রবল বিরোধিতায় দরপত্র প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে-রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে সেখানেও ঢুকে পড়েছে বিশ্বব্যাংকের একটি কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য যে চারটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে নির্ধারন করেছে তার মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানায়, ‘কনসালটেন্সি সার্ভিস ফর এক্সটেনশন অব রানওয়ে অব কক্সবাজার এয়ারপোর্ট’-শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবার কথা। এর জন্য যে দরপত্র আহবান করা হয় তাতে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের দরপত্র জমা দেয়। সেগুলো থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে নির্ধারন করা হয়। এগুলো হচ্ছে- জার্মানির প্রতিষ্ঠান এয়ারপোর্ট কনসালটিং পার্টনার্স জিএমবিএইচ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান উজু ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লি. এবং সানজিন ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড আর্কিটেক্সচার কো. লি. ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান মেইনহার্দ (সিংগাপুর) পিটিই লি. এবং এডিপি ইঞ্জিনিয়ারি, জাপানের নিপ্পন কোইকো. লি. এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইওশিন ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লি.। এর মধ্যে ইওশিন ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লি. বিশ্বব্যাংকের একটি কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রকল্পরে স্থাপনা কাজ বা ইপিসি কাজের দরপত্র একবার বাতিল হয়ে গেছে। কার্যাদেশ দেয়ার জন্য ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিতে যে কোম্পানিটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছিলো তা ছিলো বিশ্বব্যাংকের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রীসভা কমিটির সভায় কমিটির কয়েকজন সদস্য দরপত্র মূল্যায়নের অস্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বেবেচিক কিংবা মন্ত্রণালয়ের কোনো সদস্য সদুত্তর দিতে পারেননি। মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান রানওয়ে প্রকল্পের জন্য তাদরে দরপত্র জমা দনে। পরর্বতীতে প্রশংসনীয় গতিতে মূল্যায়ন কাজ শষে হয়। দশটি মধ্যে কেবল একটি দরপত্র গ্রহণযোগ্য হয় মূল্যায়ন কমটিি এবং সংশ্লষ্টি কর্তৃপক্ষের বিচারে। দুঃখজনক হলেও, এ সকল দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বেবিচকের মূল্যায়ন কমিটি বা সংশ্লিষ্ট র্কমর্কতারা চরম অনিয়মের আশ্রয় নেন বলে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা সদস্যদের কাছে প্রতীয়মান হয়। তাই কমিটির বৈঠকে পুনরায় যাচাই এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তদন্তে দরপত্রগুলো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ আইএমইডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আইএমইডিও তাদের তদন্তে মুল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম দেখতে পায়। পরবর্তীতে মন্ত্রীসভা কমিটি দরপত্রটি বাতিল করে দেয়। প্রকল্পটির জন্য পুনরায় দরপত্র আহবান করা হলে গত পহেলা অক্টোবর জমা দেয়ার দিন ধার্য্য করা হয়। সংস্থার কাজের জন্য একে একে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করার ফলে বেবিচকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হবার পরও যথাসময়ে তা বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এখানে কেবল একটি প্রকল্পের দুটি কাজের বিষয় তুলে ধরা হলো। এসব কর্মকাণ্ডকে লঘূ-ভুল, অবহেলা, উদাসীনতার বাহানা দিয়ে অনিয়মের ধারাবাহিকতা চলমান রেখে অথবা যে বা যারা এসবের সাথে জড়িত তাদেরকে বহাল তবিয়তে রেখে প্রকল্পগুলোর সাফল্য আশা করা নিতান্তই বোকামি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প পরিচালক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলা হওয়ায় তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে! : এ দিকে এ সংক্রান্ত দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়াতেও সক্রিয় সেই পুরনোরাই। এখানে আমলা রয়েছেন ধরাছোয়ার বাইরে, সাসপেন্ডকৃত পিডি আমিনুল হাসিব এর সাসপেন্ড প্রত্যাহার হয়নি , আগে যাদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে টেন্ডারটি বাতিল হয়েছিল তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এমনকি অন্যত্র সরিয়েও দেয়া হয়নি। ফলে আগের প্রকল্প পরিচালকসহ অন্য অনেকেই এর সঙ্গেই রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এর আগের দরপত্র বাতিল করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এর আগে মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তার রিপোর্টের ভিত্তিতে এ প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) আমিনুল হাসিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি চাকরি ফিরে পাবার তদবির করছেন, কিন্ত এখনও পাননি।
এ দিকে ২ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে প্রথম দফায় ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও খোদ প্রকল্প পরিচালক এখনও বহাল আছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প পরিচালক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব। শীর্ষ আমলা হওয়ায় তিনি আছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ তার হাত দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে প্রথম দফায় দাখিলকৃত টেন্ডারের সব ধরনের কার্যক্রম। এ ঘটনার জন্য তাকে শোকজ পর্যন্ত করা হয়নি।
প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসাধু কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরানো হয়নি, ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে পুনঃদরপত্রকরণ প্রক্রিয়াতেও সেই একই কুশীলবরা সক্রিয়। এ অবস্থায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এবং দরপত্রে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলো আবারও একই দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন।
তাদের বক্তব্য, যদি এ দফায় কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হয় তবে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার এ মেগা প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, আগে খুব বেশি অনিয়ম হয়েছে তা বলা যাবে না। তবে আরও বেশি স্বচ্ছ করার জন্য টেন্ডার বাতিল করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, যেহেতু বড় অনিয়ম হয়নি তাই পুরনোদের সরানো হয়নি। তারা অভিজ্ঞ সে বিবেচনাতেই বহাল আছেন। তবে একটি কোম্পানিকে কেন রেসপন্সিভ করা হয়েছিল তা নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্র্রতি বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়। এর ফলে বিমানবন্দরের বর্তমান ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েকে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে ১৭শ’ ফুট সম্প্রসারিত করে ১০ হাজার ৭শ’ ফুটে উন্নীত করা হবে। কিন্তু উন্নয়নমূলক প্রকল্পে জালিয়াতি এবং দরপত্র মুল্যায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হয়।
এ কারণে মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির প্রথম টেন্ডার বাতিল করে পুনঃদরপত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় দফায় টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছে। ১ অক্টোবর পুনঃদরপত্র উন্মুক্ত ।
প্রথম দফায় ১০টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র জমা পড়ে। পরে দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বেবিচকের মূল্যায়ন কমিটি চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। ২৫ জুন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দরপত্রটিতে নানা অনিয়ম ও ভুল ধরা পড়ে।
এ কারণে বিষয়টি যাচাই এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তদন্তে দরপত্রগুলো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ধীন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) পাঠানো হয়। আইএমইডির অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, রেস্পন্সিভ দরদাতা সিআরসিসি হারবারের অভিজ্ঞতার সনদে কারও স্বাক্ষর নেই।
স্বাক্ষরবিহীন এ সনদে চীনের গুয়ানজু প্রদেশে একটি প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য চুক্তির তারিখ উল্লেখ করেছেন ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর। কিন্তু কাজ শুরুর প্রকৃত তারিখ উল্লেখ করেছে ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর।
অর্থাৎ চুক্তির তিন বছর আগেই কাজ শুরু করছিল প্রতিষ্ঠানটি। আবার কাজ শেষ করার তারিখ দেখানো হয়েছে ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর। কিন্তু সম্পন্ন কাজ হস্তান্তরের তারিখ দেখানো হয় ২০১৫ সালের ১৮ জুন। অর্থাৎ, কাজ শেষ করার প্রায় ১.৫ বছর আগেই সম্পন্ন কাজ হস্তান্তরের দাবি করেছে সিআরসিসি হারবার।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার নির্দেশে আইএমইডিতে পাঠানো কাগজপত্রেও ‘টেম্পোরারি কন্সট্রাকশন কন্ট্রাক’র সপক্ষে কোনো দলিল ছিল না। অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত ইংরেজি অনুবাদের যেসব কাগজ সংযুক্ত করা হয়েছে সেখানে চায়না বা বাংলাদেশের কোনো নোটারি পাবলিক বা নিবন্ধিত কোনো অনুবাদকের স্বাক্ষর বা সিল ছিল না। এর আগে একই ধরনের ঘটনার জন্য বিশ্বব্যাংক এ প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।
চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস দাখিলকৃত কাগজপত্র নির্ভুল ও সঠিক এ সংক্রান্ত কোনো সনদ দেয়নি। দরপত্রের শর্তে কমপক্ষে ১৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। সিআরসিসি হারবারের মূল গ্রুপ সিআরসিসির নিজস্ব বিবরণী অনুযায়ী, কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ২০০৭ সালে হলেও সিআরসিসি হারবারের প্রতিষ্ঠার তারিখ ২০১১ সালের ৭ জুলাই। এ অনুযায়ী মূল কোম্পানির বয়সই ১৩ বছর। একাজে অভিজ্ঞতাই চাওয়া হয়েছে ১৫ বছর।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জর্জিয়ার একটি প্রকল্পে বড় ধরনের জালিয়াতির জন্য বিশ্বব্যাংক ২০১৯ সালের ৫ জুন সিআরসিসি এবং এর অধীন সব কোম্পানিকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে।
চলতি বছরের ৩ মার্চ ওই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ২৪ মাসের জন্য শর্ত সাপেক্ষে সিআরসিসির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন সংশ্লিষ্ট কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ উন্নয়ন সহযোগী কোনো দেশ বা সংস্থার কোনো প্রকল্প কাজে অংশ নিতে পারবে না। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের বিশ্ব ব্যাংকের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর এ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করে বেবিচক। ওই সময় বিশ্বব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা থাকার তথ্য গোপন করে দরপত্রের সিডিউল কেনে সিআরসিসি হারবার। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ দফা দরপত্র খোলার তারিখ পেছানো হয়।
আইএমইডি দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও যেসব অনিয়ম দেখতে পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- মূল্যায়ন কমিটি থেকে পোস্ট কোয়ালিফিকেশন সম্পাদন না করা। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে দাখিলকৃত বিভিন্ন আর্থিক ও কারিগরি দলিলপত্রও যাচাই করা হয়নি। পিপিআর অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় যে কোম্পানিটির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল সেটির বার্ষিক টার্নওভারও যাচাই করেনি মূল্যায়ন কমিটি।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের অগ্রাধিকার প্রকল্পের দরপত্রে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা ঠিক হবে না। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পূর্বের দরপত্রের অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই যথাযথ আইনের আওতায় আনা উচিত।
তারা আরও মনে করছেন, পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়া একটি সুদক্ষ, অভিজ্ঞ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
