বিশেষ সংবাদদাতা : রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংক কুর্মিটোলা শাখার ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান খান ব্যাংকের টাকায় পার্সোনাল ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। তার ব্যবসার পার্টনার সিভিল এভিয়েশনের ঠিকাদার মাছুম-নূরে আলম- জাহাংগীর। তবে মাছুমকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ৪টি মাইক্রোবাস দিয়ে তারা পরিবহন ব্যবসা করছেন। তবে মাছুম এয়ারপোর্টে গাড়ির ব্যবসার কথা স্বীকার করেন।
ম্যানেজার ব্যাংকের টাকা সিভিল এভিয়েশনের ঠিকাদারদের কার্যাদেশের ওপর ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া লোন দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই টাকা লোন দেয়ার সুযোগে ম্যানেজার শতকরা ১০ ভাগ কমিশন বাণিজ্য করে থাকেন। ব্যাংকের মহিলা কর্মকর্তা জেবা ফারহানার সাথে ম্যানেজারের শালি- দুলাভাইয়ের সম্পর্কের কথা সবার মুখে মুখে । এসব অনিয়মের পরও ম্যানেজার মিজানুর রহমান খান এই কুর্মিটোলা শাখায় প্রায় সাড়ে তিনবছর গুজরান করলেও তাকে বদলি করা হচ্ছে না। তিনি নাকি বলে বেড়ান, আমাকে এখান থেকে সরায় এমন সাধ্য কার? জাহাংগীর নামের একজন বহিরাগতের সাথেও ম্যানেজারের পার্টনার ব্যবসা ছিল, কিন্ত ম্যানেজারের আওতার বাইরে যাওয়ায় তাকেও বের করে দেয়া হয়েছে। ম্যানেজারের এ সব অপকর্মের যোগানদাতা আরেকজন বহিরাগত। আলম নামের এই বহিরাগত দীর্ঘদিন যাবত ব্যাংকের এই শাখায় অবস্থান করে ম্যানেজারের ফুটফরমায়েসের নামে সব অপকর্মের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করছে।
গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, এই ম্যানেজার আমাদের বৈধ চেক ভাংগাতে গেলেও নানা অজুহাতে হয়রানি করে থাকেন। হিসাব বন্ধ করারও হুমকি দিয়ে থাকেন। সিএএবির প্রায় পাচ শতাধিক ঠিকাদারের লেনদেন হয় এই কুর্মিটোলা এই শাখায়। ম্যানেজার ঠিকাদারদের কার্যাদেশের ওপর লোন দিয়ে শতকরা ১০ টাকা হিসাবে কমিশন বাণিজ্য করে থাকেন বলেও অভিযোগ করেন ঠিকাদাররা।সোনালী ব্যাংকের সরকার দলের সিবিএ নেতা এবং স্থানীয় কার্যালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা , মিরপুর কার্যালয়ের ডিজিএমকে ম্যানেজ করেই ম্যানেজার মিজানুর রহমান খান অপকর্ম করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে।
একাধিক গ্রাহকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই শাখায় যথাসময়ে ট্রানজেকশন শুরু হয় না। ম্যানেজার তার ইচ্ছামাফিক সময়ে অফিসে আসেন। অফিসে এসে তিনি ব্যাংকের কাজ ফেলে গাল-গল্পে মেতে ওঠেন। যখন খুশি তখন ম্যানেজার পাশের হোটেলে বসে ,বটতলা চায়ের দোকানে বসে আড্ডায় মেতে ওঠেন। অনেকটা স্বেচ্ছাচারভাবেই তিনি ব্যাংকের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কারন তিনি তো ম্যানেজার , তার ওপরে এই শাখায় কথা বলার কেউ নেই, তিনি তো হুকুমদাতা। এ ভাবেই ব্যাংকের এই শাখাকে তিনি ব্যক্তিগত অফিস বানিয়ে ফেলেছেন। যখন খুশি অফিসে আসেন আবার যখন খুশি চলে যান। এতে ব্যাংকের কাজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে, গ্রাহকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে গত বৃহস্পতিবার তার অফিসে গিয়ে না পেয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
