স্বঘোষিত ভন্ডপীর মৃধাকে বিমানের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান পদে পদায়ন : গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটে অফলোড ! নিরাপত্তা সুপার আনিচ-নাজনীনকে আগলে রাখা-

বিশেষ সংবাদদাতা : বিমানের নয়া ডিজিএম (নিরাপত্তা) মৃধার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত কানেকটেড, ভন্ডপীরগিরিসহ নানা অভিযোগ ওঠেছে। চাকরিজীবনে বার বার সাসপেন্ড, পদাবনতি, চাকরিচ্যুত্য করার পরও আবার তাকে দ্বিতীয়বার চাকরিতে পুন:বহাল করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিমানের নিরাপত্তা প্রধানের অতীত কর্মকান্ডে ভিভিআইপির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। আর এ জন্য গত ১৯ জুলাই তাকে প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটে অফলোড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ডিজিএম মুখলেছুর রহমান মৃধা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এ ব্যাপারে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ৮ জুন জাপানগামি প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইডে বিমানের বিএনপি-জামায়াত কানেকটেড পরিচালক এয়ারপোর্ট সার্ভিস আতিক সোবহানকেও অফলোড করা হয়।
গত ১১ জুলাই বিমানের প্রশাসন বিভাগের একজন জিএমের স্বাক্ষরে মুখলেছুর রহমান মৃধাকে ডিজিএম নিরাপত্তা পদে বদলি করা হয়। এর এক সপ্তাহ পরেই তাকে ভিভিআইপি ফ্লাইটে অফলোড করা হলো এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। যে বিভাগ থেকে ভিভিআইপি ফ্লাইট মনিটরিং করা হয়ে থাকে সেই বিভাগের প্রধানকেই ভিভিআইপি ফ্লাইটে অফলোড করার বিষয়টি বিমানে চাউড় হয়ে গেছে।
বিমানে কর্মরত বংগবন্ধু ও বংগবন্ধু কন্যার শুভাকাংক্ষীবৃন্দ ‘স্বঘোষিত ভন্ডপীর মো. মোখলেছুর রহমান মৃধা (ব্যবস্থাপক) উপ-মহাব্যবস্থাপক নিরাপত্তা বর্তমানে এর অতীত চাকুরিকালীন কার্যকলাপের কিছু খতিয়ান’ শিরোনামে বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, শিক্ষাজীবনে সব তৃতীয় শ্রেনীধারি সেনা বাহিনীর সিপাহি ক্লার্ক থেকে ১৯৮৬ সালে কনিষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে মুখলেছুর রহমান মৃধা বাংলাদেশ বিমানে যোগদান করেন। বিমানে আসার পর ইত্যাকার দুনীতি, পাচার, টাকা আত্মসাত, কারন দর্শানো নোটিশ, তিরস্কার, সতর্ক , তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অপকর্মে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তাকে পদাবনতি এবং সর্বশেষ ২০০৫ সালে চাকরিচ্যুত্য করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বিমানের অন্যান্যের সাথে তিনি আবার চাকরি ফিরে পান।
২০১৩ সাল থেকে আবার তিনি তার অতীত স্বভাবের কারণে দুর্নীতি কর্মকান্ড শুরু করেন। মুদ্রন ও প্রকাশনা বিভাগের ২০১৩-১৪ সালে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেন।
২০১৪ সালে তাকে পদাবনতি করে ম্যানেজার করা হয়। এ শাস্তি মওকুফের জন্য বার বার আবেদন করলেও তার অতীত দুর্নীতির জন্য তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি।
কিন্ত এবার ২০১৯ সালে ১১ জুলাই রহস্যজনক কারণে তাকে ডিজিএম পদে আবার পদোন্নতি দিয়ে নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। যার সূত্রনং-৩০.৩৪.০০০.০৭০.১৪.০০.১১.০৬ তারিখ: ১১-০৭-২০১৯।
অসৎ, দুর্নীতিবাজ, ভন্ডপীর, জামায়াত-বিএনপিপন্থী জংগি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ন পদে নিয়োজিত রাখা দেশ ও জাতি তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য হুমকিও বটে- এমন অভিযোগ উপসংহারে বলা হয়েছে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, ডিজিএম মৃধা দায়িত্ব নিয়েই তার নিরাপত্তা বিভাগ ঢেলে সাজানো শুরু করেছেন। কিন্ত নিরাপত্তা সুপার আনিচ – যাকে ইতিপূর্বে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ভিভিআইপি ফ্লাইটে নিষিদ্ধ করা হয়, তাকে ঢাকার বাইরে স্টেশনে বদলি করা হলেও তিনি (ডিজিএম মৃধা) তার ( নিরাপত্তা সুপার আনিচ) পোস্টিং বাতিল করে এক দাপ্তরিকপত্র জারি করেছেন।
এ দিকে মহিলা নিরাপত্তা সুপার নাজনীনের সম্পর্কে এপিবিএন পুলিশের এসপির নির্দেশে পাচার বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিস্টতার বিষয়টি এপিবিএন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। কিন্ত নয়া ডিজিএম নিরাপত্তা তাকে আগলে রেখেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। ইতিপূর্বে নিরাপত্তা সুপার নাজনীনের বিরুদ্ধে বিমানের লজ এন্ড ফাউন্ড শাখা থেকে পণ্য চুরির অভিযোগে মামলা হয়। নিরাপত্তা সুপার নাজনীনের বডি ফিটিংসে পণ্য পাচারের সংশ্লিষ্টতা গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে এবং তা খতিয়ে দেখছে।