২৫ জুলাই পাক নির্বাচন : মাঠে নামলেন বেনজিরপুত্র : আসছেন নওয়াজকন্যা

আন্তর্জাতিক ডেক্স : পাকিস্তানের নির্বাচনে এবার দুই চমক। একজন মরিয়ম নওয়াজ- ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) দলের নতুন কাণ্ডারি। অন্যজন বিলাওয়াল ভুট্টো- পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) একমাত্র ‘তলোয়ার’।

দুইজনই দেশের বড় দুই দলের উত্তরাধিকারী। দলের আশা-ভরসা, জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি। দু’জনই পাকিস্তানের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর ছেলেমেয়ে। নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টো- পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী।

মা-নানার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে রোববার থেকেই প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েছেন ২৯ বছরের তরুণ বিলাওয়াল ভুট্টো। নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন ভুট্টো বংশের নতুন এই ‘রাজপুত্র’।

অন্যদিকে মায়ের চিকিৎসার কারণে লন্ডনে থাকা মরিয়ম আগামী সপ্তাহেই দেশে ফিরছেন। বাবা নওয়াজ শরীফের আসন থেকে নির্বাচন করছেন রাজনীতিতে ‘বকলম’ ৪৪ বছর বয়সী মরিয়ম।

আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে ১৩তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের জুলাই মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করেন সুপ্রিমকোর্ট। পরে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।

এরপরই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন মরিয়ম। গত বছর উপনির্বাচনে মা বেগম কুলসুম নওয়াজের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। এবারের সাধারণ নির্বাচনে লাহোরের এনএ১২৭ ও পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির পিপি১৭৩ কেন্দ্র থেকে লড়ছেন মরিয়ম। সিংহ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামছেন তিনি।

কিন্তু এখনও নির্বাচনী প্রচারে নামতে পারেননি। মায়ের চিকিৎসার কারণে বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে রয়েছেন মরিয়ম। আগামী সপ্তাহে বাবার সঙ্গে দেশে ফিরবেন বলে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে জিও নিউজ।

রাজনৈতিক দলে কখনই কোনো পদে ছিলেন না মরিয়ম। রাজনীতির কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতাও নেই তার। তবুও দলের প্রধান আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। তার কাঁধেই ভর করে এগিয়ে যাবে দল- এমন প্রত্যাশা বাবা নওয়াজসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে মাঠ গরম করে ফেলেছেন ভুট্টো পরিবারের তৃতীয় উত্তরসূরি বিলাওয়াল। তীর প্রতীক নিয়ে করাচির এনএ-২৪৬ (লায়ারি) আসনে লড়ছেন তিনি।

‘গো বিলাওয়াল গো’ স্লোগানে প্রচারণায় নেমেছেন বিলাওয়াল। নানা, নানি, মা ও বাবার পর পিপিপির চেয়ারম্যান পদে বসেন তিনি। ১৯৬৭ সালে নানা জুলফিকার আলী ভুট্টো পিপিপি প্রতিষ্ঠা করেন।

নানার পর ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দলের নেতৃত্ব দেন নানি নুসরাত, এরপর মা বেনজির ২০০৭ সাল পর্যন্ত এবং কিছুদিন বাবা আসিফ আলী জারদারি। এরপর ২০০৭ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে পিপিপির প্রধান হন বিলাওয়াল। পারিবারিক রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে এখানে এসেছেন তিনি।

তার নেতৃত্বে আসন্ন নির্বাচনে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও সমর্থকদের মধ্যে আকর্ষণ বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের একমাত্র প্রধান বামপন্থী দল পিপিপি।

দলকে নতুন করে পুনরুত্থানের চেষ্টা চালাচ্ছেন তরুণ বিলাওয়াল। ২০০৭ সালে বেনজির নির্বাসন থেকে ফিরে আসার পর আততায়ীর হাতে খুন হওয়ার আগপর্যন্ত পিপিপির জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। মায়ের মতো বিলাওয়ালও অক্সফোর্ডের সাবেক শিক্ষার্থী। দলের কর্মীদের বিশ্বাস, তরুণ এই নেতা দলের ভেতর প্রাণসঞ্চার করছেন।