২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি বাতিল

ডেক্স রিপোর্ট : দেশে করোনা আক্রান্ত আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো চারজন। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪-এ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসছে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা অর্পণের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও। এ বছরের স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে এদিকে গত ২১ মার্চ  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি বাংলাদেশে প্রয়োজনে লকডাউন বা জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ দিয়েছে। অবস্থা অবনতির দিকে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে চারটি রুট ছাড়া অন্যসব রুটে বিমান যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিকালে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই বৈঠকেই স্বাধীনতা দিবসের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয় বলে বঙ্গভবনের প্রেস উইং সূত্র জানিয়েছে। বিকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে বঙ্গভবনে যান। সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। আলোচনায় জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে এ বছর ২৬শে মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বঙ্গভবনে অনুষ্ঠেয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।

প্রয়োজনেলকডাউনবা জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ ডব্লিউএইচও: বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস ছড়ানোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে লকডাউন কিংবা জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি বর্ধন জং রানা। শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের বাসভবনে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। জরুরি অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইছেন এটা তো আসলে সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে যদি জারি করতে পারেন, তবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যেতে পারে। সরকারের প্রতি এটা আমাদের পরামর্শ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি বলেন, ভয় পেলে চলবে না। সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বড়সড় বৈঠক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময় মেয়র সাঈদ  খোকন বলেন, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আগামী দিনে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তবে বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটা দেশে কমপ্লিট লকডাউন ডিফিকাল্ট একটা বিষয়। তাছাড়া কত সময় পর্যন্ত লকডাউন থাকবে তার একটা বিষয় রয়েছে। কত সময় পর্যন্ত পারশিয়াল লকডাউন করা যায়, ঢাকা বা অন্য কোথাও বা ইমারজেন্সি লকডাউন করা যায় কিনা, তা আজকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এবিএম আবদুল্লাহও ছিলেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এমন পরিস্থিতিতে লকডাউন ও জরুরি অবস্থার বিষয়গুলো সামনে আসছে। এটাতো আমরা বললে হবে না। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে। সরকার যদি ভালো মনে করে তাহলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবশ্যই এটা করতে পারে।

আরও জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত : বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরো ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। শনিবার মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৪ জন। এনিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪। মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ২ জন। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা গত ২ মাস ধরে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেছি। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ওনাকে অবহিত করেছি। এই পরিস্থিতিতে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, আমাদের আতঙ্কিত হবার কিছু নাই। অনেক দেশের থেকে আমরা ভালো আছি। তাই বলে আমরা বসে থাকবো তা নয়। প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবস্থা পরির্তন হচ্ছে তা লক্ষ্য করছি। সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের পদক্ষেপগুলো জোড়দার করছি এবং বাড়িয়ে নিচ্ছি।

জাহিদ মালেক বলেন, আপনারা জানেন ইতোমধ্যে এয়ারপোর্টের মাধ্যমে প্লেন আসা এবং ল্যান্ডপোর্টের মাধ্যমে আসা-যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ না হলেও অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে। সামনে যদি পরিস্থিতি আরো অস্বাভাবিক হয়, সামনের দিনগুলোতে সামান্য যেটুকু আছে সেবিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন আনুমানিক ৫০ জন। বিভিন্ন জেলায় উপজেলায় কোয়ারেন্টিনের সংখ্যা এপর্যন্ত ১৪ হাজারের মতো। যারা গত মার্চের ১ তারিখ থেকে এপর্যন্ত এসেছে তাদের একটি তালিকা আমরা বিমান মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিয়েছি। এই তালিকা আমরা সারা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছি যার মাধ্যমে যারা বিদেশ থেকে এসছে এবং যারা আত্মগোপন করেছে তাদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনে নেবার জন্য। মার্চের আগে যারা এসেছে অর্থ্যাৎ জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে তাদের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাই। তাদের প্রায় ৬০ দিন পার হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন আমরা বিভিন্ন হাসপাতাল প্রস্তুত রেখেছি। নতুন যে হাসপাতালের কথা চিন্তা করেছি তারমধ্যে একটি হলো শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট এবং শেখ হাসিনা বার্ণ ইন্সটিটিউট। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এই ২টি হাসপাতাল আমরা যেকোন সময় গ্রহণ করে চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারবো। তাছাড়াও আমরা কোয়ারেন্টিনের জন্য উত্তরার দিয়াবাড়ি এবং তাবলীগ জামাত যেখানে হয় এই ২টি জায়গার জন্য আর্মফোর্স ডিভিশনে চিঠি দিয়েছি। তাদের কাছে হস্তান্তর করেছি এবং দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের ভালো কিছু খবর আছে, সেটা হলো আমাদের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা আইইসিডিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিটিউট) এ করা হয়। একটি স্থানে করা হলেও ওখানে কিন্তু এখন ৮টি মেশিন কাজ করছে। আমরা বিভিন্ন স্থানে এগুলো স্থাপন করবো। কিন্তু এটা রাতারাতি স্থাপন করা সম্ভব হয়না। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি এরজন্য অনেককিছু সরঞ্জাম লাগে। যেখানে রাখবো সেখানের প্রস্তুতি লাগে। একটি ল্যাব লাগে সেই ব্যবস্থাও আমরা করেছি।

আমরা আগেও বলেছি সকল ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ছুটি স্থগিত করেছি। আপনাদের এটাও বলতে চাই আইসিইউ (ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট) অনেক সময় প্রয়োজন হয়। যারা বেশি গুরুতর হয়ে যান তাদের জন্য। আমরা নতুন আইসিইউ ইউনিট ১শ’ স্থাপন করছি। আমরা পর্যায়ক্রমে মোট চারশ’ আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করবো। আরো যেগুলো প্রয়োজন পিপি (পার্সনাল প্রটেকটিভ) স্যুট, মাস্ক এগুলো কয়েক লক্ষ আমাদের হাতে এসেছে। প্রতিনিয়ত আমরা এগুলো সংগ্রহ করছি। চীনে আমরা বড় একটি অর্ডার দিয়েছি, এগুলোও আমরা নিয়ে আসবো। আমরা নতুন যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে চীন থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসা। ডাক্তার-নার্স যারা উহানে কাজ করেছেন, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তাদেরকে এনে আমাদের ডাক্তার নার্সদের যাতে ট্রেনিং দিতে পারেন, ব্রিফ দিতে পারেন। সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রেখে কি কি আরো প্রয়োজনীয়তা ও গ্যাপ রয়েছে এই বিষয়গুলো ওনাদের কাছ থেকে আমরা জানবো। জেনে সেই গ্যাপটি পূরণ করার চেষ্টা করব।