নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: কক্সবাজার বিমানবন্দরে জেনারেটর স্থাপন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর শুনানির দিনে অধিকাংশ আসামি অনুপস্থিত থাকায় আদালত চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে জামিন বাতিলের হুঁশিয়ারি দিলেও, একমাত্র শহিদুল ইসলাম মন্ডলের উপস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা থেকে রক্ষা পেয়েছেন শহীদুল আফরোজসহ অন্যান্য আসামিরা।
আদালতের ক্ষোভ ও জামিন বাতিলের উপক্রম
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ নভেম্বর জেনারেটর দুর্নীতি মামলার নির্ধারিত তারিখে মিহির চাঁদ দে, মো. হাসান জহির, মো. শহিদুল ইসলাম মন্ডল এবং মো. শাহাবুদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে অন্যতম অভিযুক্ত মোহাম্মদ শহীদুল আফরোজ এবং ভবেশ চন্দ্র সরকার বরাবরের মতোই অনুপস্থিত থেকে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার জন্য আবারো সময়ের আবেদন করেন।
এ সময় শহিদুল ইসলাম মন্ডল তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে জানান, মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জেরা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। আদালত তার আবেদন আমলে নিয়ে পরদিন পুনরায় ২৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় জেরা সম্পন্ন করার জন্য সময় নির্ধারণ করেন।
রহস্যজনক প্রস্থান ও আদালতের উষ্মা-
সূত্র জানায়, ২৬ নভেম্বর সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে দেখা যায় শহিদুল ইসলাম মন্ডল ছাড়া বাকি সকল আসামি অনুপস্থিত। জানা গেছে, আগের দিন উপস্থিত থাকা মিহির চাঁদ দে, মো. শাহাবুদ্দিন ও মো. হাসান জহির রহস্যজনকভাবে রাতেই ঢাকা ফিরে যান।
নির্ধারিত সময়ে আসামিদের অনুপস্থিতি দেখে আদালত চরম উষ্মা প্রকাশ করেন এবং একে আদালতের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা হিসেবে গণ্য করেন। একপর্যায়ে আদালত আসামিদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রস্তুতি নিলে আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
শহিদুল ইসলাম মন্ডলের কারণে রক্ষা:
আদালতে উপস্থিত থাকা একমাত্র শহিদুল ইসলাম মন্ডলের জেরা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সদিচ্ছা এবং আইনজীবীদের অনুরোধে গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের অনুপস্থিতিতেই জেরা সম্পন্ন করার আদেশ দেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শহিদুল ইসলাম মন্ডল উপস্থিত না থাকলে ওই দিনই শহীদুল আফরোজসহ সকল আসামির জামিন বাতিল হয়ে যেত।
তথ্য গোপনের অভিযোগ:
এদিকে সিএএবি-র (বেবিচক) কর্মকর্তা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজের বিরুদ্ধে আদালতে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ইতিপূর্বে প্রধান প্রকৌশলীর ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ পালনের দোহাই দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে তার সেই অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিল হলেও এবং তিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও, সেই তথ্য তিনি আদালতকে জানাননি বলে জানা গেছে।
আতঙ্কে আসামিরা:
মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬। গত ২৬ নভেম্বর তারিখে অনুপস্থিত থাকা এবং আদালতের কঠোর মনোভাবের কারণে বর্তমানে জামিনে থাকা আসামিদের মধ্যে নতুন করে জেল যাওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একমাত্র শহিদুল ইসলাম মন্ডল ব্যতীত বাকি আসামিরা বিভিন্ন অজুহাতে বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
[6:13 PM, 1/6/2026] FATHER A: বর্তমান সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কিছু সুবিধাভোগী ও আদর্শহীন নেতৃত্ব সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এদের কর্মকাণ্ড থেকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। এরা সাধারণ কর্মচারী, কর্মকর্তা এবং বিএনপির প্রকৃত সমর্থকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি সাধন করছে।
অতীতে এই চক্রটি ফ্যাসিবাদী শাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এরা সুযোগসন্ধানী আচরণ করে নিজেদের বিএনপির কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং প্রকৃত বিএনপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা রাজনৈতিক অপবাদ ছড়াচ্ছে।
এই সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম প্রতিষ্ঠান, দল এবং জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই তালিকার আছে শাহজাহান, শামীমা, ছানোয়ার ও রাজনসহ আরোও অনেকেই
দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী সকল কর্মী ও কর্মকর্তাকে এই অপচক্র সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
