ডেস্ক রিপোর্ট: নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীতে একটি ৮ তলা ভবন (নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন)।
ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরায় ২টি ফ্ল্যাট।
পূর্বাচলে ২টি প্লট।
জলসিঁড়ি পূর্বাচল প্রকল্পে ১টি প্লট।
ঢাকা ডিওএইচএস এলাকায় ২টি ফ্ল্যাট।
সাভারের বিরুলিয়ায় গ্রীন ভ্যালি কর্পোরেট সোসাইটিতে প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিয়োগ।
ক্লাব জিলা স্কুল লিমিটেডে প্রায় ২ লাখ টাকার সদস্যপদ/বিনিয়োগ।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে একটি বাড়ি, যা তার ছেলে রাগীব মোয়াজ্জেম ও পুত্রবধূর নামে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ।
উত্তরা ব্যাংকের একটি হিসাবে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা স্থিতি থাকার দাবি।
আইডিএলসির একটি বিও/বিনিয়োগ হিসাবে প্রায় ২৫ লাখ টাকা স্থিতি থাকার দাবি।
সিটি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের একাধিক হিসাবে অস্বাভাবিক বা উচ্চমাত্রার লেনদেনের অভিযোগ, তবে সুনির্দিষ্ট স্থিতির তথ্য উল্লেখ নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন শাখার সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য, শুল্ক ও ভ্যাট সংক্রান্ত অনিয়মে সহায়তা, অর্থ পাচার এবং বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গন ও রাজস্ব প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি কথিত গোপন অনুসন্ধান প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা প্রকাশ্য তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবুও অভিযোগগুলোর ব্যাপকতা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী মোয়াজ্জেম হোসেন কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢাকা কাস্টম হাউস, রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেট, যশোর ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রাম ভ্যাট আপিলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তিনি বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করেছেন। কোথাও কোথাও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে বদলি হওয়ার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দুদকের কথিত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, মোয়াজ্জেম হোসেন চাকরি জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, শিল্পগোষ্ঠী এবং রাজস্বসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি আর্থিক সুবিধা লাভ করেছেন এবং পরবর্তীতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানকারীরা তার ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, পারিবারিক ব্যয় এবং বিদেশে সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলাম মোহাম্মদ আলমগীরের কাছ থেকেও ৩০ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নথিতে এসব অর্থকে ঋণ হিসেবে দেখানো হলেও অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, দায়িত্বশীল রাজস্ব কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এমন আর্থিক লেনদেন স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে অর্থ গ্রহণের উদ্দেশ্য, বৈধতা বা প্রকৃতি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাজনৈতিক প্রভাব ও ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি নিজেকে ওই রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করতেন। অনুসন্ধানকারীরা ধারণা করছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পদায়নের ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক যোগাযোগ ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ হয়নি।
দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারের জীবনযাত্রা ও ব্যয়ের ধরনও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং প্রতি সেমিস্টারে কয়েক হাজার মার্কিন ডলার শিক্ষাব্যয় বহন করা হচ্ছে। এই অর্থের উৎস, বৈধ চ্যানেলে বিদেশে অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে কি না এবং পারিবারিক আয়ের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর এলাকায় একটি আবাসিক সম্পদ পরিবারের সদস্যদের নামে ক্রয় করা হয়েছে। সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং বৈধভাবে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নও অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে বিদেশে সম্পদ থাকার অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি নথি বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
দেশের অভ্যন্তরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বিস্তৃত। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডি ও উত্তরায় একাধিক ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে প্লট, জলসিঁড়ি প্রকল্পে জমি এবং ডিওএইচএস এলাকায় আবাসিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পদের বাজারমূল্য, ক্রয়ের সময়কাল এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু স্থাবর সম্পদ নয়, আর্থিক খাতেও বিভিন্ন বিনিয়োগের তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সাভারের বিরুলিয়ায় একটি আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ, ক্লাব সদস্যপদ গ্রহণ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের তথ্য অনুসন্ধানকারীরা সংগ্রহ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এসব বিনিয়োগের সঙ্গে ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করার সুপারিশও করা হয়েছে।
ব্যাংক হিসাবের বিষয়টিও অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। কোটি কোটি টাকার লেনদেন, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থিতি এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চিত অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীর বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব আর্থিক লেনদেনের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রকাশ্য অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো কাস্টমস প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে শুল্ক ফাঁকি ও আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত অনিয়মে সহায়তা করার অভিযোগ। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট পণ্য খালাসে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষভাবে নুসাইবা ট্রেডিংয়ের একটি চালান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলেও পরে পণ্য খালাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিমানবন্দর কাস্টমসের একটি আলোচিত মেমোরি কার্ড চালান নিয়েও অনুসন্ধানে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোটি টাকার বেশি মূল্যের মেমোরি কার্ড জব্দ হওয়ার পর তা নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলে। পরবর্তীতে পণ্য খালাস, নিলাম প্রক্রিয়া, আদালতের নির্দেশনা এবং রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর আইনগত ভিত্তি যাচাই করা উচিত।
যশোরে দায়িত্ব পালনকালীন সময় সম্পর্কেও একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই সময় বিড়ি ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নেওয়া হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমে প্রশাসনিক শিথিলতা দেখানোর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন অধস্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগও সামনে আসে, যাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনকালে একটি শিল্পগোষ্ঠীর ভ্যাট ফাঁকি তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উঠে এলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করছেন, এ ধরনের ঘটনায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ। অনুসন্ধানকারীদের দাবি, এনবিআরের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের একটি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে এবং এতে প্রভাবশালী কিছু কর্মকর্তা জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, পছন্দের পদায়ন পেতে কিছু কর্মকর্তা বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। কয়েকজন কর্মকর্তার নামও অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়নি।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাস্টম হাউস ও ভ্যাট অফিস থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা আদায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ভিত্তিতেও অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত উপস্থাপিত হয়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় সাধারণত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই, সম্পদের উৎস নির্ধারণ, ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ, আয়কর নথি পর্যালোচনা, বিদেশে সম্পদ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন হলে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে তার বৈধ আয়, সম্পদ বিবরণী, কর নথি, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ এবং পারিবারিক ব্যয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
আইনজ্ঞদের মতে, অভিযোগ যত গুরুতরই হোক না কেন, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও ন্যায়বিচারের মৌলিক শর্ত।
এদিকে প্রশাসনিক মহলে আলোচিত এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের নজর এখন দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু হবে কি না, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের নথিপত্র যাচাই করা হবে কি না, কিংবা কোনো মামলা দায়েরের পর্যায়ে বিষয়টি যাবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অভিযোগের পরিধি, আর্থিক অনিয়মের সম্ভাব্য মাত্রা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বপূর্ণ অবস্থান বিবেচনায় বিষয়টি জনস্বার্থে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য, সম্পদের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা এবং অনুসন্ধানে উত্থাপিত দাবিগুলোর জবাব পাওয়া গেলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এখন পর্যন্ত পুরো বিষয়টি অভিযোগ, অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট দাবি এবং প্রাথমিক তথ্যের পর্যায়েই রয়েছে; এর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্তকারী সংস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়া।
