স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ–বেবিচকে আওয়ামী দোসরদের নিয়েই প্রশাসন চলছে। ৩ সরকারের আমল থেকে এরা বহাল। এদেরকে বদলি করা হয় না। আবার বদলিরও কেউ কেউ বহাল। এ তালিকায় ২ জন ডিডি ,২ পরিচালক রয়েছেন।
শুধু তাই নয়–বিএনপি মাইন্ডেড কোন কোন কর্মচারিকে ‘নিরাপত্তা পাস’ দেয়া হয় না বিএনপি মন্ত্রী-এমপিদের প্রটোকল করবে এমন আশংকায়। এ নিয়ে উচ্চবাচ্যও নাকি হয়েছে বেবিচকের কি-পয়েন্টে বসা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সাথে। বেবিচকের আরেক সদস্য প্রটোকল পাসের জন্য মৌখিক সুপারিশ করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি।
এবার আবার আওয়ামী দোসরদের তদবিরে- আওয়ামী দোসরকে সেক্রেটারি করে ‘ শাহজালাল বিমানবন্দর ওয়েলফেয়ার কমিটি’ গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। নয়া এই সেক্রেটারির নাম রফিকুল ইসলাম সুজন, যুবলীগের কথিত নেতা, মামলার আসামি বলেও শোনা যায়।
এ দিকে সিডি-২/১-এর ফোরম্যান কামরুল ( যার বিরুদ্ধে ঠিকাদাররা ঘুষের অভিযোগ আনে), এমটির শফিকুল, তন্ময় , টিপুসহ ৭/৮ জনকে বিনাভোটে মেম্বার বানিয়ে অন্যদের প্রভাবিত করে, সেকশন প্রধানদের প্রেসারক্রিয়েট করে আওয়ামী দোসর সুজনকে কল্যাণ কমিটির সেক্রেটারী করার জন্য ভোট দেবার মহড়া করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এর নেপথ্যে কাজ করেছেন একজন ডিডিসহ ৫ জন। কল্যাণ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জামায়াত মাইন্ডেড আশরাফকে।
গত ২৭ আগস্ট এ নয়া কমিটি গঠন করা হয়।
এ দিকে ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠনের আগে বেবিচক সদর দপ্তরের ১২টি ইউনিটের নির্বাচনই হয়নি। এই ১২টি ইউনিটের ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ দেয়া হয়নি। এদেরকে ভোটদান থেকে বন্ঞিত করা হয়েছে।
এ নিয়ে ‘একুশে বাতা’র অনলাইনে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও আমলে নেয়া হয়নি।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক, বিমান বাহিনী থেকে প্রেষণে আসা নাকি নিজেও আওয়ামী দোসর-এমন কথাও শোনা যায়। এখানে দায়িত্ব নেবার আগে নাকি দুতাবাসে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।
আওয়ামী দোসর, লুটপাটের রাজত্ব কায়েমকারি শাহাদত যুগের অবসান হলেও আবার আওয়ামীযুগে প্রবেশ করলো শাহজালালের ওয়েলফেয়ার কমিটি। নয়া সেক্রেটারি সুজন নাকি শাহাদতেরই পেয়ারের লোক।
অথচ ক্ষমতায় বিএনপি। বিএনপির লোকজন ইউনিট কল্যাণ কমিটিতে ঠাই পেল না বলে জানা যায়।
এই ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠনের আগে বেবিচকের ১১টি ইউনিটে নির্বাচন করার নিয়ম থাকলেও সব ইউনিটে নির্বাচন হয়নি। এমটি পুলেতে সিলেকশন হয়েছে, পছন্দের ৩ জনকে দেয়া হয়েছে।
শাহজালালের নিরাপত্তা ইউনিটে নির্বাচনী তারিখ পার হবার পর ব্যাকডেটে গত ৯ জুলাই নির্বাচন হয়েছে। এই ইউনিটে আওয়ামী দোসর আরিফ, জামায়াতের আশরাফ জিতেছে।
এই আরিফ নিরাপত্তা বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শাহজালালে কর্মরত। ৩১ রাউন্ড গুলি পাচারে সহায়তাকারি হিসেবে তাকে ইতিমধ্যেই শাহজালাল থেকে সরিয়ে সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়েছে।
শাহাদত গত কমিটিতে টানা ১৫ বছর কাটিয়েছে, এবার এই নয়া কমিটি কতদিন কাটাবে–তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
শাহাদতের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কথা ওঠলেও দুদক তাকে এখনও তদন্তের আওতায় আনেনি। বেবিচকের কাওলার ওয়েলফেয়ার মার্কেট এবং হজ ক্যাম্পের অপজিটে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম , বহাল তবিয়তে শাহাদত।
বেবিচক কর্তৃপক্ষ উল্টো তাকে পদোন্নতি দিয়ে অফিসারের তকমা লাগিয়েছে। যদিও কোন অফিসার ওয়েলফেয়ার কমিটির সেক্রেটারি থাকতে পারবে না–এমন আইন করেও পরে শাহাদতের জন্য তা সংশোধনও করেছে।
কেন্দ্রীয় ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠনের দাবি : নয়া কমিটি গঠনের আগে বেবিচক কর্মচারিরা ‘কেন্দ্রীয় ওয়েলফেয়ার কমিটি’ গঠনের জন্য বন্ঞিত ১২টি ইউনিটের কর্মচারির স্বাক্ষরিত চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। চেয়ারম্যান বরাবর ওই আবেদনে বেবিচকের প্রায় একশ’ কর্মচারি স্বাক্ষর করেছেন। সেখানে প্রশাসন বিভাগের কামাল হোসেনের স্বাক্ষরও রয়েছে।
এ দিকে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে ইউনিট কল্যাণ কমিটির নির্বাচিতদের নিয়ে এক প্রেস রিলিজ প্রচারের জন্য গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এই নয়া ইউনিট কল্যাণ কমিটি আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব বুঝে নিবে বলে প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
