ডেক্স রিপোর্ট : ময়মনসিংহে যুবলীগ নেতা আজাদ শেখ হত্যার এক মাস পর অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ধর্মমন্ত্রীর ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তর বিরুদ্ধে মামলা নিল পুলিশ। এ মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় আরও ২৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু। কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ১১টায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে। গত ৩১ জুলাই ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকার নাজিরবাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ শেখ। তাকে প্রতিপক্ষরা গুলি করে, গলা কেটে
ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
নিহতের মা ও স্ত্রীর অভিযোগ, মোহিত উর রহমান শান্ত, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠান ও তার চাচাতো ভাই মন্তু বাবুর নির্দেশে আজাদকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মোহিত উর রহমার শান্তর ভাষ্য, প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকা- ঘটেছে। কারা কী করেছে পুলিশ সব জানে। এ মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
হত্যাকা-ের এক মাস পরও পুলিশ মামলা না নেওয়ায় নিহত শেখ আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলুর পক্ষে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী আফিলউদ্দিন। রিটের শুনানি শেষে আজাদ হত্যা মামলার এজাহার গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলা না নেওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে নাÑ তা জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন আদালত।
গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে এ হত্যাকা-ের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, মৌন মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন আজাদ সমর্থকরা।
আজাদের বড় ভাই সালাহউদ্দিন শেখ শামীম বলেন, আজাদ শেখ আগে শান্তর গ্রুপে রাজনীতি করতেন। কিন্তু শান্ত তাকে টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসা করতে বললে তিনি গ্রুপ বদল করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এবং পৌর মেয়র ইকরামূল হক টিটুর গ্রুপে যোগ দেন।
মামলার বাদী বলেন, নিজ দলের নেতার নির্দেশেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আজ মামলা করতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছি। তবে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তাসহ স্বামী হত্যার বিচার চাই আমি।
