একুশে বার্তা ডেক্স : বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আজ ২৯ মার্চ দেখা করতে পারেননি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকার কারণে তার সাথে সাক্ষাৎ সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।
শায়রুল কবির খান বলেন, আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় কারাগারে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে মহাসচিবের দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে তিনি দেখা করতে পারেননি।
এর আগে ৭ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিএনপির নেতারা। সেবার দলীয় প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন।
এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য চার আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এরপর গত ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন।
এরপর গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ। একই সাথে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেন আদালত। এ ছাড়া আগামী ৮ মে ওই আপিল আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।
‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গোপন করা হয়েছে’:
গত ২৮ মার্চ ২০১৮
কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবীরা। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, গত বুধবার মামলার তারিখ ধার্য ছিল। খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়নি। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ হাজির করেননি।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি কাস্টডিতে লেখা আছে তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাকে আদালতে আনা হচ্ছে না। আদালতের পরোয়ানার ফিরতি কাগজ (কাস্টডি পরোয়ানা) দেখেছেন উল্লেখ করে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আমরা দেখেছি খালেদা জিয়া অসুস্থ। সেখানে বলা হয়েছে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে আদালতে আনা হয়নি। যেহেতু তিনি অসুস্থ, আমরা খুবই চিন্তিত। কারণ, আমরা জানতে পারছি না। উনারাও পরিষ্কার করে কিছুই বলেননি।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কী রোগে ভুগছেন, তিনি কেন তাকে আদালতে আনা হলো না- সরকারের পক্ষ থেকে, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। শুধু লেখা আছে, খালেদা জিয়া জেলে অসুস্থ। এই মামলার আগামী তারিখ ধার্য করেছে ৫ এপ্রিল।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের আরেক সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা সাড়ে নয়টায় আদালতে এসেছি। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় ফোনালাপ করতে আমরা দেখলাম। তাদের মধ্যে আমরা বিভিন্ন দৌড়ঝাঁপ দেখেছি। বার বার মিটিং করতে দেখেছি। আমরা বুঝতে পারছিলাম না কী কারণে খালেদা জিয়াকে হাজির করা হচ্ছে না। অবশেষে আমরা যেটা দখলাম, কাস্টডি পরোয়ানা জেলখানা থেকে এসেছে। সেখানে আমরা জানলাম, তিনি অসুস্থ। তিনি বলেন, আমরা চিন্তিত। আমরা শঙ্কিত। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার প্রয়োজন। আমরা আগের জামিনে যে কথাগুলো বলেছিলম যে খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং বয়োবৃদ্ধ। এটিই আজকে কারা কর্তৃপক্ষের পাঠানো পত্রে প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এই মামলায় যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিলো বুধবার। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে হাজির করেননি। উনি (খালেদা জিয়া) জেল কাস্টডিতে আছেন। তাকে হাজির করার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। যেহেতু তাকে হাজির করা হয়নি তাই আমরা আর্গুমেন্ট করতে পারিনি। ৫ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য আছে। আশা করি সেদিন তাকে হাজির করা হবে।
কেন হাজির করেনি বা কী ব্যাখ্যা কারা কর্তৃপক্ষ দিয়েছে, জানতে চাইলে কাজল বলেন, সেটা আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়। আমি প্রসিকিউশন, আসামিকে আনা হলে আমি আমার কাজ করবো। এটা আমার বিষয় নয়। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ হাজির না করার কারণ অনেক রকম থাকতে পারে। আমরা গত তারিখেও তাকে পাইনি। উনি জেল কাস্টডিতে আছেন। কাস্টডিতে থাকাকালে তার দেখভাল করার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। কারা কর্তৃপক্ষ যদি হাজির না করে, এখানে তো আমাদের বলার কিছু নেই।
আদালতকে কারা কর্তৃপক্ষ কী জানিয়েছে- এ প্রশ্নের জবাবে দুদকের এই আইনজীবী বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ কী ব্যাখ্যা দিয়েছে আমি জানি না।
