ডেক্স রিপোর্ট : উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মারা, এজেন্ট বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে টঙ্গী, গাজীপুর সদর, গাছা, চৌরাস্তা কাউলতিয়া, কাশিমপুর, কোনাবাড়ীসহ গোটা নির্বাচনি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিএনপির এজেন্ট নেই। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাজীপুর সিটির বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোটের মহোৎসব চালিয়েছে। এমনকি নারীদের কেন্দ্রে ঢুকে আওয়ামী লীগের পুরুষ নেতাকর্মী ও নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাল ভোট দিয়েছেন। : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ন্ত্রণে ছিল আওয়ামী লীগের, মাঠে ছিল না বিএনপি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১০৯ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫০১ ভোট। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৪২৫টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জাল ভোট প্রদান ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগে ৯টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, জালিয়াতি, কারচুপি, ভোট ডাকাতির ফলাফল গাজীপুরবাসী মেনে নেবে না। গাজীপুরবাসী ৮০ বছরের ইতিহাসে এমন ভোট ডাকাতি দেখেনি। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৪শ’র অধিক কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্বরূপ উন্মোচন করার জন্যই বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেনি বলে জানান হাসান সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে একচেটিয়াভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে গাজীপুরে। বিএনপির এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। এমন ভোট ইতিপূর্বে গাজীপুরবাসী দেখেনি। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে কমিশনকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এর আগে নির্বাচন চলাকালেই জয়দেবপুরে গাজীপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট স্থগিতের দাবি করেছিলেন হাসান উদ্দিন সরকার। পরে ভোট বন্ধের দাবিসম্বলিত লিখিত অভিযোগ নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী হাসান সরকার বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শতাধিক কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। অনেককে মারপিট করেছে সরকারি দলের লোকেরা। সেখানে সিল মারা ও জাল ভোট দেয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে আমি এই নির্বাচন বন্ধের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছি। নির্বাচন বর্জন করবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন বর্জনের প্রশ্নই আসে না। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। জনগণকে এবং বিশ্ববাসীকে এসব অনিয়ম জানাতেই আমি ভোট বর্জন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একজন ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে’ তাকে সংবাদমাধ্যম ও ভোটার সহযোগিতা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান সরকার। : আড়াই ঘন্টায় ব্যালট পেপার শেষ! : ভোটগ্রহণের আড়াই ঘন্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১৭নং ওয়ার্ডের মুগরখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রটি দখলে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলমের নৌকা মার্কার লোকজন। জানা গেছে, ভোটগ্রহণের কিছু সময় পরেই ওই কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের কর্মীরা। পরে তারা কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট নিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারতে থাকেন। ব্যালট পেপার না থাকায় কেন্দ্রের বাইরে ভোটাররা দাঁড়িয়ে অপো থাকতে দেখা গেছে। এ কেন্দ্রের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর একজন পোলিং এজেন্ট অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে ৯টায় ইসমাইল হাজি, মাইনুদ্দিনসহ আরো একজন ভোটকেন্দ্রে এসে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সিল মারে যেখানে প্রিসাইডিং অফিসারের কোনো স্বার নেই। এমতাবস্থায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। বিগত দিনে কখনো এই মগরখালি এলাকায় ভোট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন চালু করারও দাবি করেন এই পোলিং এজেন্ট। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার কিংবা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। : কেন্দ্রের পাশেই ভিড়তে পারেনি বিএনপি : টঙ্গীর নোয়াগাঁও এমএ মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের আশপাশেই ভিড়তে দেয়া হয়নি বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর নেতাকর্মী ও এজেন্টদের। সকাল থেকেই এ কেন্দ্রের বাইরে সরব ছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রের আশপাশে বিএনপি মেয়রপ্রার্থীর কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। কিছু সময় পরে এদের কয়েকজন নিজেদের বিএনপি মেয়রপ্রার্থীর এজেন্ট পরিচয় দিয়ে কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের ধাওয়া দেয় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ওইসব নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় এ কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্সিলর ও আওয়া লীগ মেয়রপ্রার্থীর এজেন্ট থাকলেও বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থীর কোনো এজেন্ট নেই। ঐ কেন্দ্রের কাউন্সিলর প্রার্থীদের যে এজেন্ট রয়েছে তারা নিজেদের নৌকা প্রতীকের এজেন্ট পরিচয় দেয়। এমনকি তারা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ব্যাচ ধারণ করেছিল। ঐ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার বদিউল আলম বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় আমাকে যখন এজেন্টদের ফরম দেয়া হয় সেখানে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের ফরম পায়নি। ঐ স্কুলের তিনটি ভোটকেন্দ্রেরই একই অবস্থা। এ বিষয়ে বিএনপির মেয়রপ্রার্থীর মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা ডা. মাজহার জানান, ঐ কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর এজেন্টদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে। : মেয়রের ভোট দেয়া লাগবে না : মঙ্গলবার দুপুর বেলা ১২টা। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বড় এলাকার ৩৭নং ওয়ার্ডের মির্জা ইব্রাহিম মেমোরিয়াল স্কুল ভোটকেন্দ্র। কেন্দ্রের বাইরে ভোটারের লম্বা লাইন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রেরই একটি বুথের ভোট দিতে ঢোকেন এক তরুণী। গতকাল মঙ্গলবার যথারীতি তাকে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যালট পেপার দেয়া হয়। তৃতীয়টি অর্থাৎ মেয়রপ্রার্থীর ব্যালট নিতে গেলে সেখানে থাকা কয়েকজন জানায়, ‘মেয়রে ভোট দেয়া লাগবে না। এ ভোট তারা নিজেরাই দিয়ে দিচ্ছে।’ তাকে আরো জানানো হয়, তার ব্যালটে সিল মারা হয়ে গেছে। পরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বের হয়ে আসেন প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া এ নারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী আরো জানান, ওই স্কুলের দুইতলার কগুলোতে জাল ভোটের এসব ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, তারা মেয়রপ্রার্থীর ব্যালটে আগে থেকেই নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রেখেছে। কোনো ভোটার গেলে তাকে দুটি ব্যালট পেপার দিচ্ছে। বাকি মেয়রের ভোট তারা নিজেরা দিচ্ছে। একই ওয়ার্ডে পার্শ্ববর্তী হাজী আবদুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই অবস্থা বিরাজ করছে। দুপুর দেড়টার দিকে জানা গেছে, এ কেন্দ্রটিতে নৌকার পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতীক ঠেলাগাড়িতেও সিলমারা রয়েছে। সেখানে শুধুমাত্র একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারছেন ভোটাররা। : ‘মেয়র সাহেব বলছে, এটা নিয়ে নাও’ : সংগৃহীত সময় তখন সাড়ে ১২টা। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪৬ নম্বর কেন্দ্র। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মির্জা ইব্রাহীম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে ২টি মহিলা কেন্দ্র। পাঁচজন সাংবাদিক একটি কেন্দ্রের বুথে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা এক যুবককে ৮টা ব্যালট হাতে ভোট দিতে দেখেন। কাছে গিয়ে সাংবাদিকরা যুবককে কি করছেন, হাতে এতগুলো ব্যালট কেন জানতে চান। জবাবে ওই যুবক বলেন, বয়স্ক মানুষকে সাহায্য করছেন। এরপর পেছন থেকে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এসে সাংবাদিকদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কে নিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন পুলিশের এসআই আসিফ। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হারুন-উর রশীদ সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর বলেন, এ কেন্দ্রে সকাল থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। সাংবাদিকরা ওই যুবকের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, মাত্র অভিযোগটি পেলাম। আর কোনো অভিযোগ পাইনি। ১২টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্রের বাইরে কৃত্রিম গোলযোগ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রের সমর্থকরা। এসময় ভোটারদের বের করে দিয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ের গেট লাগিয়ে দেয়। বাইরে থেকে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা গেটে ধাক্কা দিতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র উঁচিয়ে তাদের সরে যেতে বলে। ঘটনার সময় কেন্দ্রের বুথগুলো থেকে ১-১০০ জন পুরুষ বের হয়ে আসে। তাদের সবাই নৌকার ব্যাজধারী। এরপর এসআই আসিফের মোবাইল নিয়ে এসে প্রিসাইডিং অফিসারকে কথা বলতে বলেন। প্রিসাইডিং অফিসার মোবাইলের অপর পাশে থাকা ব্যক্তিকে জানান, তার কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ৩৪০০। সকাল থেকে ভোট দিয়েছেন ৯৪৪ জন। তখন মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে ১২০০ ভোট কাস্ট করার কথা জানানো হয় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে। পরে ওই কে নৌকার ব্যাজধারী একজন চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলেন, মেয়র সাহেব বলছে, এটা নিয়ে নাও। এ ঘোষণায় বুথগুলো থেকে বেরিয়ে আসা পুরুষরা আবার বুথে ফিরে যায় এবং জাল ভোট দিতে থাকে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রিসাইডিং অফিসার বলেন, ভোটাররা ভোট দিচ্ছে। কোনো জাল ভোট হচ্ছে না। ভোটাররা তো বাইরে, বিদ্যালয়ের গেট বন্ধ তাহলে কিভাবে তারা ভোট দিচ্ছেনÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভেতরে যারা আছে তারা ভোট দিচ্ছেন। পরে ১টার দিকে ওই কেন্দ্র থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হয়। এদিকে এ কেন্দ্রে ঝামেলার সময় পাশের আরেকটি পুরুষ কেন্দ্র মাহিরা উচ্চ বিদ্যালয় দখলে নিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা। : কোনো সাউন্ড নাই, বের হ : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকার চার কেন্দ্রের কোথাও বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের কোনো পোলিং এজেন্ট নেই। তাদের সকালেই জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকরা বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনাবাড়ী এলাকার জরুন হাফিজিয়া মাদ্রাসা, টাঙ্গাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুল ও মাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে, এসব কেন্দ্রের কোনোটিতে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট নেই। জরুন হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রিসাইডিং অফিসার কাজী নাসির উদ্দিন বলেন, ধানের শীষের প থেকে কোনো অভিযোগ করেননি। কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। টাঙ্গাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুল কেন্দ্রের সুকুমার চন্দ্র মন্ডল বলেন, সকালে বিএনপির একজন পোলিং এজেন্ট এসেছিলেন। তিনি ১৫-২০ মিনিট থেকে চলে গেছেন। পরে আর আসেনি। বিস্তারিত জানি না। কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, কমলেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও গাছা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ধানের শীষ প্রতীকের কোনো এজেন্টকে দেখা যায়নি। এদিকে গাজীপুর সিটির এক নম্বর কেন্দ্র শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখানকার এক নারী পোলিং এজেন্ট মুক্তা বলেন, কয়েকজন লোক এসে আমাদের বের করে দিয়েছে। খারাপ ভাষায় গালাগাল দিয়েছে। এ ঘটনা ১০টা ২০ মিনিটের। পরে আবার আসি। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে অভিযোগ করেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমাদের দাঁড়াতেই দিচ্ছিল না। বলছে, এখনি বের হ। আমি বলছি কেন বের হবো। বললো কোনো সাউন্ড নাই, বের হ। মুক্তা যখন সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করছিলেন তখন প্রকাশ্যেই তাকে হুমকি দেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীর এজেন্ট সাইফুল ইসলাম। : চারপাশে ঘিরে ধরে আধা ঘন্টায় ভোট কেটে নেয় : শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের জোরে করে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার পর এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থী হান্নান মিয়া হান্নুর সমর্থকরা কেন্দ্রের সামনে বিােভ করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। ওই কেন্দ্রের ২০১নং বুথের ভোটার মীর মোহাম্মদ মোফাজ্জল বলেন, আমি বুথে প্রবেশ করার পরে ৭-৮ জন লোক এসে আমার কাছ থেকে ব্যালট ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা বুথে থাকা অন্য ব্যালট নিয়ে তারা নৌকা প্রতীকে সিল মারতে থাকে। ঘটনার পর ওই বুথে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে রাখা মেয়রপ্রার্থীর ব্যালটের মূল বই শেষ। অপরদিকে কাউন্সিলর এবং সংরতি নারী আসনের ব্যালট গিয়েছে অর্ধেক। ওই কেন্দ্রের ৬টি বুথে বিএনপির কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ২০৩ নম্বর কে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যালট শেষ। তবে নারী কাউন্সিলরের ব্যালট শেষ হয় ৮১টা। ওই বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, চারপাশে ঘিরে ধরে আধ ঘন্টা ধরে ভোট কেটে নেয়া হয়। পাশের বুথ ২০৫ নম্বরেও একই ঘটনা ঘটে। এই বুথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট শাহীন রেজা নিজেও তার প্রার্থীর পে ব্যালটে সিল মারেন। সামনাসামনি এ অভিযোগ করেন নৌকার এজেন্ট মো. মিজানুর রহমান লিটন এবং অপর কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট আব্দুল করিম। ২০৬নং বুথে দেখা গেছে, মেয়রপ্রার্থীর ব্যালট ১০৬টা ব্যবহার হলেও কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যালট গেছে ৯১টি। এসব বিষয়ে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মিয়া বলেন, আমরা অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখছি। এটা প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে সমস্যা জেনে নিচ্ছি। কিছু লোক জাল ভোট দিতে আসছিল পোলিং এজেন্টরা তাদের চিহ্নিত করার পরে একটু সমস্যা হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নেব। : ৩ ঘন্টায় ৪২ ভোট! ইভিএমে ধীরগতি, বিড়ম্ব^নায় ভোটাররা : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভোটাররা। ভোট দিতে বেশি সময় লাগায় বাইরে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রানী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মহিলা বুথে সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ৪২টি। এ কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ৩৫০টি। এ কেন্দ্রের প্রায় ১০০ ভোটার ভোট দিতে পারে নাই। এখানে ভোট দেয়া আনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় এক ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, এর আগে এ সিস্টেমে ভোট দেইনি, এ জন্য বোরিং লাগে। অনেকগুলো বাটনে চাপ দিতে হয়। এজন্য সময় বেশি লাগে। পোলিং অফিসাররা অবশ্য এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। পুরুষ বুথের ভোটার তুলসিপদ সাহা বলেন, ‘৪০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল দিকে শুনেছিলাম, ইভিএম নাকি নষ্ট হয়ে গেছে।’ এ ব্যাপারে প্রিসাইডিং অফিসার আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘প্রথমদিকে বুঝাতে সমস্যা হচ্ছে। গত ১৮ তারিখ থেকে আমরা এ ব্যাপারে প্রচারণা চালিয়ে আসছি। তারপরও অনেক বিষয়টি সহজে বুঝতে পারছেন না।’ তিনি বলেন, ‘সকাল দিকে বেশি ভিড় ছিল না। কিন্তু ১০টার পর থেকে ভোটারদের ভিড় বেড়ে গেছে। এ কারণে লাইনও দীর্ঘ হচ্ছে। ইভিএম মেশিন নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ডা. মো. সেলিম উল্লাহ বলেন, ‘ভুলবশত বাটনে চাপ না দিয়ে মেশিনের উপরে চাপ দেয়ায় সেটি ভেঙে যায়। পরে মেশিন পরিবর্তন করা হয়েছে।’ : ব্যালট ছিনতাই করে ভোট, প্রতিবাদে বিােভ : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট মারা হয়েছে। কেন্দ্রটির ৬নং বুথে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভোট স্থগিতে বিােভ করা হয়েছে। মেয়র পদে নৌকা ও কাউন্সিলর পদে ঠেলাগাড়ি প্রতীকে এসব ভোট মারা হয়। এ ব্যাপারে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, কয়েকজন লোক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের বাধা উপো করে ভোট কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। তারা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারতে থাকে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানালে তারা তাদের সরিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে প্রিসাইডিং অফিসার কফিল উদ্দিন ভূঁইয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রথমে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। পরে তিনি ওই কে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পান। এরপর তিনি বলেন, ‘আগে আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। পদপে নেয়া হবে।’ বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে- এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সকাল দিকে বিএনপির কিছু এজেন্ট এসেছিল, পরে তারা নিজেরাই চলে গেছে।’ এদিকে, একই কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়া নিয়ে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী- ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী হান্নান মিয়া ও ঠেলাগাড়ি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল করিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন বিােভ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট ছিনিয়ে সিল : গাজীপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এম এ আরিফ কলেজ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যদর্শীরা জানান। প্রত্যদর্শীরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই কেন্দ্রের ১ নম্বর কে ঢুকে একদল তরুণ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল দেয়। প্রায় এক ঘন্টা ধরে কেন্দ্রের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। কয়েকজন ভোটার জানান, যারা সিল মারেন তাদের প্রত্যেকের গলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পরিচয়পত্র ঝুলছিল। কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে বোঝানোর জন্য ওই তরুণদের কয়েকজন সাধারণ ভোটারদের লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। ভেতরে সিল মারার কাজ চলে। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পোলিং এজেন্ট বলেন, আমার চোখের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কিছু করার ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এরশাদ আলী কোনো মন্তব্য করেননি। প্রিসাইডিং অফিসার মাহমুদুল আলী বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা গুজব। মাত্র ৫-৬ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। ওই কেন্দ্রে ২ হাজার ১০ ভোট রয়েছে বলে তিনি জানান। : জোর করে বুথে ঢুকে ২০ যুবকের নৌকার পে সিল : গাজীপুরের জয়দেবপুরে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মদিনাতুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২০ থেকে ৩০ জন যুবক জোর করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নৌকা মার্কা প্রতীকে ভোট দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটায় সেখানে আধঘন্টার মতো ভোট নেয়া বন্ধ ছিল। ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এখলাসুর রহমান বলেন, ২০ থেকে ৩০ জন যুবক অতর্কিতে কেন্দ্রের তিনতলার একটি বুথে ঢুকে তার কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। এরপর দ্রুত নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্সে ভর্তি করে। তাদের কোনোভাবেই নিবৃত্ত করা যায়নি। এ ঘটনার পর আধঘন্টার মতো ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়। ঘটনাটি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৯০৪। জোর করে ব্যালটবাক্স ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি ভোট চালু রাখতে বলেছেন। পরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। : ধানের শীষের নির্বাচনি ক্যাম্পেও নৌকার এজেন্ট : পুবাইল আদর্শ কলেজ কেন্দ্রের উল্টো দিকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে করাত ও ঠেলাগাড়ি মার্কা আর মেয়র পদে ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের আলাদা ক্যাম্প রয়েছে সেখানে। সেসব ক্যাম্প থেকে ভোটারদের হাতে যার যার প্রতীকের ছাপ দেয়া ভোটার নম্বরের চিরকুট দেয়া হচ্ছিল। ধানের শীষের প্রতীকের ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের ব্যানার ও পোস্টার থাকলেও তার কোনো এজেন্ট নেই। ধানের শীষের এজেন্টদের বদলে সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের ছবিসহ নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারী চারজন ভোটার চিরকুট বিতরণ করছেন। তাদের একজনের কাছে বিএনপির ক্যাম্পে বসে কাজ করার কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘বিএনপির কোনো এজেন্ট এখানে বসেননি। ফাঁকা পেয়ে আমরা বসেছি।’ : চান্দনা স্কুল কেন্দ্রে জাল ভোটের মহোৎসব : গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিল মারার মহোৎসব চলে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাজার রাস্তা বন্ধ করে আওয়ামী লীগের মিছিলের ভিতরে গণমাধ্যমের ৫টি টিম। এরই মধ্যে নিচতলায় তিনটি বুথে চলে সিল মারার মহোৎসব। : বিএনপি মিডিয়া সেলের অভিযোগ : যেসব কেন্দ্র থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা এজেন্টদের বের করে দিয়ে সিল মেরেছে সেগুলো হলোÑ ২১নং ওয়ার্ড কাউলতিয়া জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ৩১নং ওয়ার্ড ধীরাশ্রম জিকে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ১১নং ওয়ার্ড খোলাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ১৭নং ওয়ার্ড জোগীতলা বদরে আলম আরাবিয়া মাদরাসা কেন্দ্র, ৩৪নং ওয়ার্ড শরিফপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৫নং ওয়ার্ড কলমেশ^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রোকেয়া সরণি কেন্দ্র, ৭নং ওয়ার্ড জরুন মাদ্রাসা কেন্দ্র, ৩৭নং ওয়ার্ড কুনিয়া হাজী আব্দুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও আয়াত আলী উদয়ন একাডেমি, ১নং ওয়ার্ড মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হার্বাট মডেল একাডেমি, ৪১নং ওয়ার্ড পূবাইল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, নোয়াগাঁও এমএ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, ৪৮নং ওয়ার্ড ধূমকেতু উচ্চ বিদ্যালয়, ৪৯নং ওয়ার্ড আঞ্জুমান হেদায়েতুল উম্মত এয়াতিমখানা, ৫৫নং ওয়ার্ড শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র , ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড গাছা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, ২১নং ওয়ার্ডের জুলারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মিরেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪১নং ওয়ার্ড পুবাইল আদর্শ উচ্চ বিশ^বিদ্যালয় কলেজ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড ল্যাংগুয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়, ৫১নং ওয়ার্ড সাতাইশ উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৮নং ওয়ার্ড অথেনটিক স্কুল, ৫০নং ওয়ার্ড মেধা বিকাশ আইডিয়াল স্কুল, ৫০ নং ওয়ার্ড শিরিয়া হোসেন পাবলিক স্কুল, ৪১নং ওয়ার্ড পুবাইল রহমানিয়া মাদরাসা কেন্দ্র, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কুনিয়া শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়, ২১নং ওয়ার্ডের বিপ্রবর্থা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০নং ওয়ার্ডের টেককাথুরা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৪নং ওয়ার্ড তাকবিয়াতুল দাখিল মাদ্রাসা, ১৪নং ওয়ার্ড বাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫০ নং ওয়ার্ড মোহাম্মদ আলী শিকদার একাডেমি কেন্দ্র থেকে সকল এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হয়। একইভাবে তিন শতাধিক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মেরেছে। প্রতিটি কেন্দ্র দখলে নেতৃত্ব দিয়েছে ডিবি পুলিশ। : জাল ভোট : ৪০নং ওয়ার্ড ইছালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার আব্দুল হালিম জানান, তিনি ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন তার ভোট হয়ে গেছে। ৭নং ওয়ার্ড জরুন কেন্দ্রে মেয়রের ব্যালট পেপার দেয়া হচ্ছে না। ৪১নং ওয়ার্ড খিলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এজেন্ট সাবেক মেম্বার মাসুদা বেগমকে বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেয়া হয়। মাসুদা প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও তার অভিযোগ নেয়া হয়নি। : মেয়র প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দিলেন : আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা) প্রতীকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার পরপরই মহানগরীর ৩০নং ওয়ার্ডের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিলেন। বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মো. হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ) প্রতীকে সকাল ৮টার পরপরই ভোট দেলেন টঙ্গীর ৫৪নং ওয়ার্ডের বশিরউদ্দিন উদয়ন একাডেমি ভোটকেন্দ্রে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নাসিরউদ্দিন (হাতপাখা) সকাল ৯টায় ভোট দিলেন ৪৮নং ওয়ার্ডের ধূমকেতু প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুল কেন্দ্রে। ইসলামী ঐক্যজোটের মেয়রপ্রার্থী ফজলুর রহমান (মিনার) প্রতীকে সকালে ভোট দেলেন ১৫নং ওয়ার্ডের ভোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মেয়রপ্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন (মোমবাতি) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী কাজী মো. রুহুল আমিন (কাস্তে) তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিলেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ (টেবিল ঘড়ি) সকাল ৯টায় ৩৭নং ওয়ার্ডের হাজী আবদুল লতিফ রেজিস্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিলেন। দিনকাল
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
