একুশে বার্তা রিপোর্ট : সারাদেশে মাদক অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিচারের নামে যা খুশি তাই করছেন। দেখুন কত সংকীর্ণ এরা (সরকার)। মামলাগুলো মিথ্যা। ৩৬টি মামলা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে তাতে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল বাসে আগুন দিয়েছেন, গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছেন ইত্যাদি। এই মামলাগুলো যখন হাইকোর্টে জামিনের জন্য এসেছে সেখানে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বাধা প্রদান করেছে। গত ২১ মে সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনের ‘পুষ্পদাম রেস্টুরেন্টে’ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিশের আয়োজনে এই ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফিলের শুরুতে সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের ও নায়েবে আমীর মাওলানা শফিক উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। : বর্তমান সরকারকে দানবীয় শক্তি হিসেবে অ্যাখায়িত করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দানবীয় শক্তিকে সরাতে না পারলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে। বর্তমান সরকারকে জুলুমবাজ ও অবৈধ সরকার হিসেবে অ্যাখারিত করে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে রেখেছে। সেই কারণে আজকে ইফতার মাহফিলে আমরা সবাই ভারাক্রান্ত। তাই ইফতার মাহফিলে আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবো, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে অতি শিগগির মুক্ত করেন। : মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে নতুন করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু হয়েছে। ভালো কথা। আমরা অবশ্যই চাই যে, মাদকমুক্ত হোক, আমরা অবশ্যই চাই যে, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক, এই মাদক নির্মূল করা হোক। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বিনা বিচারে মানুষকে হত্যা করা হবে। : ক্ষমতাসীন দলের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মাদক অভিযান হচ্ছে ভালো কথা। সবার আগে নিজের ঘরের মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করুন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আপনাদের কক্সবাজারের টেকনাফের এমপি (আবদুর রহমান বদি) তাকে তো জামিন দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি মহানন্দে এই ব্যবসা শুরু করেছেন। একজন দুইজন নয় অসংখ্য। প্রায় প্রত্যেকটি জায়গায় তাদেরকেই আজকে আপনারা (সরকার) ছেড়ে দিয়েছেন, যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। : সম্প্রতি ক্রসফায়ারে হত্যাকান্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ৬টি জেলায় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। আজকে গোটা দেশে এই ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার নামে বহু বিরোধী পক্ষকে হত্যা করা হয়েছিল। আপনারা দেখেছেন কীভাবে গুম করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, চৌধুরী আলমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৫-৬ বছর পার হয়ে গেছেÑ এ রকম অসংখ্যক মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। : দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতে দুর্নীতি, মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট, শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম তুলে ধরে এর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান তিনি। আজকে যদি আমরা এই দানবীয় শক্তিকে সরাতে না পারি তাহলে আমাদের দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে। : খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ইফতারে জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকীব, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এমদাদুল হক চৌধুরী, শামসুদ্দিন পারভেজ, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, মুসলিম লীগের মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শেখ মুজিবর রহমান, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা জাফরুল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। : এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার, সাংবাদিক মহিউদ্দিন আলমগীর, মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল হাই শিকদার, অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাদল, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক মোজাহিদুল ইসলাম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি বাছির জামাল ইফতারে অংশ নেন। খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা শাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, অধ্যাপক মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, মুহাম্মদ মুনতাসীর আলীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইফতারে অংশ নেন। : ইফতারের আগে কারাবন্দি জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং খেলাফত মজলিশের অসুস্থ আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকের আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
