বিশেষ সংবাদদাতা : দৈনিকভিত্তিক একজন টাইপিস্ট এখন বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরীটি (সিএএবি)’র সহকারি পরিচালক ( এডি)। তিনি একজন মেট্রিক পাস। চাকরি জীবনে তিনি অদক্ষ হলেও ৬টি প্রমোশন বাগিয়ে নিয়েছেন। তার পরে চাকরিতে যোগদান করেও তার সহকর্মী এলপিআরে গেলেও তিনি এখনও দিব্যি চাকরি করছেন। তার নাম হচ্ছে রফিকুল ইসলাম। বাড়ি কুমিল্লা। সিভিল এভিয়েশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হারুনর রশিদ ভুইয়ার কাছের লোক হিসেবে তার পিএ হিসেবে দীর্ঘদিন বহাল থাকার পর তাকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ পদে থাকার সুবাধে তিনি সিভিল এভিয়েশনে ঠিকাদারি কাজের নতুন লাইসেন্স, নবায়ন করার নামে ঠিকাদারদের অনেকটা জিম্মি করে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ঠিকাদাররা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এডি পদে পদোন্নতি পাওয়া রফিকুল ইসলাম সত্তুর দশকে একজন মাস্টাররুল টাইপিস্ট পদে সিভিল এভিয়েশনে যোগদান করেন। তখন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল মেট্রিক পাস। এখনও তিনি মেট্রিক পাসই আছেন। তারপরও তাকে সহকারি পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। চাকরি জীবনে রফিকুল ইসলাম দৈনিক ভিত্তিক টাইপিস্ট হিসেবে সিএএবিতে সত্তর দশকে যোগদান করেন। দৈনিক ভিত্তিক টাইপিস্ট পদ থেকে পদোন্নতি দিয়ে তাকে স্ট্যানো টাইপিস্ট করা হয়। এরপর স্টোনো টাইপিস্ট থেকে পদোন্নতি দিয়ে স্টোনোগ্রফার, তাকে সিলেকশন গ্রেডে স্টোনো গ্রাফার করা হয়। এরপর তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) করা হয়। এ পদে চাকরি করার পর তাকে সহকারি পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে রফিকুল ইসলাম সিভিল এভিয়েশনের প্রশাসন বিভাগে সহকারি পরিচালক হিসেবে কর্মরত।
সূত্র জানায়, একজন মেট্রিক পাস সনদধারি হয়েও চাকরি জবিনে ৬টি ধাপ অতিক্রম করে তিনি এডি বা সহকারি পরিচালক পদ পর্যন্ত এসেছেন।
সূত্র জানায়, সহকারি পরিচালক পদটি চাকরি জীবনে ভাইটাল পদ। এ পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রীধারি হতে হয়। কিন্ত রফিকুল ইসলাম একজন মেট্রিক পাস হলেও তাকে সিএএবি কর্তৃপক্ষ কিভাবে সহকারি পরিচালক পদে পদোন্নতি দিল-তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, এডি রফিকুল ইসলামকে প্রশাসন দপ্তরের সেকেন্ড-ইন কমান্ড উপপরিচালক (ডিডি) নূরুল ইসলাম আগলে রেখেছেন। তার রুমে ডেকে নিয়ে তাকে (রফিক) কাজ শিখাচ্ছেন। কিন্ত বাধ সাধছেন সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব, সিভিল এভিয়েশনে সদস্য (প্রশাসন)।্ তিনি সেই মেট্রিক পাস এডিকে তার অদক্ষতার জন্য অর্থাৎ এডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ করতে না পারার কারনে ভৎর্সনা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন কে এই অদক্ষ লোককে এডি করলো? যে ইংরেজিতে একটি চিঠি ড্রাফট করতে জানেন না তাকে এডি বানালো কে? তার আবার ইন্টারভিউ নিতে হবে। না হলে তাকে পদাবনতি করতে হবে। এরপর থেকে বিষয়টি ম্যানেজ হয়ে গেছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সিএিএবির সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফারুক হোসেন এই রফিকুল ইসলামকে তার চাকরি জীবনে এক সময় আগলে রেখেছেন।এরপর প্রধান প্রকৌশলী হারুনর রশিদ তাকে আগলে রেনখেছেন। আর এখন আগলে রেখেছেন ডিডি নূরুল ইসলাম।
এডি রফিকুল ইসলাম এডির চেয়ারে বসে বিভিন্ন ফাইল আটকিয়ে ঘুষ নিয়ে থাকেন, ঘুষ ছাড়া কোন ফাইল তিনি ছাড়েন না। কেরানি পদ থেকেই নাকি তিনি ঘুষ নেয়ার বিষয়টি প্র্রাকটিস করে ফেলেছেন। এ ছাড়া সিএএবির কোন কর্মকর্তার দুদক বা মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের জন্য কোন দাপ্তরিক চিঠি আসলে- সেই চিঠি পাঠ করে এডি রফিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং ফাইল আটকে রেখে সুবিধা হাতিয়ে নেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে। এক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্বে তদন্তের জন্য মন্ত্রণলয়ের দাপ্তরিক চিঠি চেয়ারম্যান দপ্তর থেকে নেমে আসার পরও এডি রফিক তা ধরে রেখেছেন বলেও সূত্রে জানা গেছে।
সিভিল এভিয়েশনের এলপিআওে যাওয়া এক কর্মচারি জানান, রফিকুল ইসলামকে আমি ১৯৭৮ সালে সিএএবিতে যোগদানের সময় একজন দৈনিক ভিত্তিক টাইপিস্ট হিসেবে পাই। আমি ২০১৭ সালে এলপিআরে আসলেও রফিকুল ইসলাম এখনও চাকরি করছেন। তার নাকি ২০১৯ সাল নাগাদ চাকরি আছে।
এ ব্যাপারে ডিডি নুরুল ইসলাম আলপচারিতায় জানান, এডি রফিক মেট্রিক পাস হলেও কাজে আন্তরিক, কাজ বুঝার চেষ্টা করেন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
