একুশে বার্তা ডেক্স : মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশীদের বৈধ হতে (রি-হিয়ারিং প্রোগ্রাম) দ্বিতীয় দফা বেঁধে দেয়া সময়ও গত ৩০ আগস্ট শেষ হয়েছে। আর এ সময়ের মধ্যে অবৈধদের স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করতে দেশটির সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল। তার পরও যারা সুযোগ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই ৩১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগের সাঁড়াশি ধরপাকড় অভিযান।
অভিযান শুরুর পর দুই দিনে রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য প্রদেশে অভিযানে কী পরিমাণ বাংলাদেশীসহ বিদেশী ধরা পড়েছে সেই হিসাব জানা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসি নেয়ার গডফাদার বলে খ্যাত আমিন ও তার শিষ্য তুহিন সিদ্দিকী অমি এখনও ধরাছোয়ার বাইরে রয়ে গেছে। অমি বাংলাদেশে চলে আসলেও আমিন এখনও মালয়েশিয়ায় বসে কলকাঠি নাড়ছে। মালয়েশিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিবের তদন্ত প্রতিবেদনেও গডফাদার আমিনের নাম ওঠে এসেছে। পুরো দুর্নীতির সাথে এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমিন জড়িত বলে স্বরাষ্ট্র সচিবের তদন্তে ধরা পড়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, এই আমিনের কথিত শিষ্য বাংলাদেশের তুহিন সিদ্দিকী অমি। আর এ সুবাধে অমির ৪টি রিক্রুটিং এজন্সীর মাধ্যমে অবৈধ প্রক্রিয়ায় কয়েক শত বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়ায় পাঠায়, ৪৪ হাজার টাকার বদলে জনপ্রতি ৪/৫ লাখ টাকাসহ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। মালয়েশিয়া যেতে না পেরে প্রতারনার শিকার শত শত লোক অমির আশকোনা আবাসিক এলাকায় রাজউককে ম্যানেজ করে গড়ে তোলা বিএসএম, সিংগাপুর ট্রেনিং সেন্টারে প্রতিদিন ভিড় করছে। কিন্ত প্রতারিত লোকদের অমির পেটুয়া বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনিভাবে ৩৫ লাখ টাকার প্রতারনার শিকার গাজিপুরের শ্রীপুরের স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বদরুল আলম ভুইয়া গত রোজায় টাকা চাইতে আসলে তাকে জামাই আদর করে ইফতার খাইয়ে রাতের আধারে বস্তাবন্দী করে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের গাজিপুরের এক ডোবায় ফেলে দেয়। তিনদিন পর স্থানীয় লোকের সহায়তায় পুলিশ তাকে জীবিত উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বদরুল আলমের ছেলে জাহাংগীর আলম ভুইয়া শ্রীপুর থানায় মামলা করতে গেলে সাবেক গাজিপুরের এসপি হারুনের প্রভাবে পুলিশ মামলা পর্যন্ত নেয়নি। ঘটনা সমস্ত জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রকাশ করে।
সূত্র জানায়, তুহিন সিদ্দিকী অমির মামা আরিফুলের নামে এইচএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানসহ বেনামে গড়ে ওঠা ৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতো অমি সিদ্দিকী।শাহজালাল বিমানবন্দরে সহযোগিতা করে সিএএবির মিঠু নামের এক সিকিউরিটি গার্ড।
সূত্র জানায়,তুহিন সিদ্দিকী অমির সারাদেশে ২ শতাধিক ব্রোকার/ দালাল রয়েছে। তাদের জন্য তার আশকোনাস্থ সিংগাপুর ট্রেনিং সেন্টারে আলাদা আলাদা অফিসরুম করে দেয়া হয়েছে। এই ব্রোকারদের মাধ্যমে আদমপ্রতি ৪/৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এর বাইরেও মসজিদ-মাদ্রাসার নামে আদমপ্রতি জোর করে ২ হাজার টাকা এবং অমির নিজস্ব মেডিকেল সেন্ট্রার জান্নাহ মেডিকেলে মেডিকেল করার জন্য ৭ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছ- যা, বাইরে অন্য যে কোন মেডিকেল সেন্ট্রারে মাত্র ১ থেকে ২ হাজার টাকায় সম্পন্ন করা যায়।
সূত্র জানায়, এভাবে আদম ব্যবসা করে চুনোপুটি অমি সিদ্দিকী আজ কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। নামে-বেনামে রাজধানি ঢাকাসহ তার নিজ এলাকা বাসাইলের গোল্লাহে শত শত বিঘা সম্পতির মালিক হয়েছেন। এলাকায় মসজিদ-মাদ্রাসা, হোটেল আবাসিক হোটেল ,মার্কেট, পেট্রল পাম্প গড়ে তুলেছেন। রাজধানির আশকোনা, গাওয়াইর, প্রেমবাগান, হলান, উত্তরখান হেলাল মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় রেস্টহাউজ, দোবাদিয়াসহ সবমিলে প্রায় ১১ বিঘা সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।দুদক তদন্তে কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিন তার ( অমির ) বন্ধু হওয়ার সুবাধে মাসের পর মাস অমি মালয়েশিয়ায় পড়ে থাক, মালয়েশিয়া যেন অমির সেকেন্ড হোম্, সে সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়েছে কিনা তাও তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।মালয়েশিয়ার আদলে অমি সিদ্দিকী বাংলাদেশের উত্তরখানে কয়েকবিঘা জমির ওপর তার বন্ধুর সৌজন্যে সুইমিংপুলসহ এক রিসোর্স সেন্ট্রার কাম রেস্ট হাউজ গড়ে তুলেছেন। জনশ্রুতি রয়েছে মলেয়েশিয়ার সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অমি সিদ্দিকী শত কোটি টাকা দিয়ে সিন্ডিকেট করে আদম ব্যবসা পরিচালনা করতো। কিন্ত এবার এই সিন্ডিকেট ব্যবসায় ধস নেমেছে।
সুত্র জানায়, আদম ও হুন্ডি পাচার করে তুহিন সিদ্দিকী অমি এখন কয়েকশত হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে দুদক জানতে পেরেছে। দুদক কয়েকটি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করতে চিঠি দিয়েছে বলে সূত্র জানায়। সুচতুর অমির সব সম্পদ নামে-বেনামে। তাই দুদক তাকে সাড়াশি অভিযানে ধরতে পারছে না।
সূত্রমতে অমি বিএনপির ডোনার । বিএনপি নেতাদের সাথে ফটোসেশন করা হয়েছে। ফটোসেশনে দেখা যায় দক্ষিণখান থানার বিএনপির সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের সাথে তার ছবি রয়েছে। বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অমি সিদ্দিকী টাকা ও লোক পাঠিয়ে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানান। বিএনপির লন্ডন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সাথে তুহিন সিদ্দিকী অমির জানাশোনা রয়েছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। তবে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।এসব বিষয়ে জানতে অমি সিদ্দিকীর আশকোনার সিংগাপুর ট্রেনিং সেন্ট্রারের অফিসে গিয়েও তার সাক্ষাত পাওয়া যায়নি।
নোট : সরকার বিরোধি আন্দোলনে হজ্ব ক্যাম্পে তান্ডব, হুন্ডিসহ ধরাপড়া, ওসি আরজুর ভূমিকা, ডিবির অভিযান, তালিকা আরো ইত্যাকার বিষয়ে প্রতিবেদন ধাপে ধাপে চলবে
