এবার গোয়েন্দা নজরদারিতে ডিসি-ইউএন’রা : কর্মমূল্যায়ন হবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে

নিউজ ডেক্স : সম্প্রতি সরকারী কিছু কর্মকর্তার কর্মকান্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরেছে সরকার।ফলে এখন থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মূলত ডিসি-ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনের প্রত্যেক কর্মকর্তার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এজন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগের কর্মমূল্যায়ন ও অফিস ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন কর্মমূল্যায়নের জন্য পৃথক পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সভার কার্যবিবরণী থেকে এই তথ্য জানা গেছে।সমকাল

সম্প্রতি জামালপুরের বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির দুটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ডিসির অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় পুরো প্রশাসনতকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।উপরের কর্মকর্তাদের চারিত্রিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে সামনে আসে।এছাড়াও ক্ষমতা অপব্যাবহার, দ্বায়িত্ব পালনে অবহেলা , জনগনকে সঠিক সেবা প্রদান না করা, ইত্যাদি বিষয়ে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে পরলে জনগনের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন, তবে ঘটনাটি প্রশাসনযন্ত্রকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ডিসি, ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ মাঠ প্রশাসনের সার্বিক কর্মকাণ্ড শতভাগ কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে চায়। এজন্য কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্তরে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

 

আরো পরুন : নিজের থেকে ৫৭ বছরের বড় বৃদ্ধাকে বিয়ে করলেন তরুণ যুবক

৩ সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকে মাঠ প্রশাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে যথাসময়ে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অফিসে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তদারকি নিশ্চিত করা, জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগের প্রত্যেক কর্মকর্তাকে প্রতি তিন মাসে একটি করে বছরে নূ্ন্যতম চারটি জেলা ও উপজেলা পরিদর্শন করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) আ. গাফ্‌ফার খান  বলেন, ডিসি-ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গ্রুপে তদারকি করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নজরদারি করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের ধাপে ধাপে বিভাজন করে দেয়া হচ্ছে। এতে ভালো ফিডব্যাকও পাওয়া যাচ্ছে। অনেক পরিবর্তন এসেছে। কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও বেড়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রতিবেদন অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া হবে। কারণ, কোনো কাজই ফেলে দেয়ার নয়। গণমাধ্যমে কোনো জেলার বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ডিসির কাছে তার সরকারি মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সম্পাদনা: খালিদ আহমেদ