এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের প্রস্তাব : যশোহর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের অনুরোধ: বলিরপাঠা নিরাপত্তা সুপার নাজমুলকে স্ট্যান্ডরিলিজ, আরো ১১ জন বদলি : সদস্য নিরাপত্তাও বদলি!

বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনে সমান্তরালে সিভিল প্রশাসন এবং এভিয়েশন প্রশাসনের খেল শুরু হয়েছে। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জনবল কম থাকা সত্বেও , শাহজালাল বিমানবন্দরকে অনেকটা অরক্ষিত করে শুধুমাত্র স্বার্থ হাসিলের জন্য, অথবা পছন্দের লোককে ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আনার জন্য সিএএবির নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগকে টার্গেট করে নিরাপত্তা সুপার, নিরাপত্তারক্ষীদের তালিকা করে করে বদলি অথবা পদায়ন করা হচ্ছে। এই তালিকা করা হচ্ছে সদর দপ্তরের এফসেক সেল থেকে, ওখানে বসে থাকা একজন এডি এবং একজন নিরাপত্তা অফিসার যোগসাজশে বেছে বেছে টার্গট করে বদলি /পদায়ন বাণিজ্য করার অভিযোগ ওঠেছে। এর সাথে ডিডি প্রশাসন যুক্ত হচ্ছেন। প্রশাসনিক চিঠি বানাচ্ছেন এডি প্রশাসন। এভাবেই চলছে বদলি বাণিজ্য। গত আগস্টে এভাবে দুইদফা বদলি/ পদায়ন বা সংযুক্তির শিকার হয়েছেন ৩ জন নিরাপত্তা সুপার এবং ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী। কলোনাকালিন সময়ে বদলি/ পদায়ন বাণিজ্য মানবিক দিক থেকে বিবেচ্য হলেও- সিএএবিতে তাই চলছে। শুধু তাই নয়- ওপর লেভেলেও বদলি বন্ধ নেই। যে সদস্য নিরাপত্তা মানবিক ও অসুস্থতার জন্য একজন নিরাপত্তা সুপারের বদলি বাতিলের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই সদস্য নিরাপত্তাকেই বদলি হয়ে সিএএবি ত্যাগ করতে হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কলকাঠি নেড়েছেন ডিডি প্রশাসন। তার প্রশাসনিক ক্ষমতার জোরে এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের এডিকে ডেকে নিয়ে দ্রুত প্রস্তাব এবং যশোহর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের অনুরোধপত্র ফাইলে সংযোজন করে উপস্থাপনের জন্য। ডিডি প্রশাসনের দপ্তরে নিরাপত্তা সুপার নাজমুলের ফাইল উপস্থাপিত হলে তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ চিঠি জারি করা হয়। কাজ হয়ে যায় পানির মতো।
নিরাপত্তা সুপার নাজমুলকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর যশোহর বিমানবন্দরে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে প্রশাসনিক চিঠিতে বলা হয়েছে, এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের বদলির প্রস্তাব এবং যশোহর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের অনুরোধ।
খোজখবর নিয়ে জানা যায়, সিএএবিতে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি দিব্যি চাকরি করলেও কাউকে কাউকে বদলি করা হয় না। এর মধ্যে সদস্য অর্থ’র পিএ হাফিজ মোল্লা- যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হয়েছে সিএএবির একজন ডিডিকে প্রধান করে। তার নাম সবার মুখে মুখে। আবার ডিডি প্রশাসনের কথিত ভাগিনা হাকিম স্বর্নসহ গ্রেফতার হয়ে জেল খাটলেও তাকে চাকরিচ্যুত্য না করে ডিডির পাশে বসানো হয়। আবার ডিডি প্রশাসনের পছন্দের কোন কর্মচারিকে স্ট্যান্ডরিলিজ করলেও ডিডি প্রশাসনের তদবির তা পার পেয়ে যায়।
ডিডি প্রশাসন সদর দপ্তরে ব্লাকবল পোস্টে বসে স্বেচ্ছাচার হয়ে ওঠেছেন বলে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। ডিডি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে গোয়েন্দা রিপোর্ট গায়েব করার কথা সিএএবিতে চাউর হয়ে গেছে। ডিডি প্রশাসনের নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি, পোস্টিং, পদায়ন , সংযুক্তি, টেন্ডার এবং হজ¦ বাণিজ্যের কথাও শোনা যায়। আর এসব বাণিজ্যের ফসল কাওলার স্টাফ কোয়র্টারের কবরস্তানের পাশে ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবন হচ্ছে বলে একজন প্রকৌশলীর আলাপচারিতায় জানা যায়।